বাস্তবে কার্যক্রমহীন এনজিও : দিনাজপুরে উন্নয়ন প্রকল্প দেখিয়ে অনুদান গ্রহণের অভিযোগ

রবিবার, ১৪ জানুয়ারি ২০১৮

দিনাজপুর প্রতিনিধি : জেলায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থিক উন্নয়নের প্রকল্প দেখিয়ে এক এনজিও অর্ধকোটি টাকার ঋণ ও অনুদান নিলেও তাদের নেই কোনো কার্যক্রম। অস্তিত্বহীন হতে বসেছে হায় হায় এনজিওটি।

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় বহুমুখী পল্লী উন্নয়ন সংস্থা নামক এক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রকল্প দেখিয়ে অর্ধকোটি টাকার ঋণ ও অনুদান নিলেও তাদের নেই কোনো কার্যক্রম। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান বলেন, বহুমুখী পল্লী উন্নয়ন সংস্থার ফুলবাড়ী রাজারামপুর অফিসের বাড়িটিতে এখন বসবাস করছেন নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম। ২০০৬ সালে ৩ বছরের জন্য সংস্থার নির্বাহী কমিটি অনুমোদন হলেও ২০০৯ সালের ২৫ জুলাই মাসে মেয়াদ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কমিটি গঠন করা হয়নি। সংস্থার ঋণ বিতরণের কাগজপত্র দেখতে চাইলে তা দেখাতে ব্যর্থ হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সংস্থার নামে ফুলবাড়ী পৌর এলাকার গৌরীপাড়া মৌজার ১২০/৪৫৭ নং দাগের লিজ নেয়া ৪ শতক জমির ওপর নির্মিত দ্বিতল বাড়িটি ২০১৬ সালের ২ অক্টোবর জয় চৌধুরী নামে একজনের কাছে বিক্রি করা হয়। উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯২ সালে রফিকুল ইসলাম নিজেকে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে ৪ শতক জমি লিজ নেন। অথচ রফিকুল ইসলাম একজন সাবেক বিডিআর সদস্য। পরিচয় গোপন করে লিজ গ্রহণ করায় ২০১০ সালের ২৭ আগস্ট লিজটি বাতিল করে উপজেলা ভূমি অফিস। অথচ নিজের জমির ওপর নির্মিত দ্বিতল বাড়িটি বন্ধক রেখে সংস্থার নামে অর্ধকোটি টাকার ঋণ গ্রহণ করেন রফিকুল ইসলাম। লিজ বাতিল হওয়ার পরেও বাড়িটি ১৪ লাখ টাকায় বিক্রি করেন।

এলাকাবাসী জানায়, রফিকুল ইসলাম এনজিওর নামে ফুলবাড়ী হেলথ কেয়ার নামে একটি ক্লিনিক খোলেন। ক্লিনিকটি স্বাস্থ্যসেবা মূলক প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। অপরদিকে ব্যাংকে বন্ধক রাখা জমি প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রি করায় বিপাকে পড়েছে জমির ক্রেতা। ১৪ লাখ টাকা দিয়ে জমি কিনে ৫০ লাখ টাকার দেনা এখন জমির গ্রাহকের মাথায়।

জমির ক্রেতা জয় চৌধুরী বলেন, বর্তমানে রাজারামপুর বিজিবি ক্যাম্প পাড়ায় বসবাসরত মো. রফিকুল ইসলাম ২০১৬ সালের ২ অক্টোবর তার কাছে ১৪ লাখ টাকায় পশ্চিম গৌরীপাড়া মৌজার বাড়িসহ ৪ শতক জমি বিক্রি করেন। ওই বাড়িতে ডক্টরস পয়েন্ট নামে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালু করেন। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সমাজকল্যাণ অধিদপ্তর থেকে চিঠি আসছে। ওই বাড়িটি বন্ধক রেখে বাড়ির আগের মালিক রফিকুল ইসলাম প্রায় ৫০ লাখ টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক ও সমাজ কল্যাণ থেকে গ্রহণ করেছে। ওই টাকা পরিশোধ না করা হলে তাকে ব্যাংকের কাছে বাড়ির দখল ছাড়তে হবে। এই কারণে বাড়িটির আগের মালিক রফিকুল ইসলামকে ব্যাংক ও সমাজ কল্যাণের ঋণ পরিশোধ করার কথা বললে রফিকুল ইসলাম তাকে হুমকি দিচ্ছে। রফিকুল ইসলাম বাড়ি বিক্রি ও বন্ধক রাখার কথা অস্বীকার করে বলেন, আমি মুক্তিযোদ্ধা না হলে সরকার কী দেখে জায়গা দিল।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj