সাবেক ডিআইজি বাতেনের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দ, ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

রাসেল আহমদ, মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ)
প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৬:৫৪ পিএম

মো. আব্দুল বাতেন
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) মো. আব্দুল বাতেনের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিব দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে সুনামগঞ্জ এলাকায় ১০০ শতকের অধিক জমি জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া অস্থাবর সম্পদ মধ্যে ৪টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ৪ কোটি ৩৯ লাখ ৩৭ হাজার ৭৯৭ টাকা ও এনআরবিসি ব্যাংকের একটি হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) মো. আব্দুল বাতেন ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎপূর্বক নিজ নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেছেন।
আব্দুল বাতেন ও তার পরিবারের সদস্যগণ তাদের মালিকানাধীন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন, যা করতে পারলে অত্র অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতায় মামলা রুজু, আদালতে চার্জশিট দাখিল, আদালত কর্তৃক বিচার শেষে সাজার অংশ হিসেবে অপরাধলব্ধ আয় হতে অর্জিত সম্পত্তি সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্তকরণসহ সকল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে।
তাই অত্র অনুসন্ধান শেষে মামলা রুজু ও তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিলের পর আদালত কর্তৃক বিচার শেষে সরকারের অনুকূলে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের সুবিধার্থে সুষ্ঠু অনুসন্ধান ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার স্থাবর সম্পত্তিসমূহ ক্রোক ও অস্থাবর সম্পত্তিসমূহ অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে রংপুর বেগম রোকয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার সময় দায়িত্বে থাকায় রংপুর রেঞ্জের উপপুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি), মো. আব্দুল বাতেনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। ডিআইজি বাতেনের বাড়ি সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার দাতিয়াপাড়া গ্রামে।
স্থানীয় লোকজন জানান, পুলিশ সুপার হিসেবে ২০০৯ সালে গাজীপুর জেলায় পদায়নের পর থেকেই নিজ এলাকায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছেন আব্দুল বাতেন। তার ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে স্বজনরা চোরাকারবার, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। এছাড়া তার পরিবার ও স্বজনদের অপরাধের কেউ বিরোধিতা করলে তাকে মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ রয়েছে বাতেনের বিরুদ্ধে। বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পুলিশি ক্ষমতা, ভোটারদের ব্যাপক ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ টাকার বিনিময়ে নিজের বড় ভাই আব্দুর রাজ্জাককে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী করেন আব্দুল বাতেন।
এছাড়া একটি বিশেষ সূত্র জানিয়েছে, দেশের একটি অর্থনৈতিক গোয়েন্দা সংস্থার অনুসন্ধানে পাওয়া জঙ্গী অর্থায়নের জন্য সন্দেহভাজন মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক এনজিও কাতার চ্যারিটির শত শত কোটি টাকার লেনদেন ডিআইজি বাতেনের নির্দেশনা অনুযায়ী হয়ে আসছিল। ২০১৬ সালে 'কাতার চ্যারিটেবল সোসাইটি' নামের এনজিওটি জঙ্গী অর্থায়নে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠা মাত্রই ডিআইজি বাতেন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের যোগসাজশে সংস্থার নামপরিবর্তন করে 'কাতার চ্যারিটি বাংলাদেশ' নামে নতুন নিবন্ধন ও কার্যক্রম চালানোর অনুমতি নেন।
এসময় কাতার চ্যারিটির অর্থায়নে নিজের বাবার নামে স্থাপিত একটি স্কুল ভবন উদ্বোধন করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকে নিজ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান। এ অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিল কাতার চ্যারিটি।
আরো পড়ুন: মধ্যনগরে সাবেক ডিআইজি বাতেনের অবৈধ পশুর হাট স্থানান্তরের দাবিতে মানববন্ধন