শেখ হাসিনাকে নিয়ে তসলিমার বিস্ফোরক মন্তব্য, আনলেন নানা অভিযোগ

কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারি ২০২৫, ০৩:০৫ পিএম

ছবি: সংগৃহীত
গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তীব্র সমালোচনা করেছেন নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তার বিতর্কিত বই নিষিদ্ধ করা থেকে শুরু করে, পৈতৃক ভিটা থেকে উচ্ছেদ করা নিয়ে শেখ হাসিনাকে দায়ী করেছেন তিনি।
শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন তসলিমা নাসরিন। যেখানে হাসিনাকে ঘিরে নানা প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন তিনি।
ফেসবুকে তসলিমা লেখেন, ‘শেখ হাসিনা আমার বিরাট অর্থনৈতিক ক্ষতি করেছেন। আমাকে তিনি আমার পৈতৃক সম্পত্তির কানাকড়িও পেতে দেননি। সম্পত্তি পেতে হলে আমাকে দেশে উপস্থিত থাকতে হবে, অথবা দেশের কাউকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিতে হবে, যে আমার হয়ে সম্পত্তি বুঝে নেবে অথবা বিক্রি করবে। আমাকে যেহেতু শেখ হাসিনা দেশে ঢুকতে দেননি, আমি আমার বোনকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়েছিলাম। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ডকুমেন্ট বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে সত্যায়িত করতে হয়। শেখ হাসিনার নির্দেশে বা ভয়ে দূতাবাসের কেউ আমার পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সত্যায়িত করেননি। শেখ হাসিনাকে মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় এই মর্মে একাধিক খোলা চিঠি লেখার পরও তিনি সাড়া দেননি। অবিশ্বাস্যরকম নিষ্ঠুর ছিলেন তিনি’।
তসলিমা লেখেন, ‘কী কারণে তিনি আমার আত্মজীবনীর প্রথম খণ্ড আমার মেয়েবেলা নিষিদ্ধ করেছিলেন, তা তিনিই জানেন। অদ্ভুত হিংসে, ঘৃণা, আর দম্ভে তিনি আচ্ছন্ন থাকতেন। তার ভয়ে প্রকাশকরা বাংলাদেশে আমার বই প্রকাশ করতেন না। তিনি নিষিদ্ধ করবেন আমার বই, আমার বই প্রকাশ করলে প্রকাশকদের হেনস্তা করবেন তিনি, এই ভয় ছিল প্রকাশকদের’।
নির্বাসিত এই লেখিকার ভাষায়, ‘কী ক্ষতি আমি তার করেছিলাম? কিছুই না। বরং তার পক্ষে কথা বলেছি বহুবার। তিনি নির্বাচনে জিতুন, তিনি বাহাত্তরের সংবিধান ফিরিয়ে আনুন, এমন আশা ব্যক্ত করেছি বহুবার। খালেদা জিয়া যাকে অন্যায়ভাবে দণ্ড দিয়েছিলেন, তার প্রতি বিরোধী দলের নেত্রী হিসেবে তার সহমর্মিতা থাকার কথা, অথচ তিনি ছিলেন একই রকম ভিনডিকটিভ’।
হাসিনা অসম্ভব স্বার্থপর ছিলেন দাবি করে তসলিমা লিখেন, ‘তিনি (হাসিনা) নিজের বাবা নিয়ে কত যে হাহাকার করতেন, অথচ অন্যের বাবাকে তিনি দু’পয়সার মূল্য দিতেন না। যেন তার বাবাই বাবা, অন্যের বাবারা বাবা নয়। অসম্ভব স্বার্থান্ধ মানুষ ছিলেন। আমার বাবা যখন মৃত্যুশয্যায়, আমি দেশে ফেরার জন্য আকুল ছিলাম, বাবাকে একবার শেষবারের মতো দেখতে চেয়েছিলাম, তাকে শতবার অনুরোধ করেছিলাম যেন আমাকে দেশে ফিরতে বাধা না দেন, তিনি বাধা দিয়েছিলেন, তিনি আমার অনুরোধের দিকে ফিরেও তাকাননি, আমাকে দেশে ফিরতে দেননি। আত্মম্ভরিতা শেখ হাসিনাকে খুব হীন এবং নিচ বানিয়েছিল’।
আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিয়ে তসলিমা লেখেন, ‘তার (হাসিনার) হীনতা আর নিচতার প্রতিশোধ আমি কিন্তু নিচ্ছি না। আমি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, সমর্থকদের ওপর যে নির্যাতন চালাচ্ছে ইউনূস সরকার, তার প্রতিবাদ করছি। আমি বারবার বলছি, সামনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যেন অংশগ্রহণ করতে পারে, দেশের এই সংকটকালে স্বাধীনতার শত্রুদের প্রতিহত করতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিরা যেন জোট বাঁধে, যেন নির্বাচনে জেতে’।