ভোরের কাগজের ২৬ বছর >> সম্ভাবনার পথে অগ্রযাত্রা : শ্যামল দত্ত

বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

খালেদা জিয়া এখন জেলে। এর প্রতিবাদে অনশন চলছে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে, বিএনপির উদ্যোগে। প্রধানমন্ত্রী ইতালিতে প্রবাসীদের উদ্দেশে বলেছেন, রায় আদালতের, সরকারের কী করার আছে। রায়ের সার্টিফাইড কপি পাওয়া যায়নি আজও, হতাশ বিএনপির আইনজীবীরা। বিএনপির শান্তিপূর্ণ অনশন নির্ধারিত সময়ের ৩ ঘণ্টা আগেই শেষ, পুলিশের সহযোগিতায় বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলছে গত কয়েক দিন ধরে- এ নিয়ে নানা গুঞ্জন রাজনৈতিক মহলে। হঠাৎ বাংলাদেশের রাজনীতি এমন সহমর্মিতাপূর্ণ হয়ে উঠল কেন? নানা মহলে এখন ঘুরপাক খাচ্ছে এই প্রশ্ন। এখনো অনিশ্চিত এক সময়ের দিকেই আমরা যাচ্ছি- এমন বিশ্লেষণ রাজনৈতিক বোদ্ধাদের। গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে বুদ্ধিজীবীরা বলছেন- দেশের সামনে এখন ঘোর ক্রান্তিকাল। সমঝোতার যে আশাটুকু ছিল, তাও শেষ খালেদা জিয়ার কারাবাসের মধ্য দিয়ে।

মানুষের মনের মধ্যে কী আছে, তা বোঝার কোনো উপায় তো নেই- তবে সব কিছু নিয়ে এক ধরনের নিস্পৃহতা লক্ষ্য করার মতো। একের পর এক প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছেই, ঠেকানো যাচ্ছে না কোনোভাবে। ঠেকানোর কী উপায় ভাবা হচ্ছে, তাও জানার উপায় নেই। একবার বলে ফেসবুক বন্ধ, কখনো সিদ্ধান্ত ইন্টারনেটের গতি শ্লথ করার। কিছুই কাজে আসছে না। মানুষের মনের মধ্যে প্রশ্ন- ২ কোটি টাকার দুর্নীতির বিচার- খুবই ভালো কথা, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এক টাকার অপরাধেরও বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু হাজার কোটি টাকা যারা লোপাট করছে, তাদের বিচার হবে কি- এই প্রশ্নের মুখোমুখি হই আমরা গণমাধ্যমকর্মীরা। ব্যাংক খাতের অবস্থা নিয়ে না ভাবাই ভালো। ভাবলেই মাথা চক্কর দেয়। হাজার কোটি না লাখ কোটি- তা নিয়ে বিতর্ক। বেশি বললেই আবার রাবিশ বা বোগাস গালি শুনতে হতে পারে। এমন এক অস্থির সময়ে আমরা প্রবেশ করছি ২৭ বছরে। আমরা অর্থাৎ ভোরের কাগজ- যারা এ রকম অস্থির সময়কে সামনে নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলাম ১৯৯২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি। গত বছর আমরা ২৫ বছর পূর্তি উৎসব করেছিলাম জাঁকজমকভাবে। ২৬ বছর পূর্তির আয়োজন তাই কিছুটা ঘরোয়াভাবে, বিগত বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল শান্ত, আমরাও কাটিয়েছি কিছুটা স্বস্তির সময়। অস্থিরতা শুধু অন্য জায়গায়। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে, সেটা দেশের ক্ষেত্রে যেমন সত্যি, গণমাধ্যমের ক্ষেত্রেও একই, সবাই তাকিয়ে আছে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের দিকে। যখন নির্বাচন হবে- প্রধানমন্ত্রী তো বলেছেন- সবাইকে নিয়ে নির্বাচনের কথা। কীভাবে হবে সেটা- বিএনপি তো শর্ত দিয়েছে নির্বাচনে অংশগ্রহণের। গণমাধ্যমে অনিশ্চিয়তা অন্য বিষয়ে। মুদ্রণ গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন কমছে দিন দিন, পাঠক ঝুঁকে পড়ছে ইলেকট্রনিক মিডিয়া-সোশ্যাল মিডিয়ায়।

সোশ্যাল মিডিয়ার বিস্তার ঘটছে সামাজিক ব্যাধির মতো। গবেষকরা বলছেন, মাদকের নেশার চাইতেও ভয়াবহ সোশ্যাল মিডিয়ার নেশা- এমন আশঙ্কা করছেন অনেকেই। ডাভোসে বিশ^নেতাদের বৈঠকে সম্প্রতি এমন আশঙ্কা জানিয়েছেন নেতারা। সমাজে সমাজে, রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে সংঘাত ছড়াচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া- এমন আতঙ্ক ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে।

সংকট আছে, ভয়াবহতাও আছে। তাই বলে সোশ্যাল মিডিয়াকে ঠেকানোর কোনো পথ আপাতত নেই। তাই আমরাও মনে করি, মুদ্রণ গণমাধ্যমকেও আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে হবে। প্রযুক্তির ইতিবাচক দিক নিতে হবে, নেতিবাচক দিক পরিহার করতে হবে। এ কথা আমাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ফেসবুকের পোস্টকে কেন্দ্র করে। আর এটাও আমরা ভুলব না- আমরা এমন একটা দেশের গণমাধ্যমে কাজ করি- যে দেশের মানুষ বিশ^াস করে চাঁদের মধ্যে সাঈদীকে দেখা সম্ভব, এমন এক অসম্ভব বাস্তবতার মধ্যে আমাদের এগুতে হচ্ছে গণমাধ্যমকে নিয়ে। আশার জায়গা যে একেবারেই নেই তা নয়, গণজাগরণ মঞ্চ তার বড় প্রমাণ। সেই আশা নিয়েই ভোরের কাগজ পা বাড়াচ্ছে আগামীর পথে, অনন্তের যাত্রী হয়ে, এই যাত্রায় আপনারা সবাই সহযোগী। পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা সবার ভালোবাসায় এগিয়ে যাবে ভোরের কাগজ। প্রতিষ্ঠার দিনে তাই সবাইকে নিরন্তর শুভেচ্ছা।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj