গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেও কাজ হয়নি : কপোতাক্ষ বেড়িবাঁধের মাটি কেটে নিচ্ছে ইটভাটা মালিক

রবিবার, ১৪ জানুয়ারি ২০১৮

নজরুল ইসলাম, তালা (সাতক্ষীরা) থেকে : দিন-দুপুরে ডাকাতির মতো কপোতাক্ষ বেড়িবাঁধের মাটি কেটে নিচ্ছে ইটভাটা মালিক। প্রশাসনের পক্ষে দেখার কেউ নেই। অথবা থাকলেও টু পাইস কামাই করে চুপ করে আছে কর্তৃপক্ষ। গত এক বছর ধরে উপজেলার পাটকেলঘাটা টু দলুয়া গ্রামীণ সড়কের পাশেই আচিমতলা গ্রামে জনবসতি কৃষিজমি ও সবুজ বেষ্টনীর মধ্যে যুগীপুকুরিয়া গ্রামের মৃত খোকা মোড়লের ছেলে রেজাউল ইসলাম বাবু ফারাহ ব্রিকস নামে ইটভাটা নির্মাণ করে অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।

যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ড একাধিকবার কপোতাক্ষ পাড়ের জলাবদ্ধতারক্ষা বাঁধের মাটি না কাটার জন্য নোটিস এবং গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেও কোনোভাবেই রোধ করা যায়নি ফারাহ ব্রিকসের মালিকের মাটিকাটা।

সরেজমিন দেখা যায়, কপোতাক্ষ পাড়ের কাঁটাখালী নদীর বেড়িবাঁধের মাটি ১০টি ট্রলিতে করে ৫০-৬০ জন শ্রমিক নিয়ে হাজার হাজার ঘনফুট মাটি কেটে ইটভাটায় নিয়ে আসছে। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয় সাংবাদিকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা-পুলিশকে জানালেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ওই ভাটা মালিক আচিমতলা গ্রামের কিয়ামুদ্দিন মোড়লের ছেলে আন্তঃবিভাগীয় মোটরসাইকেল চোর চক্রের হোতা শহিদুল মোড়লকে নিয়োগ দিয়ে রেখেছে। এর আগেও বহুবার কপোতাক্ষ বেড়িবাঁধের লাখ লাখ ঘনফুট মাটি কেটে বাণিজ্যিকভাবে ইট তৈরি করেছে ফারাহ ব্রিকসের মালিক। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকার শতাধিক ব্যক্তি আপত্তি জানিয়ে লিখিতভাবে গণদরখাস্ত দেয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে জেলা প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদপ্তর সবই জানে কিন্তু সবাই চোখ বুজে আছে। এ নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে অসংখ্যবার সচিত্র প্রতিবেদন ছাপা হলেও কুম্ভকর্ণ কর্তৃপক্ষের যেন ঘুম ভাঙছে না বরং এ ইটভাটা মালিক অবৈধ কর্মকাণ্ড আরো দ্রুত গতিতে চালিয়ে যাচ্ছে। ইটভাটা মালিক জানায়, প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। অনুসন্ধান করে জানা গেছে, ওই ইটভাটার বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই। নেই জেলা প্রশাসনের অনুমোদনও। জেলা প্রশাসনের জুডিশিয়াল মুন্সিখানার প্রধান সহকারী মোশারফ হোসেন জানান, ফারাহ ব্রিকসের মালিক ২০১৪ সালে একবার অনুমোদন নিয়েছিল। পরে আর আবেদন করেনি।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩ অনুযায়ী জনবসতি, গ্রামীণ সড়ক ও কৃষিজমির মধ্যে কোনোভাবেই ইটভাটা গড়ে তোলা যাবে না। তা ছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র এবং জেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া অবৈধভাবে কার্যক্রম পরিচালনাকারীদের জেল-জরিমানার পাশাপাশি সব মালামাল জব্দ করে বাজেয়াপ্ত করার বিধান থাকলেও এর কোনোটিরই প্রয়োগ নেই। স্থানীয় বাসিন্দা মাটি কাটার প্রত্যক্ষদর্শী কাঁটাখালী গ্রামের আজিজুর রহমান ও সাজ্জাত শেখ, আচিমতলা গ্রামের ইদ্রিস আলী, মনিরুল ইসলাম, মনজুর হোসেন, মোস্তাফিজুর মোড়ল ও আবুল কাশেমসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তির অভিযোগ, সারা বছর ধরে এভাবে বেড়িবাঁধের মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। বছরের পর বছর ফারাহ ব্রিকস মালিকের এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। ইটভাটার চিমনি থেকে নির্গত বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। ফলমূলের গাছপালা ক্রমান্বয়ে ন্যাড়া হয়ে মরে যাচ্ছে। এ ছাড়া ইটভাটার মাটি বহনকারী লরি বা মাটিভর্তি ট্রাকের অবিরাম চলাচলে সড়কের পিচ উঠে বড় বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব গর্তে পানি জমে জনসাধারণের চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এসব মাটিভর্তি ট্রাকের উপর থেকে মাটি পড়ে রাস্তা ধুলায় চলাচলরত মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ধুলাবালুতে গাছগাছালিসহ রাস্তার পাশের ঘরবাড়ি, কাপড়-চোপড় বিবর্ণ হয়ে গেছে। আর এসব ট্রাকের মাটি রাস্তায় পড়ার পর যদি বৃষ্টি হয় তাহলে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে চলাচলে অহরহ দুর্ঘটনায় পড়তে হয়। বহুবার প্রতিকারের জন্য কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার না পেয়ে এলাকার মানুষ হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj