ফোর-জি ইন্টারনেট : গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করাই চ্যালেঞ্জ

বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

দেশে ফোর-জি বা চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল এবং ইন্টারনেট সেবা চালু হতে যাচ্ছে শিগগিরই। ইতোমধ্যে ফোর-জি বেতার তরঙ্গ বিক্রির জন্য নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফেব্রুয়ারির ২০ তারিখের মধ্যেই সম্পন্ন হয়ে যাবে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও অনুমোদন দানের প্রক্রিয়া। এরপরই অপারেটররা ফোর-জি সেবাদান শুরু করতে পারবে। দেশে ফোর-জি মোবাইল ফোনসেবা চালু হচ্ছে এটি নিঃসন্দেহে একটি ভালো খবর। এর মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আরেক ধাপ এগোল দেশ। তবে ফোর-জি নামে মাত্র চালুই যথেষ্ট হবে না, এই সেবা ঠিকঠাক মতো এবং সুলভে প্রাপ্তি নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ নিতে হবে সংশ্লিষ্টদের।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি) গত মঙ্গলবার ফোর-জির জন্য তরঙ্গ নিলাম অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ওই নিলামে অংশ নিতে এর আগে গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, টেলিটক, সিটিসেল (প্যাসেফিক টেলিকম) ও রবি আজিয়াটা আবেদন করলেও শেষ পর্যন্ত টেলিটক, সিটিসেল (প্যাসেফিক টেলিকম) ও রবি আজিয়াটা অংশ নেয়নি। বাংলালিংক ও গ্রামীণফোন মোট ৩ হাজার ৮৪৪ কোটি টাকায় ফোর-জি তরঙ্গ কিনেছে। বাংলালিংক ১ হাজার ১১৯ কোটি টাকায় ২ হাজার ১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড এবং ১ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকায় ১ হাজার ৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের মোট ১০.৬ মেগাহার্টজ তরঙ্গ কিনেছে। আর গ্রামীণফোন ১ হাজার ২৮৪ কোটি টাকায় কিনেছে ১ হাজার ৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের ৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গ। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপারেটর রবির হাতে পর্যাপ্ত তরঙ্গ থাকায় তারা নতুন করে তরঙ্গ কেনেনি। এ অপারেটর প্রযুক্তি নিরপেক্ষতায় রূপান্তর করে ফোরজি সেবা দেয়ার পরিকল্পনা করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটক ফোর-জি সেবায় আসতে চাইলে তাদেরও প্রযুক্তি নিরপেক্ষতার অনুমতি নিতে হবে। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ বলা যায় ২০ ফেব্রুয়ারিই আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত হচ্ছে অপারেটরদের জন্য ফোর-জি ইন্টারনেট সেবাদানের সুযোগ।

তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, দেশে মোবাইল ফোন অপারেটররা যেখানে থ্রি-জি সেবা ঠিকমতো দিতে পারছে না, সেখানে এই নতুন সেবা কতটা দিতে পারবে। বর্তমানে দেশে কোনো অপারেটরই গ্রাহকদের মান সম্পন্ন থ্রি-জি সেবা দিতে পারছে না। সাধারণভাবে থ্রি-জির সেবাগুলো সাশ্রয়ী হওয়ার কথা ছিল। এতদিন অপারেটরগুলো যে সেবা দিয়ে আসছে তা যথেষ্ট সাশ্রয়ী নয়। ফোর-জি বেলায় কি একই অবস্থা হবে? এরকম নানা প্রশ্ন গ্রাহকদের মাঝে ঘুরপাক খাচ্ছে। আর এই নিম্নমানের সেবার কারণে সরকারও অপারেটরের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে সেটাও আমাদের জানা নেই। অপারেটর কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগের যেন অন্ত নেই। অতিরিক্ত অর্থ কেটে নেয়া থেকে শুরু করে নানা অভিযোগ হামেশাই আসছে গণমাধ্যমে। মূলত নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্নতা, নিম্নমানের ভয়েস সেবা, কল ড্রপ, এসএমএস আদান-প্রদানে সময়ক্ষেপণ ও নানা প্রলোভন দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ কেটে নেয়ার অভিযোগগুলোই বেশি। এমন অবস্থা কাম্য ছিল না। গ্রাহক স্বার্থ রক্ষায় নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে আরো কঠোর হতে হবে। প্রয়োজনে অভিযোগের ধরন বিবেচনায় জরিমানাসহ শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। ফোর-জির মানসম্মত সেবা ও সুলভ সাশ্রয়ী রেট নিশ্চিত করতে হবে। গ্রাহক স্বার্থ রক্ষায় বিটিআরসি আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন ও তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করবে এমনই প্রত্যাশা করছি।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj