×

সারাদেশ

ঈদের পঞ্চম দিনেও পর্যটকে মুখর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত

Icon

আনোয়ার হোসেন আনু, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী প্রতিনিধি)

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৪, ০৯:৫৬ পিএম

ঈদের পঞ্চম দিনেও পর্যটকে মুখর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত

ছবি: ভোরের কাগজ

বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে ঈদুল আজহার পঞ্চম দিনেও কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত হাজার হাজার পর্যটক দর্শনার্থীদের ভীড়ে মুখর রয়েছে। ঈদের তৃতীয় দিন বিকেল থেকে নানা বয়সী পর্যটকরা সমুদ্র সৈকতে আসতে শুরু করে। বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া মাথায় নিয়ে অসংখ্য পর্যটক দর্শনার্থীদের আগমনে প্রাণচাঞ্চল্যতা ফিরে পেয়েছে পর্যটন নগরী কুয়াকাটা। ঈদের প্রথম ও দ্বিতীয় দিন পর্যটক দর্শনার্থীদের ভীড় কম থাকায় হতাশ হয়েছিলেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের হতাশা কাটিয়ে টানা বৃষ্টির মধ্যেও সমুদ্রের একটু পরশ পেতে পরিবার, পরিজন এবং বন্ধুবান্ধব নিয়ে সাগরকন্যা কুয়াকাটায় ছুটে আসে শত শত ভ্রমণ প্রিয় মানুষ। আর এতে হাসি ফুটে উঠেছে পর্যটন নির্ভরশীল বিনিয়োগকারীদের মুখে। 

প্রথম শ্রেণীর আবাসিক হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট গুলো সবই বুকিং রয়েছে। তবে তৃতীয় শ্রেণীর হোটেল গুলোতেও ৭০-৮০ ভাগ রুম ভাড়া রয়েছে বলে জানিয়েছেন হোটেল-মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশন। এমন ভীড় থাকবে আগামী শনিবার পর্যন্ত এমনটাই আশা পর্যটন ব্যবসায়ীদের। ঈদের পঞ্চম দিন পর্যন্ত দুই লক্ষাধিক পর্যটক দর্শনার্থীদের আগমন ঘটেছে বলে ধারণা স্থানীয়দের। টানা ছুটি থাকায় পর্যটক দর্শনার্থীদের এমন ভীড় জমেছে।

আরো পড়ুন: দেওয়ানগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

ছবি: ভোরের কাগজ

ঈদের চতুর্থ এবং পঞ্চম দিনে পর্যটক দর্শনার্থীদের ভীড় আরো বাড়তে থাকে। তবে ঈদের পঞ্চম দিনে রোদ ও মেঘের লুকোচুরি যেনো একটু স্বস্তি এনে দিয়েছে। বৃষ্টি না থাকায় সব স্পটগুলো ঘুরে দেখতে পেরে খুশি পর্যটকরা। আগত এসব পর্যটকরা উত্তাল সমুদ্রের বড় বড় ঢেউ এবং ঢেউয়ের গর্জন শুনে উম্মাদনায় মেতে ওঠে। তুমুল বৃষ্টিতে সমুদ্রে গোসল, হই হুল্লোড়ে মেতে ওঠে। তবে ভিন্নতাও রয়েছে। শিশু কিশোরদের নিয়ে ভ্রমণে আসা অনেক পর্যটকরা হোটেল কক্ষ থেকে বের হননি। বৃষ্টি ঝড়ো হাওয়া দুর্ভোগে ফেলেছে বেশিরভাগ পর্যটকদের। এরপরও যেনো কোনো অভিযোগ অনুযোগ নেই পর্যটকদের। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনার কথাও জানিয়েছেন পর্যটক দর্শনার্থীরা।

বর্ষার সমুদ্র এবং সমুদ্রের এমন রুদ্র মুর্তি যেনো পর্যটকরা ভয়ের পরিবর্তে উপভোগ করেছে। সবচেয়ে শিশু কিশোরদের মধ্যে আনন্দ উম্মাদনা ছিলো বেশি। বড়দের পাশাপাশি সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে গড়াগড়ি, বালিয়াড়িতে পিরামিড তৈরীসহ খেলাধুলায় ব্যস্ত সময় পার করেছে শিশু কিশোররা। ঝড়ো হাওয়া বৃষ্টি যেনো তাদের আরো আনন্দ বাড়িয়ে দিয়েছে। 

ছবি: ভোরের কাগজ

প্রকৃতিকে দর্শনের পাশপাশি সমুদ্র উপভোগ করতে পারলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সূর্যোদয় সূর্যাস্ত উপভাগ করতে না পেরে অনেক পর্যটক আফসোস করেছে। তবে আনন্দ উল্লাসের কমতি ছিলো না। বেঞ্চিতে বসে সেলফি তুলে অথবা ফটো গ্রাফারের ক্যামেরায় ছবি তুলে ফোন মেমোরিতে করে নিয়ে যাচ্ছে এমন সুন্দর মুহুর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে। তিন নদীর মোহনা, লেম্বুর বন, ঝাউবাগান, গঙ্গামতি সৈকত, লাল কাকড়ার চর, রাখাইন পল্লী, কুয়াকাটার কুয়া, রাখাইন মহিলা মার্কেট সহ সব পর্যটন স্পটে রয়েছে এখন পর্যটকদের সরব উপস্থিতি। বিক্রি বেড়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। আগতদের নিরাপত্তায় ট্যুরিষ্ট পুলিশ, নৌ-পুলিশ, থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তৎপর রয়েছে।

ঢাকা থেকে আগত জাতীয় দৈনিক প্রথম সূর্যোদয় পত্রিকার সম্পাদক আরিফিন বলেন, স্ত্রী এবং বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই মেয়ে নিয়ে কুয়াকাটায় ভ্রমণে এসেছেন তিনি। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমুদ্র এবং সমুদ্রের বড় বড় ঢেউ তাদেরকে বিমোহিত করেছে। তবে বৃষ্টি ও জড়ো হাওয়ার কারণে দর্শনীয় স্পট গুলো ঘুরে দেখতে পারেননি তারা। তিনি বলেন, এই পর্যটন কেন্দ্রটি এখনো অগোছালো অবস্থায় রয়েছে। সরকার উদ্যোগ নিলে কুয়াকাটায় পর্যটকসহ বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আরো বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

আরো পড়ুন: সখীপুরে হাটে-বাজারে মিলছে না কাঁঠালের কাঙ্ক্ষিত দাম

ছবি: ভোরের কাগজ

সমুদ্র লাগোয়া আবাসিক হোটেল সৈকতের মালিক রোটারিয়ান জিয়াউর রহমান জানান, তার হোটেল ঈদের তৃতীয় দিন থেকে বুকিং রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে শত শত পর্যটকরা ভ্রমণে এসে বৃষ্টির কারণে অনেকেই রুম থেকে বের হয়নি। তিনি আরো জানান, বৈরী আবহাওয়া না থাকলে পর্যটক দর্শনার্থীদের ভীড় আরো বেশি থাকতো।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের সেক্রেটারী জেনারেল মোতালেব শরীফ জানান, তাদের এসোসিয়েশন ভুক্ত আবাসিক হোটেল গুলোর বেশিরভাগই বুকিং রয়েছে। তবে এসোসিয়েশন ভুক্ত নয় এমন নিন্ম মানের হোটেল গুলোতে শত ভাগ বুকিং না হলেও ৭০-৮০ ভাগ কক্ষই বুকিং ছিলো। তিনি জানান, এমন ভীড় শনিবার পর্যন্ত থাকবে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিওয়নের পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, ঈদুল আজহার ছুটিতে আগত অসংখ্য পর্যটক দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষনিক নজর রেখেছে। বিভিন্ন দর্শনীয় স্পট গুলোতে ভ্রাম্যমান টিম, সাদা পোশাকে টহলসহ সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে বীচ এলাকা মনিটরিং করা হচ্ছে। এছাড়াও ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি থানা পুলিশসহ অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সড়ক পথ এবং দর্শনীয় স্পট গুলোতে বিশেষ নজর রেখেছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর তাদের কাছে আসেনি। পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিতে কাজ করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। এর পাশাপাশি বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটিও তৎপর রয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

অবৈধ অটোরিকশার চার্জিং পয়েন্টের সঙ্গে জড়িত কারা, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অবৈধ অটোরিকশার চার্জিং পয়েন্টের সঙ্গে জড়িত কারা, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পুরোনো পাতায় নতুন গল্প: সোনাদীঘির অর্ধশতকের পাঠশালা

পুরোনো পাতায় নতুন গল্প: সোনাদীঘির অর্ধশতকের পাঠশালা

পুলিশ সদস্যের বাসায় মিলল ৯০ হাজার পিস ইয়াবা

পুলিশ সদস্যের বাসায় মিলল ৯০ হাজার পিস ইয়াবা

এশিয়ান গেমসের সূচি প্রকাশ, কবে লড়বে বাংলাদেশ?

এশিয়ান গেমসের সূচি প্রকাশ, কবে লড়বে বাংলাদেশ?

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App