×

চট্টগ্রাম

খাগড়াছড়িতে ১৪৪ ধারা জারি

শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার পর পাহাড়ি-বাঙালিদের উত্তেজনা

Icon

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার পর পাহাড়ি-বাঙালিদের উত্তেজনা

ছবি : ভোরের কাগজ

পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে ধর্ষণের অভিযোগে এক শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার পর পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে খাগড়াছড়ি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের আবুল হাসনাত মুহাম্মদ সোহেল রানা নামের ওই শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর পাহাড়ি ও বাঙালিরা খাগড়াছড়ি সদরে আবার মুখোমুখি অবস্থান নেন। দুই পক্ষই পৃথক মিছিল বের করে। সদরের মহাজনপাড়ার কয়েকটি দোকানেও ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া একটি বাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে। এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার পর পাহাড়ি-বাঙালি স¤প্রদায়ের মধ্যে সংঘাত হয়।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান বলেন, এক শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে উত্তেজনা দেখা দেয়। ধর্ষণের অভিযোগে তাকে পিটুনি দেয়া হয়। এরপর বেলা ৩টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

নিহত শিক্ষক সোহেল রানা প্রতিষ্ঠানটির বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন ও সেফটি বিভাগের চিফ ইনস্ট্রাক্টর ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি সদরের খেজুরবাগান এলাকায়। এর আগে ২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সোহেল রানার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি কিছুদিন কারাগারে ছিলেন। এরপর একই প্রতিষ্ঠানে তিনি যেন আবার যোগদান না করেন, সে জন্য শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছিল। গতকাল মঙ্গলবার আবার তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর স্কুলটির শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করতে থাকে। একপর্যায়ে সোহেল রানাকে অধ্যক্ষের কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে অধ্যক্ষের কক্ষে ঢুকে ১০-১৫ জন পাহাড়ি তরুণ অভিযুক্ত শিক্ষক সোহেল রানাকে এলোপাথাড়ি মারতে থাকেন। এ সময় তাকে পুলিশসহ কয়েকজন রক্ষা করতে গিয়ে ব্যর্থ হন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রিপল বাপ্পি চাকমা বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই ওই ব্যক্তি মারা গেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে। খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল বাতেন মৃধা বলেন, উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করতে গিয়ে আমিও মার খেয়েছি। এখন ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। পরিস্থিতি বেশ উত্তেজনাকর।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর ভোরে খাগড়াছড়িতে মো. মামুন (৩০) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল বের হলে ঘটনার সূত্রপাত হয়। এরপর অশান্ত হয়ে ওঠে পাহাড়। যার জেরে পরবর্তীতে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুই জেলায় (খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি) ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। এ ঘটনায় খাগড়াছড়িতে তিনজন নিহত হন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

আবারো কি এস আলমে ফিরতে পারে মালিকানা?

ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে উত্তাল সংসদ আবারো কি এস আলমে ফিরতে পারে মালিকানা?

উত্তরায় ক্যাসিনো নির্মূলে সাঁড়াশি অভিযানে ডিএমপি

ফলোআপ উত্তরায় ক্যাসিনো নির্মূলে সাঁড়াশি অভিযানে ডিএমপি

৪ বছর পর দলে ফিরে ম্যাচসেরা হয়ে যা বললেন মোসাদ্দেক

৪ বছর পর দলে ফিরে ম্যাচসেরা হয়ে যা বললেন মোসাদ্দেক

পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত

পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App