ব্লুকচেইন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে ইজেনারেশন

রবিবার, ১৪ জানুয়ারি ২০১৮

ইজেনারেশন লিমিটেড বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ আইটি কনসাল্টিং এবং সফটওয়্যার কোম্পানি, ‘বৈশ্বিক অর্থায়ন ব্যবস্থায় ব্লুকচেইন-বাংলাদেশের করণীয়’ শীর্ষক ক্রাউডফান্ডিং এবং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে একটি গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে। সম্প্রতি ইজেনারেশন লি. দুবাইভিত্তিক দ্রুত বিকাশমান ফিনটেক কোম্পানি স্মার্টক্রাউড-এর জন্য ব্লুকচেইন ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ভিত্তিক ডিজিটাল বিনিয়োগ প্লাটফর্ম তৈরি করছে। গত ১০ জানুয়ারি বুধবার রাজধানীর কাওরান বাজারের বিডিবিএল ভবনে অবস্থিত বেসিস মিলনায়তনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ইজেনারেশন গ্রুপের চেয়ারম্যান শামীম আহসান। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। বাংলাদেশে ব্লুকচেইনের সম্ভাবনা নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইজেনারেশন গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান এস এম আশরাফুল ইসলাম এবং সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তিবিদ, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও ইউপ্লাস ইনকর্পোরেশন-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী শওকত শামিম। এ বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব শ্যামসুন্দর শিকদার, সিটিও ফোরামের প্রেসিডেন্ট তপন কান্তি সরকার, বাংলাদেশ কল সেন্টার এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ওয়াহিদুর রহমান, বাংলাদেশের ব্যাংকের পরিচালক ড. জামাল উদ্দিন প্রমুখ।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, ইজেনারেশন দুবাই এ ব্লুকচেইন সলুশন দিচ্ছে যা বহির্বিশ্বকে অবহিত করে যে বাংলাদেশ ব্লুকচেইনের মতো সর্বাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে সক্ষম। আমরা আশা করি ইজেনারেশনের মতো বাংলাদেশি অন্যান্য কোম্পানিগুলোও দেশের নাম উজ্জ্বল করতে ভূমিকা রাখবে। জনগণের জন্য উপকারী এমন যে কোনো প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সরকার সম্পূর্ণরূপে সমর্থন করবে। এখানে উপস্থিত সবাইকে আমি অনুরোধ করব, এই প্রযুক্তি থেকে বাংলাদেশ কীভাবে উপকৃত হতে পারে এটি নিয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা করুন যেন সরকার এটিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

শামীম আহসান বলেন, ‘গণমাধ্যমে ইন্টারনেট যেমন ভূমিকা রেখেছে, ব্যাংকিং খাতে ব্লুকচেইনও তেমনি ভূমিকা রাখবে। স্বাস্থ্যসেবা, ব্যাংকিং, রিয়েল স্টেট এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যথেষ্ট পরিবর্তন নিয়ে এসেছে এই প্রযুক্তি। যেহেতু ক্রিপ্টোকারেন্সির সচেতনতা ছড়িয়ে যাচ্ছে এবং ছোট পরিসরে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে, এটা মনে করা হয় যে, ব্লুকচেইন প্রযুক্তি বিনিয়োগশিল্পকে হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে। বর্তমানে গতানুগতিক ও বিকেন্দ্রীভূত প্রতিষ্ঠানগুলো ইনিশিয়াল কয়েন অফারিং (আইসিও) দ্বারা ব্যবসায় বিনিয়োগের তহবিল সংগ্রহ করছে।’

আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ২০১৭ সালে আমরা যে প্রযুক্তির পরিবেশে বসবাস করেছি, ২০১৮ সালে তা অনেকটাই বদলে যাবে। ডাটার ওপেন অ্যাক্সেস-এর কারণে কপিরাইট সংরক্ষণ একটি বিশাল চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবে। কপিরাইট নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে ব্লুকচেইন একটি বড় ভূমিকা পালন করবে। আমাদের দেশে ভূমি রেকর্ড ব্যবস্থাপনায় ব্লুকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব আমাদের জীবনে আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসবে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পারলে আমরা আবার বিশ্ব ময়দানে পিছিয়ে যাব। ইউপ্লাস ইনকর্পোরেশন-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী শওকত শামিম বলেন, বৈশ্বিক অর্থায়ন ব্যবস্থায় ইন্টারনেটের পর ব্লুকচেইন-ই বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশেরও বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই বিপ্লবে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে। হ ডটনেট ডেস্ক

বিশ্বব্যাপী টেলিযোগাযোগ সেবায় ব্যয় বাড়বে

আইডিসির তথ্যমতে, টেলিযোগাযোগ সেবা খাতের গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষঙ্গ মোবাইল ডিভাইস। গত বছর টেলিযোগাযোগ সেবা বাবদ ব্যয়ের ৫২ শতাংশ হয়েছে মোবাইল ডিভাইসকেন্দ্রিক। ২০১৭-২১ সাল পর্যন্ত টেলিযোগাযোগ সেবা বাবদ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ২ শতাংশ হারে বার্ষিক প্রবৃদ্ধির আশা করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী মোবাইল ডাটার চাহিদা বৃদ্ধি এবং মেশিন টু মেশিন অ্যাপ্লিকেশনের বাড়তি চাহিদার কারণে এ প্রবৃদ্ধির আশা করা হচ্ছে। তবে এ সময়ে মোবাইল ভয়েস এবং মেসেজিং সেবা বাবদ ব্যয় কমার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। গত বছর সামগ্রিকভাবে টেলিযোগাযোগ সেবা খাতে ব্যয়ের ২১ শতাংশ হয়েছে ফিক্সড ডাটা সেবা বাবদ। উচ্চ ব্যান্ডউইডথ ডাটা সেবার চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এ ব্যয় বার্ষিক ৪ শতাংশ করে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। গত বছর বৈশ্বিক টেলিযোগাযোগ ও পে টিভি সেবা বাবদ ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলার,

যা ২০১৬ সালের তুলনায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। এছাড়া চলতি সালে টেলিযোগাযোগ ও পে টিভি সেবা বাবদ ব্যয় আরো ২ শতাংশ বাড়বে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশনের (আইডিসি) এক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। খবর বিজনেস ওয়্যার।

পে টিভি সেবা বাজারের আওতায় রয়েছে- কেবল, স্যাটেলাইট, ইন্টারনেট প্রোটোকল (আইপি) এবং ডিজিটাল টিভি সেবা। আগামী পাঁচ বছর এসব সেবা বাবদ ব্যয়ে খুব বেশি পরিবর্তন আসবে না বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমানে এ সেবাগুলোকে সেলফোন অপারেটর কোম্পানিগুলোর বহুমুখী ব্যবসার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করা হয়।

চলতি বছর বহুমুখী সেবা বাবদ ৯ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, যা চলতি বছর ৭ শতাংশ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে ফিক্সড ফভেস সেবা বাবদ ব্যয় বার্ষিক ৬ শতাংশ হারে বাড়বে। আইডিসির বৈশ্বিক টেলিযোগাযোগ রিসার্চ বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট কোর্টনি মুনরো বলেন, বৈশ্বিক টেলিযোগাযোগ বাজারের প্রবৃদ্ধিতে ক্রমান্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে আইপি এবং উচ্চ ব্যান্ডউইডথ সেবা।

যদিও বিশ্বের উন্নত ও উন্নয়নশীল টেলিযোগাযোগ বাজারগুলোতে মোবাইল ডিভাইসকেন্দ্রিক সেবা আধিপত্য বিস্তার করে আছে এবং ভবিষ্যতেও সামগ্রিক টেলিযোগাযোগ সেবা খাতে মোবাইল ডিভাইসকেন্দ্রিক সেবার চাহিদা বেশি থাকবে। থ্রিজি, ফোরজি ও ফাইভজির পর শিগগিরই ব্যক্তিগত ও ব্যবসায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে ফাইভজি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফাইভজির বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হলে মোবাইল ডিভাইসকেন্দ্রিক সেবার চাহিদা আরো একধাপ বাড়বে। কারণ তখন সেলফোন অপারেটর কোম্পানিগুলো আরো দ্রুতগতির ডাটা সেবা সরবরাহের সুবিধা পাবে। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছর থেকেই স্বল্প পরিসরে ফাইভজির বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হবে। হ ডটনেট ডেস্ক

ডট নেট'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj