বিলাইছড়িতে মারমা নারী ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের বিচারের দাবি

শনিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

কাগজ প্রতিবেদক : রাঙামাটির বিলাইছড়িতে দুই মারমা নারী ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদ ও বিচারের দাবি জানিয়েছে তিনটি নারী সংগঠন- সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম, সিপিবি নারী সেল ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন। গতকাল শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে নারী ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে আয়োজিত এক গোল টেবিল বৈঠকে এ দাবি জানানো হয়েছে।

তিন নারী সংগঠন আয়োজিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শম্পা বসু।

বৈঠক সঞ্চালনা করেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি নিরূপা চাকমা। আলোচনায় অংশ নেন তেল-গ্যাস-খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. আকমল হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. আমেনা মোহসিন, ব্যারিস্টার সাদিয়া আরমান, লেখক রেহনুমা আহমেদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ড. বিনা শিকদার, গবেষক সায়দিয়া গুলরুখ, শ্রমজীবী নারী মৈত্রীর আহ্বায়ক বহ্নিশিখা জামালী, নারী সংহতির সাধারণ সম্পাদক অপরাজিতা চন্দ, বিপ্লবী নারী ফোরামের সদস্য আমেনা আক্তার, বাংলাদেশ নারী মৈত্রী কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় সদস্য নাঈমা খালেদ মনিকা, ইউপিডিএফ সংগঠক মাইকেল চাকমা, সংস্কৃতি কর্মী বীথি ঘোষ, লেখক শিবিরের সদস্য দীপা মল্লিক ও মারমা স্টুডেন্ট কাউন্সিলের ঢাকা শাখার সভাপতি নুমং প্রæ মারমাসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা। বৈঠকের সঙ্গে সংহতি ও একাত্মতা প্রকাশ করে উপস্থিত ছিলেন- গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সভাপতি অংগ্য মারমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি বিনয়ন চাকমা ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি ইমরান হাবিব রুমন।

বৈঠক থেকে অনতিবিলম্বে ধর্ষণের ডাক্তারি রিপোর্ট প্রদান করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানানো হয়। নিপীড়িত মারমা দুই বোনকে দ্রুত চাকমা রাজা-রানীর হেফাজতে দেওয়া, তাদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা, নির্যাতকদের নারী নির্যাতন দমন আইনে বিচার করা এবং নির্যাতিত মেয়েদের এবং তাদের অভিভাবকদের ওপর হয়রানি বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।

বক্তারা বলেন, গত ২১ জানুয়ারি দিবাগত রাত দেড়টায় রাঙামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার ওরাছড়ি গ্রামে তল্লাশি চালানোর নামে বাড়িতে ঢুকে অস্ত্রের মুখে দুই মারমা বোনকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন করা হয়। নিপীড়নের শিকার ঐ দুই বোন রাঙামাটি সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়। ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনার পর প্রায় ১ মাস পার হতে যাচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের গ্রেপ্তার বা তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

বলা হয়, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা নিপীড়নের শিকার দুই বোন চাকমা রাজা-রানীর হেফাজতে যেতে চেয়েছে। কিন্তু তাদের সেখানে যেতে বাধা প্রদান করা হচ্ছে। হাসপাতালে পুলিশ ঐ দুই বোনকে আসামির মতো সশস্ত্র প্রহরা ও কঠোর গোয়েন্দা নজরদারিতে রেখেছিল। অভিভাবকদেরও গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছিল, যা মানবাধিকার পরিপন্থী। এসব কারণে সুষ্ঠু বিচার পাওয়া নিয়ে বক্তারা গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেন।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj