স্মার্টফোনের দাম!

রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

বিশ্বের ৭৫টি দেশের ডিভাইস বিক্রয় ডাটা বিশ্লেষণ করে জিএফকে জানায়, গত বছর এশিয়ার উন্নত বাজার অস্ট্রেলিয়া, হংকং, জাপান, নিউজিল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানে স্মার্টফোনের গড় বিক্রয়মূল্য ছিল ৬৪৫ ডলার। অন্যদিকে বাংলাদেশ, ভারত, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মতো এশিয়ার অন্য উদীয়মান বাজারগুলোয় স্মার্টফোনের গড় বিক্রয়মূল্য ছিল ১৮৩ ডলার। দেখা যায়, একই অঞ্চলের দেশভেদে স্মার্টফোনের গড় বিক্রয়মূল্যে বিস্তর ফারাক।

বৈশ্বিক বাজারে প্রিমিয়াম স্মার্টফোনের চাহিদা বাড়ছে। ক্রমবর্ধমান গ্রাহক চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে স্যামসাং ও অ্যাপলের পাশাপাশি অন্য স্মার্টফোন নির্মাতারা গত বছর একাধিক প্রিমিয়াম স্মার্টফোন উন্মোচন করেছে। গত বছরই ডিভাইস বাজারে প্রথম হাজার ডলার মূল্যের স্মার্টফোন উন্মোচন করা হয়। ২০১৭ সালে অঞ্চলভেদে স্মার্টফোনের গড় বিক্রয়মূল্য বেড়েছে ৩২৮ ডলার। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের উন্নত প্রযুক্তির ডিসপ্লে এবং আধুনিক ও সৃজনশীল বেশকিছু নতুন ফিচারসংবলিত হাই-এন্ড স্মার্টফোনের কারণে গড় বিক্রয়মূল্য বেড়েছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান জিএফকের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে।

জিএফকের তথ্যমতে, স্মার্টফোনের গুরুত্বপূর্ণ বাজার পশ্চিম ইউরোপ। গত বছর বাজারটিতে স্মার্টফোনের গড় বিক্রয়মূল্য ছিল ৪৪৬ ডলার।

অন্যদিকে গত বছর উত্তর আমেরিকায় স্মার্টফোন ডিভাইসের গড় বিক্রয়মূল্য ছিল ৪১৭ ডলার। চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্মার্টফোন বাজার। বাজারটিতে গত বছর স্মার্টফোনের গড় বিক্রয়মূল্য ছিল ৩৩৫ ডলার। গত বছর লাতিন আমেরিকার বাজারে স্মার্টফোন ডিভাইসের গড় বিক্রয়মূল্য ৩১৮ ডলারে পৌঁছেছে। মধ্য ও পূর্ব ইউরোপে স্মার্টফোনের গড় বিক্রয়মূল্য ২৪৯ ডলারে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বাজারে স্মার্টফোন ডিভাইসের গড় বিক্রয়মূল্য পৌঁছেছে ২৩৫ ডলারে। এসব অঞ্চল ছাড়া বিশ্বের বাকি অঞ্চলগুলোয় স্মার্টফোনের গড় বিক্রয়মূল্য ৩২৮ ডলারে পৌঁছেছে। বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারের দুই মহারথী অ্যাপল ও স্যামসাং।

গত বছর এক নতুন যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে এ দুই প্রতিষ্ঠান। স্যামসাং নোট সিরিজের প্রিমিয়াম স্মার্টফোন গ্যালাক্সি নোট ৮ উন্মোচন করেছে। এতে উন্নত প্রযুক্তির ডিসপ্লে এবং আধুনিক ও সৃজনশীল কিছু নতুন ফিচার আনা হয়েছে। ডিভাইসটির সর্বনিম্ন মূল্য ৯৫০ ডলার। তবে বাড়তি র‌্যাম ও অভ্যন্তরীণ তথ্য সংরক্ষণ সুবিধার ওপর ভিত্তি করে এর জন্য আরো বেশি ডলার গুনতে হবে। গত সেপ্টেম্বরে প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপল একযোগে নতুন তিনটি আইফোন উন্মোচন করে। ডিভাইসগুলো হলো- আইফোন ৮, আইফোন ৮ প্লাস এবং আইফোন টেন। দশকপূর্তি সংস্করণ আইফোন টেনের ভিত্তিমূল্য ১ হাজার ডলার।

বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে দীর্ঘ সময় ধরে রাজত্ব করছে স্যামসাং ও অ্যাপল। গত দুই প্রতিষ্ঠানের ডিভাইস ব্যবসায় কিছুটা ব্যতিক্রম লক্ষ করা গেছে। বাজারটিতে এক সময় যে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি এ দুই প্রতিষ্ঠান উপভোগ করেছে, সে ধারাবাহিকতা এখন নেই। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশনের (আইডিসি) তথ্যমতে, বিশ্বব্যাপী গত বছর যে পরিমাণ স্মার্টফোন বিক্রি হয়েছিল, তাতে দুই প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত দখল ছিল ৩৬ শতাংশ। অথচ পাঁচ বছর আগেও বিশ্বব্যাপী বিক্রি হওয়া মোট স্মার্টফোন ডিভাইসের ৪৯ শতাংশই ছিল প্রতিষ্ঠান দুটির। গত বছর উভয় প্রতিষ্ঠানের স্মার্টফোন বিভাগের রাজস্ব আয় প্রবৃদ্ধিও কিছুটা কম দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের তথ্যমতে, রাজস্ব প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় ফিরতে তুলনামূলক দামি এজ-টু-এজ ডিসপ্লের স্মার্টফোনকেই গুরুত্ব দিচ্ছে অ্যাপল ও স্যামসাং। গ্যালাক্সি নোট ৮-এর মূল্য এর আগের সংস্করণ গ্যালাক্সি নোট ৭ স্মার্টফোনের সর্বনিম্ন মূল্যের চেয়ে ৮-১২ শতাংশ বেশি। ডিভাইস ব্যবসায় রাজস্ব প্রবৃদ্ধির ধারা ধরে রাখতে একই পথ অনুসরণ করেছে অ্যাপল। তথ্যমতে, স্যামসাং ও অ্যাপল উভয় কোম্পানিই ডিভাইসের ডিজাইন দিয়ে গ্রাহক আকর্ষণে সমর্থ হয়েছে। উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও আকর্ষণীয় ডিজাইনের এসব ডিভাইসের মূল্য গ্রাহকরা ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করেননি। গ্যালাক্সি নোট ৮ ভালো সাড়া ফেললেও প্রত্যাশা ছুঁতে ব্যর্থ হয়েছে আইফোন টেনের বিক্রি। ডিভাইসটির উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৫০ শতাংশ কমিয়ে ১ কোটি ৮০ লাখ থেকে ২ কোটি ইউনিট নির্ধারণের ঘোষণা দিয়েছে অ্যাপল।

:: ডটনেট ডেস্ক

ডট নেট'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj