প্রথম বৈঠক কাল : ঢাকার প্রতিনিধিরা নেপিডো যাচ্ছেন আজ

রবিবার, ১৪ জানুয়ারি ২০১৮

কাগজ প্রতিবেদক : রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কার্যকর করার জন্য গঠিত মিয়ানমার ও বাংলাদেশের যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির প্রথম বৈঠকে অংশ নেয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল আজ রবিবার বিকেলে মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডো যাচ্ছেন। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল সোমবার।

উভয় দেশের ১৫ জন করে মোট ৩০ সদস্যবিশিষ্ট এই ওয়ার্কিং গ্রুপে অংশ নিতে বাংলাদেশের পক্ষে ঢাকা থেকে যাচ্ছেন ১৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। নেপিডোয় অবস্থানরত মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সুফিউর রহমান তাদের সঙ্গে যোগ দেবেন। মিয়ানমারের পক্ষে সে দেশের ১৫ সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক এবং মিয়ানমারের পক্ষে সে দেশের পার্মানেন্ট সেক্রেটারি মিন্ট থ।

জানা গেছে, বাংলাদেশ দলের অপর ১৩ প্রতিনিধি হচ্ছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আবু বক্কর সিদ্দিকী, কক্সবাজার জেলার শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মনিরুল ইসলাম আকন্দ, সামরিক গোয়েন্দা পরিদপ্তর থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তৌহিদ-উল ইসলাম, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তর থেকে কমোডর মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক মো. খলিলুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ হাবিবুর কবির চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. মুনিম হাসান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া শাখার মহাপরিচালক মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সেলিনা বানু, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপসচিব মো. ওসমান ভূঁইয়া এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পরিচালক (পরিকল্পনা) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ একলিম আবদীন।

এদিকে প্রস্তুতির অভাব, সমন্বয়ের ঘাটতি এবং নানা অসঙ্গতির কারণে আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা প্রথমে হিন্দু সম্প্রদায়ের ৪৫০ জনকে দিয়ে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে চায় আর বাংলাদেশ সরকার প্রথমে এক লাখ রোহিঙ্গাকে তাদের দেশ মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে আগ্রহী। কিন্তু যে এক লাখ রোহিঙ্গাকে প্রথমে ফেরত পাঠানোর কথা বলা হয়েছে তাদের তালিকাটি এখনো সম্পন্ন করতে পারেনি বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। এই তালিকাটি যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে উত্থাপন করার কথা থাকলেও তা সম্ভব হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে সেনা অভিযানের নামে রোহিঙ্গা নিধন প্রক্রিয়া শুরু হয় মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডুং জেলার বিভিন্ন এলাকায়। লুটপাট, জ্বালাও-পোড়াও, ধর্ষণ এবং নির্যাতনের মুখে প্রাণ হারায় হাজার হাজার রোহিঙ্গা। প্রাণ নিয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় অন্তত ৭ লাখ রোহিঙ্গা। এর আগে থেকেই অবস্থানকারীদের গণনায় ধরলে মিলিয়ে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমারের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও এখন বাংলাদেশে আশ্রিত। তাদের ফিরিয়ে নেয়ার জন্য গত ২৩ নভেম্বর দুদেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয় এবং চুক্তি অনুযায়ী আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা। আর এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কার্যকর করার জন্য গঠন করা হয় ৩০ সদস্যের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj