গিয়ার বক্সের তেল অপসারণ, লিকেজ এবং সাবধানতা

রবিবার, ১৪ জানুয়ারি ২০১৮

একটি গিয়ার বক্স সম্পূর্ণ আলাদা ধাতু দিয়ে তৈরি করা হয়। দুটি ধাতুর মধ্যে যখন ঘর্ষণ সৃষ্টি হয় ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সৃষ্ট ক্ষতি প্রতিরোধ করার জন্য গিয়ার বক্সে পিচ্ছিল পদার্থ যেমন লুব্রিকেন্ট বা তেল ব্যবহার করা হয়। ইঞ্জিনের তেলের মতোই গিয়ার বক্সের তেলেও উচ্চ তাপমাত্রা প্রতিরোধের সক্ষমতা থাকে।

প্রতি ৫০ হাজার কিলোমিটার পর পর গিয়ার বক্সের তেল পরিবর্তন করা খুবই ভালো। এ ক্ষেত্রে যা করণীয়- প্রথমেই নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে যে গাড়িটি পুরোপুরি সমতল স্থানে আছে কিনা। এতে গিয়ার বক্সের তেলের পরিমাণ বুঝতে সহজ হবে। অনেক গাড়িতে গিয়ার বক্সের পাশে নাট থাকে যা তেলের পরিমাপ নির্দেশক হিসেবে কাজ করে। আবার কিছু গাড়িতে তেল মাপার জন্য মাপকাঠি থাকে। যদি দেখা যায় যে তেলের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে কমে যাচ্ছে, এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো কাজটি হবে সঙ্গে সঙ্গে গিয়ার বক্সে কোনো ফাটল বা ছিদ্র আছে কিনা তা পরীক্ষা করা। মাপকাঠির দাগ অনুযায়ী দেখে নিতে হবে তেলের পরিমাণ কতটুকু। মাপকাঠিটি আস্তে আস্তে করে সরিয়ে নিয়ে তা মুছে তা পুনরায় প্রতিস্থাপন করতে হবে। একটি কথা সবসময় মনে রাখতে হবে যে, গিয়ার বক্সে অতিরিক্ত তেল নেয়া উচিত নয়।

গিয়ার বক্সের তেল অপসারণ : প্রথমে গাড়িটিকে কয়েক ঘণ্টা সমতল স্থানে স্থির করে রাখতে হবে। যেন তেল গিয়ার বক্সের তলায় অবস্থান করে, সাবধানে জ্যাকটি খুলে আক্সেল স্থির রাখতে হবে যেন গাড়ি সামনে পেছনে সাপোর্ট পায়। গিয়ার বক্সের নিচে তেল অপসারণের জন্য স্ক্রু থাকে। বিভিন্ন গাড়ির বিভিন্ন রকম স্ক্রু। এর জন্য হয়তো রেঞ্চ বা এলেন কি বা চার কোনা স্ক্রু ডাইভার প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়াও গাড়ির সামনের চাকাও খোলার দরকার হতে পারে। স্ক্রু খোলার আগে গিয়ার বক্সের নিচে একটি পাত্র রাখতে হবে। ড্রেইন নাট যখন সম্পূর্ণ খুলে যাবে তেল অপসারিত হতে শুরু করবে। এ সময় ফিলার নাটটিও খুলে দিলে ভালো হয়, কারণ বাতাস চলাচলের ফলে তেল পুরোপুরিভাবে অপসারিত হবে।

গিয়ার বক্সের তেল সম্পূর্ণ অপসারণ করা হলে ড্রেইন নাটটি আবার শক্ত করে লাগিয়ে দিতে হবে। এবার গিয়ার বক্সের ফিলার নাট পর্যন্ত তেল রিফিল করে নিয়ে ফিলার প্লাগটিও শক্ত করে বন্ধ করে এর চারপাশ পরিষ্কার করে দিতে হবে। তবে সবার আগে গিয়ার বক্সের তেল অপসারণ ও পুনরায় ভর্তি সম্পর্কিত ম্যানুয়াল পড়ে নিলে সবচেয়ে বেশি ভালো হয়।

উপরন্তু, গিয়ার বক্সের ফুটো বা ছিদ্র সম্পর্কে সাবধান থাকতে হবে কারণ এগুলো বক্সের চারপাশে থাকতে পারে। এই ধরনের লিকেজ দূর করতে বিশেষ ধরনের রাবার জাতীয় আইকা বা আঠা ব্যবহার করা হয়। তবে প্রতিষেধকের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম। নতুন গিয়ার বক্স ফিট করে নিলে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।

ফ্যাশন (ট্যাবলয়েড)'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj