রোহিঙ্গা ডাকাত হাকিমকে প্রতিরোধের ডাক

বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

শাহীন শাহ, টেকনাফ (কক্সবাজার) : টেকনাফে রোহিঙ্গা ডাকাত আবদুল হাকিমের নানা ক‚কর্মের তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। এ সবের মধ্যে রয়েছে ধর্ষণ, গুম, খুন ও অপহরণ। কুখ্যাত এই ডাকাত রোহিঙ্গা হাকিমের বিরুদ্ধে জনতা প্রতিরোধের ডাক দিয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে টেকনাফ উপজেলা পরিষদের শহীদ মিনার চত্বরে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পুরান পল্লানপাড়া, নতুন পল্লানপাড়া, নাইট্যংপাড়া, ইসলামাবাদ ও ধুমপ্রাংবিল এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকার শত শত নারী-পুরুষ ও যুবক স্বতঃস্ফ‚র্তভাবে অংশ গ্রহণ করে প্রতিবাদ জানান।

সভায় ২নং ওয়ার্ডের স্থানীয় কাউন্সিলরা বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, অনেক মায়ের বুক খালি করেছে, নারীদের ইজ্জত কেড়েছে, অপহরণ করে লাখ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করেছে এই হাকিম ডাকাত। কিছু দেশীয় দালালের কারণে এলাকাবাসীর ঘুম হারাম হয়েছে। এ দালালদের প্রতি হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন বক্তারা। আরো বলেন, এই ডাকাতের ভয়ে ৩৫ পরিবার এলাকা ছাড়া হয়েছে। এবার প্রতিরোধ করা হবে। এখন থেকে সাবধান হয়ে যাও, নয়তো প্রাণ থাকবে না। বক্তারা আরো বলেন, তার হাতে এ পর্যন্ত সাবেক মেম্বারসহ অনেকে হত্যার শিকার হয়েছে। অপহরণ হয়েছে অনেক যুবক, ধর্ষণের শিকার হয়েছে অসংখ্য যুবতী। এদিকে গত সোমবার দুর্ধর্ষ রোহিঙ্গা ডাকাত আবদুল হাকিম ও তার সহযোগীদের বিক্ষুব্ধ জনতা সংঘবদ্ধ হয়ে বৈদ্দঘোনা এলাকায় ৪টি, মোনাফ ঘোনায় ১টি, মায়মুনা প্রাইমারি স্কুল ও স্থানীয় মো. হারেছ কাউন্সিলরের বাসা সংলগ্ন ২টি বসতবাড়ি ভাংচুর করে।

গত শুক্রবার স্থানীয় এক যুবককে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণের ঘটনায় এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পুলিশ ও জনতা গত রোববার পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে ওই যুবককে উদ্ধার করে। প্রতিশোধ নিতে হাকিম ডাকাত যে কোনো সময় রাতের অন্ধকারে স্থানীয়দের ওপর হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হাকিম ডাকাত গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত এ আতঙ্ক কাটবে না বলেও জানান এলাকাবাসী। তাই রাতের বেলায় এলাকার যুবকরা রাত জেগে পাহারার ব্যবস্থা করছে বলে জানা গেছে।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj