বরাদ্দ চেয়ে জরুরি বার্তা : সৈয়দপুরে পাঁচ হতদরিদ্রের জন্য সরকারি বরাদ্দ মিলেছে ১ কম্বল

রবিবার, ১৪ জানুয়ারি ২০১৮

জিকরুল হক, সৈয়দপুর (নীলফামারী) থেকে : শৈত্যপ্রবাহে তাপমাত্রা অতিমাত্রায় নেমে যাওয়ায় সৈয়দপুরের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও জনপদে শীতের কাঁপন পিছু ছাড়ছে না। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কনকনে ঠাণ্ডা প্রবল হয়ে উঠছে। তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে মানুষের জীবনযাত্রা।

শীত নিবারণের জন্য উপজেলায় ২০ হাজার হতদরিদ্র মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্রের জন্য হাহাকার চলছে। অভাবী এসব মানুষের ভরসা সরকারি-বেসরকারি ত্রাণের শীতবস্ত্র। শীতার্তদের জন্য সৈয়দপুরে সরকারি শীতবস্ত্র কম্বল মিলেছে মাত্র ৪ হাজার ৪১ পিস। ফলে ৫ জন হতদরিদ্রদের মধ্যে মাত্র ১ জন পেয়েছেন শীতবস্ত্র। ফলে সিংহভাগ হতদরিদ্রের ভাগ্যে জোটেনি শীতবস্ত্র। তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম কষ্ট ভোগ করছেন। শীত থেকে রক্ষা পেতে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেকে।

উপজেলা ত্রাণ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, সৈয়দপুর উপজেলার পাঁচ ইউনিয়ন ও পৌরসভার জন্য সরকারি শীতবস্ত্র বরাদ্দ দেয়া হয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৪১ পিস। এর মধ্যে পাঁচ ইউনিয়নের জন্য ৩ হাজার ৬৬৬ পিস এবং পৌরসভায় ৩ লাখ বাসিন্দাদের জন্য মাত্র ৩৭৫ পিস শীতবস্ত্র বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব শীতবস্ত্র জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। নতুন করে আরো দুই হাজার কম্বলের বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। স্থানীয় ত্রাণ দপ্তর বরাদ্দের জরুরি বার্তা পাঠিয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে।

সরকারি-বেসরকারি সূত্রমতে, সৈয়দপুর উপজেলার পাঁচ ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ২০ হাজার হতদরিদ্র পরিবার রয়েছে। এসব পরিবারের শীত নিবারণের পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র নেই। প্রতি বছর শীতে তারা অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েন। তবে এ বছর হিমশীতল কনকনে ঠাণ্ডায় কাহিল হয়ে পড়েছেন তারা। ত্রাণের শীতবস্ত্র পেতে তারা এখন উন্মুখ হয়ে আছেন। একটা শীতবস্ত্র পেতে জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন হতদরিদ্রদরা। কিন্তু তাদের পক্ষে শীতবস্ত্র দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। চাহিদার তুলনায় শীতবস্ত্রের অপ্রতুল বরাদ্দে তারা বিপাকে পড়েছেন। সরকারিভাবে বরাদ্দ দেয়া শীতবস্ত্র উপজেলার সিকিভাগ হতদরিদ্রের চাহিদা মেটেনি। ফলে শীতবস্ত্র থেকে বঞ্চিত হয়েছেন পনের হাজারের বেশি হতদরিদ্র মানুষ। তারা সীমাহীন কষ্ট ভোগ করছেন। অভাবী মানুষের সহায়তায় বেসরকারি উদ্যোগও তেমন জোরালো দেখা যাচ্ছে না। দুয়েকটি সংগঠনের উদ্যোগ দেখা গেলেও তা পর্যাপ্ত নয়। এতে হাতেগোনা মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে তা শহর কেন্দ্রিক হওয়ায় গ্রামের দুঃস্থরা-এর সুবিধা পাচ্ছেন না। তাদের কাছে অধরাই থেকে যাচ্ছে শীতবস্ত্র।

এদিকে গোটা জনপদে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও শীতের তীব্রতা কমেনি। হাড়কাঁপানো শীতে মানুষ আড়ষ্ট হয়ে পড়ছেন। সকাল ও রাতে ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে জনপদ। কুয়াশার কারণে ট্রেন ও সড়কে যান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। ট্রেন ও যানবাহনের গন্তব্যে পৌঁছাতে ২-৩ ঘণ্টা দেরি হচ্ছে। কুয়াশার জন্য সকালে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ অবতরণ ও উড্ডয়নের সময়সূচি ভেঙে পড়েছে। সকালের ফ্লাইট ২-৩ ঘণ্টা দেরিতে যাতায়াত করছে। কর্মজীবী মানুষ আপদমস্তক ঢেকে কর্মস্থলে যাতায়াত করছেন। শীতে বেশি কাতর হয়ে পড়েছে দরিদ্র, ছিন্নমূল, ভাসমান ও দিনমজুর লোকজন। কেবল মানুষই নয়, গৃহপালিত পশু ও প্রাণীক‚লও শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে। হিমশীতল ঠাণ্ডায় গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগি মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দিন আয়ের মানুষ কাজে বের হতে না পারায় পরিবার নিয়ে প্রায় অনাহারে দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছেন। উষ্ণতা পেতে লেপ-তোশক ও শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে প্রতিদিন। কিন্তু চড়া দামের কারণে সবার পক্ষে গরম কাপড় কেনা সম্ভব হচ্ছে না।

ঠাণ্ডার তীব্রতায় শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ঘরে ঘরে দেখা দিয়েছে সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার প্রকোপ। স্থানীয় হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন ৩০-৪০ জন ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগী আসছে। এদের বেশির ভাগই শিশু ও বয়স্ক লোক। প্রতিদিনই গুরুতর অসুস্থ শিশু ও বয়স্ক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj