দিল্লি ফিরে গেছেন মাওলানা সা’দ

রবিবার, ১৪ জানুয়ারি ২০১৮

কাগজ প্রতিবেদক : বিতর্ক ও উত্তেজনার মধ্যে অবশেষে ভারতের দিল্লি ফিরে গেছেন তাবলিগ জামাতের কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য দিল্লির মাওলানা মোহাম্মদ সা’দ কান্ধলভি। এক পক্ষের বিরোধিতার মুখে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় যোগ না দেয়ার সিদ্ধান্তের একদিন পর নিজ দেশে ফিরে যান তিনি। গতকাল শনিবার দুপুর ১২টার দিকে জেট এয়ারওয়েজের একটি উড়োজাহাজে করে তিনি ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।

প্রসঙ্গত, গত তিন বছর ধরে বিশ্ব ইজতেমায় আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করে আসছেন মাওলানা সা’দ কান্ধলভি। এর আগে হেদায়েতি বয়ান দিতেন তিনি। সেই অনুযায়ী চলতি বছরের ইজতেমায় যোগ দিতে গত ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশে আসেন মাওলানা সা’দ। তাকে নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়া এই ইসলামিক সংঘের এক পক্ষের কর্মীরা এবং তাকে ইজতেমায় অংশ নেয়া থেকে বিরত রাখতে বিক্ষোভ করার পর তাতে অনড় থাকলে পরদিন ১১ জানুয়ারি বিবদমান দুপক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। দুঘণ্টার বৈঠক শেষে সিদ্ধান্ত হয় মাওলানা সা’দ ইজতেমায় অংশ নেয়া থেকে বিরত থাকবেন এবং ‘সুবিধাজনক সময়ে’ তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে যাবেন। এরপর শুক্রবার ইজতেমা শুরু হলেও কাকরাইলে মসজিদেই কাটান মাওলানা সা’দ। সেখান থেকেই গতকাল ফিরে যান তিনি। শুক্রবার কাকরাইল মসজিদে মাওলানা সা’দ জুমার বয়ান দেন এবং নামাজ পড়ান। বয়ানে তিনি হযরত মুসা (আ.)-কে নিয়ে তার অতীতে দেয়া বক্তব্যের জন্য ভুল স্বীকার ও ক্ষমা চান। উর্দুতে দেয়া বয়ানে মাওলানা সা’দ বলেন, ‘ওলামায়ে-কেরাম যদি কোনো কারণে ভুল ধরেন, আমরা মনে করব- ওনারা আমাদের ওপর এহসান করেছেন। তারা যে কথা বলবেন, তাতে আমাদের সংশোধন হবে ইনশাল্লাহ। তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের কাজ হলো বয়ান করা। বয়ানে অনেক সময় ভুল হয়ে যায়। আমি সবার সামনে রুজু করেছি। কোনো কথায় যদি দোষ হয়, এটা থেকে আমি রুজু করছি, আগেও করেছি, এখনো করছি।’

উল্লেখ্য, টঙ্গীর তুরাগ তীরে গত ১২ জানুয়ারি থেকে তিন দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু হয়। আখেরি মোনাজাত হবে আজ রবিবার। তাবলিগ জামাতের নেতৃত্ব দিয়ে দিল্লির মারকাজ এবং দেওবন্দ মাদ্রাসার মধ্যে সম্প্রতি দ্ব›দ্ব দেখা দেয়, যার প্রভাবে বাংলাদেশ তাবলিগ জামাতের মধ্যে এই বিভক্তি।ইজতেমার ‘শান্তি ও নিরাপত্তার স্বার্থে’ গত ৭ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ীতে জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়ায় তাবলিগের শূরা সদস্য ও আলেমদের বৈঠক হয়। সেখানে এবারের ইজতেমায় মাওলানা সা’দের না আসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

‘তাবলিগ করা ছাড়া কেউ বেহেশতে যেতে পারবে না’ মূলত মাওলানা সা’দের এমন বক্তব্যের জের ধরে বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। তার বিরুদ্ধে রাজধানীতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভের মধ্যেই ১০ জানুয়ারি মাওলানা সা’দ বিমানে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। পরে তাকে পুলিশ পাহারায় কাকরাইল মসজিদে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj