শিরোপার স্বপ্ন দেখছেন হাথুরু-স্ট্রিক

রবিবার, ১৪ জানুয়ারি ২০১৮

আপন আকাশ : আগামীকাল বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠছে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের। দুই বছর আগে যে তিন ব্যক্তি টাইগারদের পক্ষে রণপরিকল্পনা সাজাতেন সেই তিনজন ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে একে অপরের প্রতিদ্ব›দ্বী।

বাংলাদেশের বোলিং কোচ ছিলেন হিথ স্ট্রিক। টাইগারদের সদ্য বিদায় নেয়া প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের সঙ্গেই কাজ করেছেন বাংলাদেশে। এবার হাথুরুসিংহে শ্রীলঙ্কার প্রধান কোচ আর হিথ স্ট্রিক জিম্বাবুয়ের কোচ হয়ে বাংলাদেশে এসেছেন ত্রিদেশীয় সিরিজে খেলতে। বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচের পদটা শূন্য থাকায়, টিম ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন খালেদ মাহমুদ সুজন। টাইগারদের ম্যানেজার হিসেবে যাকে অনেক দিন পেয়েছেন হাথুরুসিংহে এবং হিথ স্ট্রিক। এই তিন সেয়ানের এক সেয়ানের শিষ্যদের হাতে উঠবে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ট্রফি।

ত্রিদেশীয় ও দ্বিপক্ষীয় সিরিজে অংশ নিতে গতকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে চন্ডিকা হাথুরুসিংহের শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল। এর আগে শুক্রবার ঢাকায় উপস্থিত হয়েছে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের পর বাংলাদেশের কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান হাথুরুসিংহে। তার কিছু দিন পর তিনি দায়িত্ব নেন শ্রীলঙ্কা দলের। তার অধীনে ত্রিদেশীয় সিরিজের পর বাংলাদেশের সঙ্গে দুটি টেস্ট ও দুটি টি-টোয়েন্টি খেলবে শ্রীলঙ্কা।

বাংলাদেশ সফরের জন্য ভালো প্রস্তুতি নিয়েছে হাথুরুসিংহের দল। ওয়ানডে নেতৃত্বেও এসেছে পরিবর্তন। কিছু দিন আগে উপুল থারাঙ্গাকে সরিয়ে ওয়ানডে দলের অধিনায়ক করা হয়েছিল থিসারা পেরেরাকে। তবে হাথুরুসিংহের দাবি মেনে মাস ছয়েক আগে পদত্যাগ করা অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজকে আবার অধিনায়কের দায়িত্ব দিয়েছে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড। দীর্ঘদিন টাইগারদের সঙ্গে থাকায় হিথ স্ট্রিক এবং হাথুরুসিংহের কাছে ঢাকা সেকেন্ড হোমের মতো। মাশরাফিদের অনেক দুর্বলতার খবর জানেন এ দুজন। তাই ত্রিদেশীয় সিরিজে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছেন টাইগারদের সাবেক দুই কোচ। ২০১৪ সালের মে মাসে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের বোলিং কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন জিম্বাবুয়ের সাবেক অধিনায়ক ও পেসার হিথ স্ট্রিক।

২০১৬ সালে লাল-সবুজের ক্রিকেটের সঙ্গে সব রকম হিসাব নিকাশ চুকিয়ে ২০১৬ সালে যোগ দেন বেঙ্গালুরুতে অবস্থিত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের জাতীয় ক্রিকেট একাডেমিতে। সেই বছরের অক্টোবরেই জিম্বাবুয়ে জাতীয় ক্রিকেট দলের হেড কোচ হিসেবে যোগ দেন হিথ। মার্চে ভারতে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়েকে কোনো সফলতা এনে দিতে না পারায় ডেভ হোয়াটমোর বরখাস্ত হলে হেড কোচের পদটি শূন্য থাকে। পরবর্তীতে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড সেই শূন্যস্থানটি পূরণ করে হিথ স্ট্রিককে দিয়ে।

গতকাল শনিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে হিথ স্ট্রিক বাংলাদেশকে নিজের দ্বিতীয় বাড়িই বললেন। জিম্বাবুয়ের সাবেক অধিনায়ক বলেছেন, আবার এসে ভালো লাগছে। যেন এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়ি ফিরেছি। খুব বেশিদিন হয়নি, এখানে দুই বছর কাটিয়ে গিয়েছি। ফলে এখানে থাকার দিনগুলোর মতোই এখন মনে হচ্ছে।

জিম্বাবুয়ের হয়ে ৬৫ টেস্ট খেলা এই পেসার বলেছেন, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ভালো ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে চাই। আমি বাংলাদেশকে অনেক দিন ধরে দেখছি। মাশরাফি, মোস্তাফিজুর ও তাসকিনদের মতো এখানকার অনেকেই আমার ভালো বন্ধু। আমি এখানে কোচিংয়ে অনেক সময় কাটিয়েছি। আমি যাওয়ার পরও তারা কেমন পারফর্ম করেছে তা আমি দেখেছি।

বাংলাদেশে কোচিংয়ের সময় অনেকের সঙ্গেই কাজ করেছেন স্ট্রিক। শ্রীলঙ্কার বর্তমান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে মাত্র কিছুদিন আগেই বাংলাদেশের দায়িত্ব ছেড়েছেন। তিনিও এসেছেন শ্রীলঙ্কা দলের সঙ্গে। স্ট্রিকের মতে, বর্তমানে অনেক কোচই একটা দলে এক হয়ে কাজ করে, আবার প্রতিপক্ষও হয়ে যায়। চন্ডিকা (হাথুরুসিংহে) ও খালেদ সুজনের (খালেদ মাহমুদ সুজন) সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক হয়ে গিয়েছিল। আমি মনে করি এটা আমাদের সবার জন্য একটা ভালো চ্যালেঞ্জ হবে।

১৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ের মোকাবেলা করবে। ১৭ জানুয়ারি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে মিশন শুরু করবে শ্রীলঙ্কা। ১৯ জানুয়ারি হাথুরুর বর্তমান শিষ্যদের প্রতিপক্ষ মাশরাফিরা। ২১ জানুয়ারি তৃতীয় ম্যাচে আবার জিম্বাবুয়ের মোকাবেলা করবে লঙ্কানরা। ২৫ জানুয়ারি ফের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের শিরোপা নির্ধারণী বা ফাইনাল হবে ২৭ জানুয়ারি।

এরপর টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজে অংশ নিতে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা চলে যাবে চট্টগ্রামে। সেখানে দুই দিন অনুশীলন শেষে ৩১ জানুয়ারি থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দুদল খেলবে প্রথম টেস্ট।

তারপর ৫ ফেব্রুয়ারি দুদলই ঢাকায় ফিরবে। ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি অনুশীলন শেষে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি মিরপুরে দ্বিতীয় টেস্টে খেলবে দুদল।

১৫ ফেব্রুয়ারি মিরপুরে প্রথম টি-টোয়েন্টি খেলার পরদিন দুই দল চলে যাবে সিলেট। ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুশীলন শেষে ১৮ ফেব্রুয়ারি সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টির মধ্য দিয়ে এ সিরিজের সমাপ্তি ঘটবে।

খেলা-ধূলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj