রুবি ভিলায় অভিযান : পরিচয় মেলেনি নিহত জঙ্গিদের

রবিবার, ১৪ জানুয়ারি ২০১৮

আজিজুর রহমান : রাজধানীর পশ্চিম নাখালপাড়ায় রুবি ভিলায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সঙ্গে গোলাগুলিতে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি। ভাড়া নেয়ার সময় জমা দেয়া জাতীয় পরিচয়পত্র দুটিই ভুয়া বলে মনে করছে র‌্যাব। নানা সূত্রে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আজ রবিবার নিহতদের ছবি প্রকাশ করা হবে।

এদিকে গতকাল শনিবার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই ৩ জনের ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে। হাসপাতালটির ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এ এম সেলিম রেজা জানিয়েছেন গুলিতেই তিন যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকলেও তাদের চেহারা বিকৃত হয়নি বলে অপর একটি সূত্র দাবি করেছে। এছাড়াও পশ্চিম নাখালপাড়া রুবি ভিলার মালিক বিমান বাংলাদেশের ফ্লাইট পারসার শাহ মো. সাব্বির হোসেন, কেয়ারটেকার রুবেল ও শীতল নামে এক মেসকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে র‌্যাব। এদিকে শুক্রবার সকালে লাশ উদ্ধার এবং আগে গোলাগুলির ঘটনায় গতকাল রাতে সন্ত্রাস দমন আইনে তেজগাঁও থানায় র‌্যাবের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। এজাহারে তাদের পরিচয় অজ্ঞাত উল্লেখ করা হয়েছে। র‌্যাব লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান গতকাল জানান, নিহতদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। কাল (রবিবার) তাদের ছবি প্রকাশ করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় (পুরাতন সংসদ ভবন) থেকে কয়েকশ গজ দূরে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে অভিযান চালায় র‌্যাব। সে সময় গোলাগুলির ঘটনায় ৩ যুবক নিহত হয় বলে শুক্রবার সকালে র‌্যাব ডিজি বেনজীর আহমেদ সাংবাদিকদের জানান। সে সময় তিনি দাবি করেন নিহতরা জেএমবির সদস্য। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার পরিকল্পনা ছিল তাদের।

গতকাল এ বিষয়ে র‌্যাব-৩ এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) লে. কর্নেল এমরানুল হাসান ভোরের কাগজকে বলেন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার পরিকল্পনাকারী জেএমবির কয়েকজন সদস্য নাখালপাড়ার এলাকায় অবস্থান করছে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নিশ্চিত হয়ে আমরা রুবি ভিলার পঞ্চম তলায় অভিযান চালাই। সে সময় র‌্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছোড়া হলে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে ৩ জঙ্গি নিহত হয়। পরে আমরা সেখানে ঢুকে দেখতে পাই রান্না ঘরের গ্যাসের চুলার ওপর বিস্ফোরক রাখা হয়েছিল। তাদের পরিকল্পনা ছিল চুলার গ্যাসলাইনের সামনে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বড় ধরনের ক্ষতি করা। তবে গ্যাসের লাইন বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয়ায় তারা ব্যর্থ হয়। ওই বাড়িটিতে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ২০১৬ সালের ১৪ আগস্ট এবং ২০১৩ সালে দুই দফা অভিযান চালানো হয়েছিল। এবারো একই বাড়িতে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাওয়ায় বাড়ির মালিক শাহ মো. সাব্বির হোসেন জঙ্গিবাদে পৃষ্ঠপোষকতায় জড়িত কিনা প্রশ্নের উত্তরে র‌্যাব-৩ এর সিও আরো বলেন, বাড়ির মালিক বিমান বাংলাদেশের একজন ফ্লাইট পারসার। অভিযানের সময় তিনি কর্মস্থলে ছিলেন। এ বাড়ি ছাড়াও তার উত্তরা ও মিরপুরে বাড়ি রয়েছে। তাকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তিনি জানিয়েছেন ফ্লাইট পারসার হওয়ায় প্রায়ই তাকে দেশের বাইরে থাকতে হয়। বাড়ি দেখাশোনা করেন তার স্ত্রী ও কেয়ারটেকাররা। তাই ভাড়াটিয়াদের সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই বলে জানান তিনি। ভাড়া নেয়ার সময় জমা দেয়া জাতীয় পরিচয় পত্রটি ভুয়া বলেই প্রাথমিকভাবে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। বাড়ির কেয়ারটেকার রুবেল ও মেসে কাজ করে শীতল নামে আরো দুজনকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তবে তারা এখনো জঙ্গিদের সম্পর্কে তেমন কিছু জানাতে পারেনি। তবে একই বাড়িতে জঙ্গি আস্তানা পাওয়ায় আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখছি। গতকাল রাতে এ ঘটনায় সন্ত্রাস দমন আইনে তেজগাঁও থানায় মামলা করা হয়েছে। এদিকে গতকাল বিকেল ৫টার দিকে নিহত ৩ যুবকের ময়নাতদন্ত শেষে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এ এম সেলিম রেজা বলেন, তেজগাঁও থানা থেকে পাঠানো তিনটি লাশের শরীরেই বুলেটের চিহ্ন আছে। গুলিতেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের শরীরের সামনে ও পেছনের দিকে অনেকগুলো আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। একজনের শরীরে একটি বুলেট পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে অধ্যাপক সেলিম আরো বলেন, বিষয়টি রাষ্ট্রীয় এবং অত্যন্ত গোপনীয়। সব তথ্য জানানোর বিষয়ে আমাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমি বিস্তারিত আমার প্রতিবেদনে লিখব।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj