অফিস ভবনের নির্মাণকাজ বাধাগ্রস্ত : তাড়াশের বস্তুল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের জায়গা বেদখল

বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

এম মামুন হুসাইন, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) থেকে : তাড়াশ উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের বস্তুল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নিজস্ব জায়গায় অবৈধ দখলকারীদের কবলে থাকায় ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অপরদিকে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা অবৈধ দখলকারীদের জায়গা ছেড়ে দিতে বলায় তারা উল্টো তার বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে লিখিত অভিযোগ করে হয়রানি করছে।

সরেজমিন জানা যায়, উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের ভূমি অফিসটি বস্তুল গ্রামে অবস্থিত। বস্তুল ভূমি অফিসের দলিল করা রেকর্ডভুক্ত নিজস্ব জায়গায় বর্তমানে আধাপাকা ঘরে অফিসের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে কর্তৃপক্ষ। ওই ভূমি অফিসের আর এস খতিয়ান-নং ১, আরএস দাগ ১১৭৫। জমির পরিমাণ ২৯ শতক।

অভিযোগ রয়েছে, বস্তুল গ্রামের প্রভাবশালী দখলকারী মফিজ আল মাদানীর ছেলে আব্দুল ওয়াদুদ হাজী, খান মাহমুদের ছেলে খয়বর আলী, কানাই লাল হরিদাসের ছেলে বিমল কুমার হরিদাস, আবু বক্কারের ছেলে আব্দুর রহমান এবং ঠাণ্ডু মিয়া বস্তুল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের প্রায় ৬-৭ শতক জায়গা অবৈধভাবে দখল করে দোকান ঘর নির্মাণ করে ব্যবসা করছে। ইতোমধ্যে বস্তুল ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণের জন্য সরকারিভাবে প্রায় ৬২ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে।

এর আগে বস্তুল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের জায়গা থেকে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান খান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মনসুর উদ্দিন অবৈধ দখলকারী চাঁদ আলীসহ ২ জনকে উচ্ছেদ করেন। ইতোমধ্যে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফেরদৌস ইসলাম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আহসান হাবিব জিতু বস্তুল ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শন করেছেন এবং অবৈধ দখলকারীদের নির্মাণ করা দোকানঘর সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ নিয়েছেন। ভূমি অফিসের জায়গা থেকে দোকান সরিয়ে নেয়ার জন্য ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মুস্তাগীর কবির তাদের মৌখিকভাবে বলায় প্রভাবশালীরা তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছেন।

এলাকাবাসী জানান, যারা অবৈধভাবে ভূমি অফিসের জায়গা দখল করে আছেন কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে আমরা তাদের সহযোগিতা করব। বস্তুল ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মুস্তাগীর কবির জানান, সরকারিভাবে বস্তুল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নতুন ভবন নির্মাণ করার জন্য প্রায় ৬২ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। অল্প দিনের মধ্যেই ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে। ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণের জন্য ভূমি অফিসের সব জায়গাই প্রয়োজন। অফিসের চারদিকে বাউন্ডি দেয়া হবে। আমি দখলকারীদের মৌখিকভাবে বলায় তারা উল্টো আমার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়ে আমাকে নানাভাবে হয়রানি করছে। বিষয়টি আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফেরদৌস ইসলাম জানান, বস্তুল ভূমি অফিসের জায়গায় অবৈধ দখলকারীদের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj