জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের ছোঁয়া : ইসলামপুরে যমুনার চরে ভিজিএল সোলার মিনি গ্রিড বিদ্যুৎকেন্দ্র

রবিবার, ১৪ জানুয়ারি ২০১৮

মোরাদুজ্জামান, ইসলামপুর (জামালপুর) থেকে : জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার যমুনার দুর্গম মন্নিয়ার চরাঞ্চলে সোলার মিনি গ্রিড বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। বেলগাছা ইউনিয়নের মন্নিয়া বাজারসংলগ্ন ভিনসেন জিটেক লিমিটেড ৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত (ভিজিএল-১) সোলার মিনি গ্রিড বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপন করেছে। এ কেন্দ্র থেকে ২৪৯.৬ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে।

জানা গেছে, ইসলামপুর উপজেলার যমুনার দুর্গম চরাঞ্চল বেলগাছা ইউনিয়নের মন্নিয়াতে ২০ হাজার লোকের বসবাস। যমুনা নদীর কারণে জন্ম থেকেই ওই এলাকার মানুষ বিদ্যুতের আলো থেকে বঞ্চিত। এতে করে ডিজিটালাইজ তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছেন তারা। এবার তাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে (ভিজিএল-১) সোলার মিনি গ্রিড বিদ্যুৎকেন্দ্র। ইতোমধ্যে ওই এলাকার প্রতিটি ঘরে ঘরে সংযোগ প্রদান করে গ্রামটিকে আলোকিত করেছে ভিনসেন জিটেক লিমিটেড। এতে করে কৃষিজমি আবাদ, স-মিল, আইস মিলসহ প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি জীবনযাত্রার মান উন্নতির দিকে ধাবিত হচ্ছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, মন্নিয়া বাজারসহ ওই এলাকায় ১৮ কি.মি. সংযোগ লাইন স্থাপন করা হয়েছে। ডিজিটালাইজ কাজগুলো হাতের নাগালে করতে পেরে আলাউদ্দিনের চেরাগের গল্প বলে জানিয়েছেন অনেকেই। বেলগাছা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক ও বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে এলাকায় প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। আলোর জন্য ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করতে অনেক সমস্যা হতো। এখন তা অনেকটা লাঘব হয়েছে। মোবাইল চার্জসহ তথ্যপ্রযুক্তির কাজ করতে আগে আমাদের সদরে যেতে হতো। এখন ওই দুর্ভোগ দূর হয়েছে। সোলার প্যানেল স্থাপনে জীবনযাত্রার মানের পরিবর্তনে ছোঁয়া লেগেছে।

উদ্যোক্তা ভিনসেন জিটেক লিমিটেডের চেয়ারম্যান, জাতীয় পার্টি ইসলামপুর উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক মোস্তফা আল মাহমুদ জানান, যমুনার এই দুর্গম অঞ্চলে (ভিজিএল-১) সোলার মিনি গ্রিড বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপন করা আমার অনেক দিনের পরিকল্পনা ছিল। চরাঞ্চলবাসী জন্ম থেকেই বিদ্যুতের আলো থেকে বঞ্চিত। চরের সন্তান হিসেবে আমি বঞ্চিতদের আলোকিত করতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করি।

তিনি আরো বলেন, এই অঞ্চলের ১ হাজার ৫০০ পরিবার (ভিজিএল-১) সোলার মিনি গ্রিড বিদ্যুৎকেন্দ্রের আওতায় রয়েছে। ইতোমধ্যে ১ হাজার ২০০ পরিবারকে সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। কেন্দ্রটির মাধ্যমে এ অঞ্চলের কৃষকের উন্নয়ন, শিল্প কারখানা, স-মিল, বাজার, ইরিগ্রেশন পাম্পসহ পাওয়ার প্ল্যানের মাধ্যমে হাসকিং মিল, নেটওয়ার্কিংসহ সব সুবিধা পাবে। এতে চরাঞ্চলবাসীর জীবনযাত্রার মানের দ্রুত পরিবর্তন হবে।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj