দক্ষিণ চট্টগ্রামে শীতের সবজির দাম নাগালে, ক্রেতাদের স্বস্তি

রবিবার, ১৪ জানুয়ারি ২০১৮

এম নাজিম মাহমুদ, সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে : শীতে সবজি উৎপাদনের মৌসুম। সারা বছর সবজির দাম আকাশ ছোঁয়া থাকলেও প্রতি বছর শীতের শুরুতেই দাম কমে আসে। তবে এবার শীত মৌসুমে ব্যতিক্রম দেখা দিয়েছে। শীতে দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে কমেনি সবজির দাম। এতে নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছিল নি¤œআয়ের মানুষের জীবনযাত্রায়। দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপজেলাগুলোতে গত সপ্তাহ থেকে সবজির সরবরাহ বাড়ায় কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা দামও কমেছে। নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফেরায় ক্রেতাদের মুখেও ফিরেছে হাসি। সবজির পাশাপাশি চালের দামও কিছুটা কমেছে। তবে ঝাঁজ রয়েছে পেঁয়াজে। ক্রেতাদের নাগালের বাইরে রয়েছে পেঁয়াজের দাম। গত বছর দেশের উত্তর-দক্ষিণ অঞ্চলের অধিকাংশ জেলায় দফায় দফায় বন্যা হওয়ায় পানিতে সবজি ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় জুলাই মাসের আগে থেকে সারা দেশের মতো দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাজারগুলোতেও বেড়ে যায় সবজির দাম। উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে সবজি চড়া দামে বিক্রি হওয়ায় তখন থেকেই নি¤œবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের পক্ষে তা কেনা কঠিন হয়ে পড়েছিল। কেরানীহাট কাঁচাবাজারে আসা ক্রেতা মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, এবার সবজির বাজার সত্যিই ‘লাগামহীন’ ছিল। আর কখনো সবজির বাজার এমন চড়া ছিল না। গত বছরের মাঝামাঝি থেকে নিত্যপণ্যের দাম চড়া থাকায় সংসার চালাতে হিমশিম খেয়েছি। মনে করেছিলাম শীতের শুরুতে সবজির দাম কমবে। তবে কমেছে শীতের ৬ সপ্তাহ পর। অন্য বছরের তুলনায় দাম সামান্য বেশি হলেও এখন স্বাভাবিক হয়েছে।

দোহাজারী কাঁচাবাজারে ক্রেতা সাবের হোসেন বলেন, শীতের শুরুতে উৎপাদিত সবজির বাজারে সরবরাহ বাড়লেও দাম ছিল চড়া। কিছু সবজির দাম তখন আরো বেড়েছিল। তখন দাম কমাটা স্বাভাবিক ছিল। ওই সময় কাঁচামরিচের কেজি ২৫০ টাকা পর্যন্ত কিনেছি। তবে এখন সবজির দাম অনেক কমেছে। পেঁয়াজের দাম চড়া রয়েছে। গতকাল শুক্রবার দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কেরানীহাট, বাজালিয়ার বোমাংহাট, দেওয়ানহাট, বাংলাবাজার, জোটপুকুরিয়া বাজার, লোহাগাড়ার বটতলী, পদুয়া তেওরীহাট, দরবেশ হাট, চুনতী বাজার, বড়হাতিয়া সেনেরহাট, বাঁশখালীর গুনগুরি খাস মাহাল, চাম্বল বাজার, পুকুরিয়া বাজার, চন্দনাইশের দোহাজারী, বাগিচার হাট, কলেজ গেট, বাদামতল, রৌশনহাট, পটিয়া, আনোয়ারা ও বোয়ালখালীসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, বেগুন ২৫ টাকা, দেশীয় আলু নতুন ৩০ টাকা, টমেটো ৪০ টাকা, শিম ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, করলা, চিচিঙ্গা ৪৫ টাকা, শসা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ফুলকপি ২০ টাকা, মূূলা ১০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আদা কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকায়, রসুন ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেরানীহাট সবজি বিক্রেতা আব্দুল আলম বলেন, সবজির দাম অনেকটাই কমে এসেছে। তবে কিছু কিছু সবজির দাম রয়েছে। আমরা খুচরা বিক্রি করি। এখানে লাভের সংখ্যা কম।

গত সপ্তাহ পর্যন্ত বাজারে চালের দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। আমদানি করা মোটা চাল (স্বর্ণা, বিআর-২৮, গুটি) প্রতি কেজি ৪৪ টাকা, মিনিকেট (সাধারণ) ৪৫ টাকা। ইন্ডিয়ান ও বার্মার চাল ৩৫-৩৬ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এ অঞ্চলে উৎপাদিত নতুন চাল কম দামে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া আশুগঞ্জের চাল আগের মতোই দাম রয়েছে।

চাল ব্যবসায়ী আবু সৈয়দ বলেন, গত বছরের শুরুতে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে একের পর এক বন্যায় ফসল ক্ষেত নষ্ট হয়েছিল। এতে বাজারে সরবরাহ কমে আসায় দাম বেড়েছিল। সাতকানিয়া ছদাহা শিশুতল পাইকারি নুর সবজি ভাণ্ডারের মালিক এইচ এম সেলিম বলেন, শীতের প্রথম কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সবজির দাম লাগামহীন ছিল। এখন সরবরাহ বাড়ায় পাইকারি ও খুচরায় সবজির দাম অনেকটাই কমে এসেছে।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj