ভুয়া অ্যাকাউন্ট

রবিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ফেসবুকের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২১৩ কোটিতে পৌঁছেছে, যা এক বছরর আগের চেয়ে ১৪ শতাংশ বেশি। ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ফেসবুকের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ছিল ১৮৬ কোটি। এ সময়ে ভুয়া অ্যাকাউন্ট ছিল ৬ শতাংশ বা ১১ কোটি ৪০ লাখ।

২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষে ফেসবুকের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ২১৩ কোটিতে পৌঁছেছে। কিন্তু জনপ্রিয় এ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটির বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারীর মধ্যে ভুয়া বা ডুপ্লিকেট অ্যাকাউন্ট রয়েছে প্রায় ২০ কোটি। সম্প্রতি ফেসবুক প্রকাশিত বার্ষিক এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানানো হয়েছে। খবর বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। ফেসবুকের ভাষ্যমতে, গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিক (অক্টোবর-ডিসেম্বর) পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর অন্তত ১০ শতাংশ ভুয়া অ্যাকাউন্টধারী। আর এসব অ্যাকাউন্ট ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের মতো দেশগুলোয় সবচেয়ে বেশি।

ফেসবুকের হিসাবমতে, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ফেসবুকের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২১৩ কোটিতে পৌঁছেছে, যা এক বছরর আগের চেয়ে ১৪ শতাংশ বেশি। ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ফেসবুকের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ছিল ১৮৬ কোটি। এ সময়ে ভুয়া অ্যাকাউন্ট ছিল ৬ শতাংশ বা ১১ কোটি ৪০ লাখ। ফেসবুক জানায়, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের ব্যবহারকারীরা ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে বেশি ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলেছে। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে বিশ্বব্যাপী প্রতিদিন গড়ে সক্রিয় ব্যবহারকারী ছিল ১২৩ কোটি, যা ২০১৭ সালের একই সময়ে ১৪ শতাংশ বেড়ে ১৪০ কোটিতে পৌঁছেছে। এ ছাড়া গত বছর ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও ব্রাজিলে আগের বছরের চেয়ে দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারী বেড়েছে। ফেসবুক ভুয়া অ্যাকাউন্টের সংজ্ঞায় বলেছে, একজন ব্যবহারকারী যখন তার আসল অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি অন্য অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে, তখন তাকে ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি ভুয়া অ্যাকাউন্টকে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করেছে। প্রথমত, ব্যবহারকারীর ভুল শ্রেণিবদ্ধ অ্যাকাউন্ট, যা ব্যবসা, প্রতিষ্ঠান কিংবা অন্য কোনো কাজে ব্যবহারের উদ্দেশে খোলা হয়। দ্বিতীয়ত, অনাকাক্সিক্ষত অ্যাকাউন্ট, যা ফেসবুকের নীতিমালা ভঙ্গ করে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য খোলা হয়। স্প্যামিংয়ের জন্য যেসব অ্যাকাউন্ট খোলা হয়, তা এ ধরনের অ্যাকাউন্টের আওতাধীন। ফেসবুক জানায়, সীমিত পরিসরের একটি নমুনা অ্যাকাউন্টের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে ভুয়া অ্যাকাউন্টের আনুমানিক হিসাব করা হয়েছে। ভুয়া অ্যাকাউন্টের হিসাবে উপনীত হতে বেশকিছু বিষয় খেয়াল রেখেছে তারা। ভুয়া অ্যাকাউন্টের যে আনুমানিক হিসাব দেয়া হয়েছে, তা শতভাগ সঠিক এমনটা বলা যায় না। কারণ ভুয়া অ্যাকাউন্ট হিসাব করা খুবই কঠিন কাজ। আনুমানিক হিসাব থেকে ভুয়া অ্যাকাউন্টের প্রকৃত সংখ্যা কম-বেশি হতে পারে। ডাটা সিগনাল যেমন- আইপি অ্যাড্রেস কিংবা ব্যবহারকারীর নাম পর্যালোচনা করে ভুয়া অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা হয়। গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রতিবেদনে ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গ বলেছিলেন, মন্দ কনটেন্ট ও মন্দ মানুষদের সরিয়ে ফেলতে তারা একটি নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) টুল আনতে যাচ্ছেন। এদিকে গত অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকের প্রতিবেদনে মার্ক জাকারবার্গ বলেছেন, ভুয়া সংবাদের বিরুদ্ধে নজর দেয়া তাদের অন্যতম এজেন্ডা। ফেসবুকে বর্তমানে ১৪ হাজার কর্মী এ ধরনের কনটেন্ট শনাক্তকরণ ও সরিয়ে ফেলতে কাজ করছেন। এ ক্ষেত্রে সফলতা এসেছে বলে ফেসবুক সিইও দাবি করেন। ভুয়া সংবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে গুগল, ফেসবুক ও টুইটারের মতো ইন্টারনেট জায়ান্টগুলো বেশ চাপের মধ্যে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময়ে রুশ সরকার ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রত্যক্ষ মদদে ফেসবুক ও টুইটারের প্লাটফর্ম ব্যবহার করে রুশ ব্যবহারকারীরা নির্বাচনের সময়ে ভুয়া সংবাদ ছড়িয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব প্লাটফর্মে ভুয়া সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হতে পেরেছেন, বিভিন্ন পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ উঠেছে। তাই এসব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য অনেকে প্রস্তাব করছেন।

:: ডটনেট ডেস্ক

ডট নেট'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj