রংপুরের শতরঞ্জিতে আকৃষ্ট দর্শনার্থীরা

রবিবার, ১৪ জানুয়ারি ২০১৮

কাগজ প্রতিবেদক : শীত আর উত্তরের হিমেল হাওয়ায় অনেকটাই স্থবির হয়েছিল এবারের ২৩তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা। তবে ছুটির দিনে সেই স্থবিরতা কেটে জন¯্রােতে পরিণত হয়েছে বাণিজ্যমেলা। হাজারো মানুষের পদচারণায় ব্যবসায়ীদের বিকিকিনিও বেশ জমজমাট। আর দর্শনার্থীদের প্রথম পছন্দ দেশীয় পণ্য। দেশীয় পণ্য সুলভে পাওয়ার জন্য স্টলগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় জমাতে দেখা যায়। দেশীয় পণ্যগুলোর মধ্যে বাণিজ্যমেলায় যেন রং ছড়াচ্ছে রংপুরের শতরঞ্জি। ঘর সাজানোর টুকিটাকি পণ্যের পাশাপাশি গৃহিণীদের প্রথম চাহিদা এই শতরঞ্জি।

মিরপুর-১ থেকে মাকে নিয়ে মেলায় আসা সোহেলি বলেন, সারাদিন মাকে নিয়ে ঘুরেছি। এরই মধ্যে ঘর সাজানোর নানা পণ্য কিনেছেন মা। এখন শতরঞ্জি কিনতে এসেছি। মেলার আরেক দর্শনাথী হাসান আদনান বলেন, বিদেশি কার্পেটের তুলনায় আমাদের শতরঞ্জির ডিজাইন অনেক ভালো। তা ছাড়া দামেও কম। অনেক সময় বিদেশি কার্পেট ওয়াশ করা অসম্ভব, কিন্তু শতরঞ্জির এমন কোনো সমস্যা নেই। এজন্য আমরা শতরঞ্জিকেই বেছে নিই। রংপুর জেলার তাঁতিরা তৈরি করেন এক ধরনের মোটা কাপড়ের শতরঞ্জি। তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট, যমুনা, ধরলা প্রভৃতি নদ-নদী বিধৌত এ জেলার প্রাচীনতম শিল্প ও গৌরবময় ঐতিহ্যের প্রতীক চিরায়ত বাংলার নয়নাভিরাম নকশা খঁচিত এই শতরঞ্জি। এক সময় এটি সমাজের বিত্তবানদের বসতবাড়িতে, বাংলো বা অতিথিশালায় ভোজনের বিশেষ আসন হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তবে বর্তমানে আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে শতরঞ্জির বহুবিধ ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। রাজধানী ঢাকাতেও এর কদর যে কতখানি তা দেখা গেল বাণিজ্যমেলার স্টলে।

গতকাল শনিবার সকাল থেকেই মানুষের ঢল ছিল বাণিজ্যমেলায়। বিক্রেতারা থরে থরে পাটের তৈরি নানা নকশার ব্যাগ, পার্টস, জুতা, পুতুল, ম্যাট, শতরঞ্জি, শিকা, পাপোশ, সুতা, ঝুড়ি, ল্যাম্পশেড, কাপড়, টুপি, চাবির রিং, মানিব্যাগ, কম্বল, পাট ও প্লাস্টিকের সমন্বয়ে তৈরি ফাইবার গøাসসহ বিভিন্ন পণ্য সাজিয়ে দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছেন। এসব পণ্যের সঙ্গে ক্রেতারা পাচ্ছেন আকর্ষণীয় অফার। শতরঞ্জিতেও ছিল বিশেষ ছাড়। ফলে ভিড়ও ছিল বেশি। বাহারি নকশার ফ্লোর ম্যাট, ডোর ম্যাট, বাথ ম্যাট, ডাইনিং টেবিল ম্যাট, বেডশিট, বেড কভার, তাঁতের তৈরি পর্দা, কুশন কভার, ব্যাগসহ প্রায় ২০ ধরনের পণ্য রয়েছে কারুপণ্য হস্তশিল্প রংপুর নামের প্যাভিলিয়নে। এসব শতরঞ্জির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে স্কয়ার ফুট হিসেবে। প্রতি স্কয়ার ফুট ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে শতরঞ্জির সুমন সরকার বলেন, আমাদের রপ্তানিমুখী পণ্যগুলো মেলায় এনেছি। বিক্রি নয়, দেশি পণ্য ব্যবহারে ক্রেতাদের উদ্বুদ্ধ করাই মূল লক্ষ্য।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj