টি-টোয়েন্টির নেতৃত্বে মাহমুদউল্লাহ

বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

ক্রীড়া প্রতিবেদক : আগামীকাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে টাইগাররা। ইনজুরি আক্রান্ত সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে দলের নেতৃত্ব থাকছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের কাঁধে। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে আঙুলে চোট পাওয়ার পর থেকেই মাঠের বাইরে সাকিব। গতকাল বিকেলে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন তামিম ইকবাল। অধিনায়ক সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন সাধারণত ম্যাচের আগের দিন। তামিম চলে আসায় অনেকে দুইয়ে-দুইয়ে চার মিলিয়েছেন, বাঁহাতি ওপেনারের অন্তত অধিনায়কত্ব করা হচ্ছে না।

সেটিই হলো। সন্ধ্যায় বিসিবি জানিয়েছে, সাকিবের অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেবেন মাহমুদউল্লাহ। অধিনায়কের নাম অনুমোদন করতে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের কাছে পরশু তামিম ও মাহমুদউল্লাহর নাম পাঠানো হয়েছিল। চিকিৎসার জন্য বিসিবি সভাপতি এ মুহূর্তে ইংল্যান্ডে। তার অনুমোদনের পরই জানিয়ে দেয়া হয়েছে মাহমুদউল্লাহর নাম। মাহমুদউল্লাহই হচ্ছেন বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে আঙুলে চোট পেয়ে টেস্ট সিরিজ থেকে ছিটকে যান সাকিব। প্রথম টি-টোয়েন্টিতেও থাকতে হচ্ছে দলের বাইরে। সাকিব আল হাসানকে নিয়েই ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করা হয়েছিল। এখন তার জায়গায় ডাক পেয়েছেন নাজমুল ইসলাম অপু।

টিম ম্যানেজমেন্টের প্রত্যাশা ছিল সিরিজ শুরুর আগেই সুস্থ হয়ে উঠবেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। কিন্তু সেরে উঠতে আরো দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। এমতাবস্থায় একজন বাঁহাতি স্পিনারের প্রয়োজনীতা অনুধাবন করে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আসন্ন টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জে ডাকা হয়েছে অপুকে। গতকাল এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে এ তথ্য জানায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এর আগে টেস্ট সিরিজেও সাকিবের জায়গায় ৩ জন স্পিনারকে নিয়েছিলেন নির্বাচকরা। যার মধ্যে বাঁহাতি স্পিনার ছিলেন ২ জন। সানজামুল ইসলাম প্রথম টেস্ট এবং আবদুর রাজ্জাক দ্বিতীয় টেস্ট খেলেছিলেন। তবে টি-টোয়েন্টির জন্য অপুকেই বিবেচনা করেছে বিসিবি। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে হার। এরপর হার টেস্ট সিরিজেও। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টাইগারদের সাফল্য বলতে গেলে শূন্যই। তাই টি-টোয়েন্টি সিরিজে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া বাংলাদেশ দল। লঙ্কানদের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার থিসারা পেরেরারও একই কথা। আগের দুই সিরিজের হারের ক্ষত ঘোচাতে টি-টোয়েন্টিতে ভিন্ন বাংলাদেশকে দেখা যাবে বলে মনে করেন তিনি। তারপরও এ সংস্করণে নিজেদের সাফল্যের কথা মনে করিয়ে দিয়ে নিজেদেরই ফেবারিট বলছেন এ অলরাউন্ডার।

অথচ ঘরের মাঠে শুরু থেকেই নিজেদের এগিয়ে রেখেছিলেন টাইগাররা। আদতে দেখা গেছে ওয়ানডে ও টেস্ট দুই সিরিজেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কুলিয়ে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ। তাই টি-টোয়েন্টিতে জিততে টাইগাররা মরিয়া হয়েই খেলবে বলে মনে করেন থিসারা, ক্রিকেট এমন একটা খেলা, যেটায় আপনি বলতে পারবেন না কারা জিতবে বা কারা হারবে। তবে যে দল কম ভুল করবে, মাঠে তারাই জিতবে। আমি জানি, বাংলাদেশ শক্তভাবে ফিরে আসার চেষ্টা করবে। কারণ এর আগে তারা ওয়ানডে ও টেস্ট- দুটি সিরিজ টানা হেরেছে। আমার মনে হয়, তারা আগের দুই সিরিজের চেয়ে ভালোভাবেই ফিরবে।

নিজেদের সম্মান রক্ষার্থে হলেও টি-টোয়েন্টি সিরিজে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বাংলাদেশ। তবে কাজটা বেশ কঠিনই হবে টাইগারদের জন্য। কারণ ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত এ সংস্করণে বেশ শক্তিশালী লঙ্কানরা। যদিও গত বছর কোনো সিরিজই জিততে পারেনি তারা। গত বছর বিক্ষিপ্ত থাকা দলটি এ বছরের শুরুতেই বাংলাদেশের বিপক্ষে টানা দুই সিরিজ জিতে নিয়েছে। তাই মোমেন্টাম এবং আত্মবিশ্বাস দুই-ই সফরকারীদের পক্ষে। আর সে বিশ্বাস থেকেই বেশ জোর দিয়ে নিজেদের ফেবারিট বললেন থিসারা, আমি একজন শ্রীলঙ্কান এবং আমি সব সময় বলি টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কা ফেবারিট।

খেলা-ধূলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj