ইতালিতে প্রধানমন্ত্রী : দুর্নীতিবাজদের বিচার হতেই হবে

বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

কাগজ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দুর্নীতি যারা করবে, সন্ত্রাস যারা করবে, জঙ্গিবাদের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিচার হতেই হবে। গত মঙ্গলবার রোমের পারকো দেই প্রিনচিপি গ্র্যান্ড হোটেলে ইতালি আওয়ামী লীগ আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি ইতালি সফরে ভ্যাটিকানে পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে বৈঠক এবং আইএফএডির পরিচালনা পর্ষদের সভায় যোগ দেন। ইতালি আওয়ামী লীগের সভাপতি ইদ্রিস ফারাজির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী প্রমুখ।

দুর্নীতির মামলায় দণ্ড পেয়ে কারাগারে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, তার দুই ছেলে তারেক রহমান ও প্রয়াত আরাফাত রহমান এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে নির্বাচন প্রতিরোধ ও সরকার পতনের নামে এই বিএনপি জ্বালাও-পোড়াও ও অগ্নিসংযোগ শুরু করে। ২০১৩ সালে একইভাবে তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়। এই সময়ে তারা আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়েছে। প্রায় তিন হাজারের উপরে মানুষকে তারা আগুন দিয়ে ঝলসে দিয়েছে। ওই তিন বছরে প্রায় পাঁচশর কাছাকাছি মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। পুলিশ, বিজিবি, সেনা সদস্যকে পুড়িয়ে মেরেছে। সারা বাংলাদেশে এই ধরনের তাণ্ডব তারা করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আদালত রায় দিয়েছেন। এখানে আমাদের তো করার কিছু নেই। আর আমরা যদি করতামই ২০০৮ সালে যখন ক্ষমতায় আসলাম, তখনই তো করতে পারতাম। আমাদের বিচার বিভাগ স্বাধীন।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার দুই ছেলে অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত। যাদের টাকা আমরা ফেরত এনেছি। উনি (খালেদা জিয়া) প্রধানমন্ত্রী হয়ে কালো টাকা সাদা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী যেমন করেছেন, তার দুই ছেলে কালো টাকা সাদা করেছেন।

বিএনপি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় নিজের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রত্যেকটা মামলা তদন্ত হয়েছিল এবং সেই মামলায় কিছু পায় নাই। আমি বলতেই পারি, আমি আমার ছোট বোন আমাদের ছেলেমেয়ে কখনো এমন কোনো কাজ করিনি, যাতে বাংলাদেশের মানুষের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়।

তিনি বলেন, ২০০১ সালে আমরা ক্ষমতায় আসতে পারলাম না। ষড়যন্ত্র করে আসতে দেয়নি। তার কারণ ছিল গ্যাসের মালিক বাংলাদেশ, বিক্রি করবে আমেরিকা আর তা কিনবে ভারত। আমি এই মুচলেকায় সই দেই নাই। আর খালেদা জিয়া ‘দেশের সম্পদ বিক্রির মুচলেকায় সই দিয়েছিল’ বলেই ক্ষমতায় আসতে পেরেছিল।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj