দেশি কম্পিউটার কারখানা

রবিবার, ২১ জানুয়ারি ২০১৮

দেশেই উৎপাদিত হবে ল্যাপটপ আর কম্পিউটার। বিদেশি ব্র্যান্ডের কোনো ল্যাপটপ কিংবা কম্পিউটার ব্যবহার এবার করতে না চাইলেও কোনো সমস্যা নেই। এখন থেকে দেশি ব্র্যান্ড ওয়ালটন নিজেদের কারখানাতে উৎপাদন করবে ল্যাপটপ আর কম্পিউটার। প্রাথমিকভাবে প্রতিমাসে ৬০ হাজার ল্যাপটপ, ৩০ হাজার ডেস্কটপ এবং ৩০ হাজার মনিটর উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। গত বৃহস্পতিবার ওয়ালটনের নবনির্মিত কম্পিউটার কারখানাটি উদ্বোধন হয়। তিন লাখ স্কয়ার ফিটের জায়গা জুড়ে ওয়ালটনের গড়ে তোলা এই কারখানা কেমন? গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক ঘুরে এসে লিখেছেন আশরাফুল ইসলাম রানা ও নাজমুল হক ইমন

ওয়ালটনের কম্পিউটার ও ল্যাপটপ কারখানায় রয়েছে ল্যাপটপ ও কম্পিউটার ডিজাইন ডেভেলপ, গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ, মাননিয়ন্ত্রণ বিভাগ ও টেস্টিং ল্যাব। স্থাপন করা হয়েছে বিশ্বের সর্বাধুনিক জাপানী ও জার্মান প্রযুক্তির মেশিনারিজ। আরো রয়েছে এসএমটি (সার্ফেস মাউন্টিং টেকনোলজি) সিস্টেম। পিসিবি (প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড) তৈরির মেশিন যা মাদারবোর্ড তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। প্রাথমিক অবস্থায় এসকেডি এবং সিকেডি’র সংমিশ্রণে কম্পিউটার ও ল্যাপটপ তৈরি হচ্ছে কারখানাটিতে। ওয়ালটন প্রাথমিকভাবে ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে দেশীয়ভাবে কম্পিউটার তৈরির জন্য। এই মুহূর্তে কারখানাটিতে ২টি প্রোডাকশন লাইনে কাজ চলছে। স্থানীয় বাজারে চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে পরবর্তীতে আরো প্রোডাকশন লাইনস যুক্ত হবে। বর্তমানে ৫ শতাধিক লোক কাজ করলেও সংগ্রহ করা হচ্ছে প্রয়োজনীয় লোকবল। কেননা প্রাথমিকভাবে প্রতিমাসে ৬০ হাজার ল্যাপটপ, ৩০ হাজার ডেস্কটপ এবং ৩০ হাজার মনিটর উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এই কারখানায় তৈরি করা ডিজিটাল ডিভাইসের মধ্যে রয়েছে ২০ মডেলের ল্যাপটপ, ৬ মডেলের ডেস্কটপ এবং ২ মডেলের মনিটর। এছাড়াও এখানে হবে কম্পিউটার তৈরি হার্ডওয়্যার পণ্য। ওয়ালটনের কম্পিউটার বা ল্যাপটপ রপ্তানির বিষয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে বলে জানা যায়। ইতোমধ্যে নেপাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি সাড়া পাওয়া পেয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি বা মার্চের মধ্যে নেপালে যাবে বাংলাদেশে তৈরি ওয়ালটনের ল্যাপটপ। প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা আশা করছেন, দেশের বাজারে বিক্রয়ের শীর্ষে থাকার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও জনপ্রিয় হবে এই কম্পিউটার।

উল্লেখ্য, দেশেই ল্যাপটপ ও কম্পিউটার তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ২০১৫ সাল থেকে কাজ শুরু করে ওয়ালটন। ২০১৬ সালের শেষদিকে বাজারে আসে ওয়ালটন ল্যাপটপ। প্রতিযোগীতার বাজারে নিজের অবস্থান দৃঢ় করতে স্থানীয়ভাবেই এবার পণ্য তৈরি শুরু করেছে ওয়ালটন। অন্যান্য বিদেশি ব্র্যান্ডের কম্পিউটার ও ল্যাপটপের সমমানের পণ্য অন্তত ২০ শতাংশ কম মূল্যে দিতেই এ উদ্যোগ।

যা যা তৈরি হবে

দুই স্তরবিশিষ্ট মাদারবোর্ড, ডিসপ্লে, কেসিং, র‌্যাম, এএসডি ডিভাইস, পেন ড্রাইভ, কিবোর্ড মাউস, ট্যাব, স্মার্টফোন।

যা যা দেখলাম

মূল ফটক থেকে ওয়ালটন কম্পিউটার কারখানা মিনিট পাঁচের রাস্তা। অবশ্য সেখানে প্রতিষ্ঠানটির নিজম্ব পরিবহন ব্যবস্থা আছে। পরিপাটি আর দৃষ্টিনন্দন পরিবেশের ওয়ালটন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের কম্পিউটার কারখানা, ভবনের তৃতীয় তলাতে। সেখানে প্রবেশ করলেই দেখা যাবে সারি সারি টেকনিশিয়ান কাজ করছে একটি সুর্দীঘ কক্ষে। কাঁচের দেওয়াল থাকায় দেখা যায় তাদের কাজগুলো। কক্ষটি সংরক্ষিত। তারপরও যদি সেখানে প্রবেশ করতে কেউ চায় তাহলে তাকে অ্যাপ্রন গায়ে জড়াতে হবে। সঙ্গে পায়ে ও মাথায় ধুলাবালি প্রতিরোধক জুতা ও ক্যাপ। এরপর যেতে হবে একটি সুরু রাস্তা দিয়ে; সেখানে এয়ারব্লুয়ারের মাধ্যমে শরীরের ধুলাবালি পরিস্কার করার পরই মিলবে ভেতরে যাবার অনুমতি। ঘুরে দেখলে বুঝতে পারবেন কিভাবে কম্পিউটার কিংবা ল্যাপটপ বানানো হয়। কিভাবে সেটিং করা হয় এই নিত্য ব্যবহারের প্রযুক্তি পণ্যগুলো। এক হাত থেকে অন্য হাত; এভাবে প্রতিটি ঘন্টায় তারা উৎপাদন করছে সর্বোচ্চ ১২০টি ল্যাপটপ। বানানো হয়ে গেলে সেগুলো ডিসপ্লেতে রাখার ব্যবস্থাও আছে। মৃদুভাষী টেকনিশিয়ানরা প্রয়োজন ছাড়া তেমন কথা বলেন না। এক মানে কাজ করে, বানাচ্ছেন এই প্রযুক্তি পণ্যগুলো।

ডট নেট'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj