ড্রেনের অভাবে রাবার ড্রামের সুফল বঞ্চিত কৃষক

রবিবার, ১৪ জানুয়ারি ২০১৮

ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি : উপজেলার নলকুড়ায় মহারশি নদীতে রাবার ড্রাম নির্মাণের ২ বছরেও নির্মাণ করা হয়নি ড্রেন। আর ড্রেনের অভাবে শ্যালো মেশিনে সেচ দিয়ে চাষাবাদ করতে হচ্ছে কৃষকদের। ফলে রাবার ড্রামের পুরোপুরি সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষক। জানা গেছে, জাইকার অর্থায়নে এলজিইডির তত্ত্বাবধানে ২০১৫ সালে এ রাবার ড্রামটি নির্মাণ করা হয়। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাবার ড্রাম নির্মাণ করা হলেও ড্রেন নির্মাণ না করায় শ্যালো মেশিনে সেচ দিয়ে ২০১৬ সালে ১ হাজার ২শ হেক্টর অনাবাদি জমিতে বোরো আবাদের আওতায় আনা হয়। চলতি বছর কৃষকদের নিজস্ব প্রচেষ্টায় আরো কিছু জমিতে বোরো আবাদের চেষ্টা করা হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আব্দুল আওয়াল ও মহারশি নদীর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির মুক্তিযোদ্ধা সামছউদ্দিনসহ কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাবার ড্রামের উজান থেকে বিস্তীর্ণ এলাকা পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণ করা হলে এখন যে পরিমাণের জমি চাষ হচ্ছে তার ৪ গুণ বেশি জমি চাষাবাদের আওতায় আনা সম্ভব।

উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা বলেন, রাবার ড্রাম নির্মাণের কারণে ভাটি এলাকায় নদীতে পানিশূন্য হয়ে পড়ায় তাতে শত শত একর জমিতে বোরো চাষ ব্যাহত হচ্ছে। তবে ড্রেন নির্মাণ করা হলে ওই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। ড্রেন নির্মাণের অভাবে যেসব এলাকার জমি অনাবাদি হয়ে পড়ে আছে সেসব এলাকাগুলো হচ্ছে- জারুলতলা, ফাকরাবাদ, মানিককুড়া, হলদিগ্রাম, গোমড়া, সন্ধ্যাকুড়া, রাংটিয়া, শালচুড়া, নলকুড়া, বাঐবাধা, হলদিবাটা, ধারাপানি, বনগাঁও, দিঘিরপাড়, মরিয়মনগর, ভারুয়াসহ প্রভৃতি এলাকার শত শত একর জমি। ড্রেন নির্মাণ করা হলে এসব অনাবাদি জমি আবাদের আওতায় আসার পাশাপাশি উৎপাদিত ফসলে দেশের খাদ্য ঘাটতির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এলাকার কৃষকরা স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ড্রেন নির্মাণের বিষয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এখনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে সাড়া পেলেই তা নির্মাণ করা হবে।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj