অভিষেক উপাখ্যান...

কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

ছবি: সংগৃহীত
ছবি মুক্তির সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদ। বছরের সেরা ছবিগুলো প্রতিযোগিতায় আসে ঈদে। বড় বড় প্রডাকশন হাউস নিজেদের সেরা ছবি নিয়ে মাঠে নামে। জনপ্রিয় তারকারা অবতীর্ণ হন লড়াইয়ে। নির্মাতারা নতুন শিল্পীদের অভিষেকের জন্যও বেছে নেন ঈদ। ঈদের ছবিকে ঘিরে শোবিজের অনেক নায়কেরই বড় পর্দায় অভিষেক হয়েছে। এই প্রতিবেদনে তাদের অভিষেকের গল্প শোনাচ্ছেন মেলা প্রতিবেদক
বাপ্পারাজ
ছেলে বাপ্পাকে অভিষেকের জন্য নায়করাজ রাজ্জাক বেছে নিয়েছিলেন ১৯৮৬ সালের ঈদকে। নায়করাজ একটা ঝুঁকিও নিয়েছিলেন। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত ‘চাপাডাঙার বউ’কে সেলুলয়েডে রূপ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন নায়করাজ। আর গল্পের কেন্দ্রীয় পুরুষ চরিত্রটি তুলে দেন নবাগত বাপ্পারাজের হাতে। বাপ্পাকে রুপালি পর্দায় দর্শকদের কাছে গ্রহণযোগ্য করার জন্য দুই শক্তিমান পারফরমার শাবানা ও এ টি এম শামসুজ্জামান দুটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন। সবার প্রাণবন্ত অভিনয়ের জোরে বাপ্পা পার হয়ে যান দর্শকদের কঠিন বৈতরণী। সুপারহিট সফলতা লাভ করে ‘চাপাডাঙার বউ’। বাপ্পারাজের এই রাজকীয় অভিষেক তৃপ্ত করে ছবির পরিচালক রাজ্জাককে। বাবা হিসেবেও তার মুখে ফোটে বিজয়ের হাসি। জানিয়ে রাখা যেতে পারে, চিত্রনায়িকা অরুণা বিশ্বাসেরও অভিষেক হয়েছিল ‘চাপাডাঙার বউ’তে।
রুবেল
১৯৮৬ সালের ঈদ ছিল দর্শকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতার। এই ঈদে সোহেল রানার ছোট ভাই রুবেল নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। সেই আত্মপ্রকাশ যেনতেন নয়, ছিল বর্ণাঢ্য। শহীদুল ইসলাম খোকন পরিচালিত ‘লড়াকু’ ব্যবসায় নতুন নজির সৃষ্টি করে।
মার্শাল আর্ট হিরো হিসেবে রুবেলকে বিপুল সমাদরে গ্রহণ করেন তরুণ দর্শকরা। জন্ম হয় এক নতুন চিত্রতারকার।
‘লড়াকু’ ছবিতে ছিলেন সোহেল রানা, সুচরিতার মতো তারকা। অভিষেক হয় ভিলেন ড্যানি সিডাকের। এ ছবি থেকে রুবেলকে কেন্দ্র করে এক নির্মাতাগোষ্ঠী কাজ শুরু করে।
রুবেলকে নিয়ে একের পর এক ব্যবসা সফল ছবি বক্স অফিসে উপহার দেন এই নির্মাতারা। যুগটার যাত্রা শুরু হয়েছিল ‘লড়াকু’ ছবিতে। একটা ঈদ বদলে দিয়েছিল চেনা সিনেমার চেনা দৃশ্যপট।
সালমান শাহ
১৯৯৩ সালের ঈদুল ফিতর দেখল এক রাজপুত্রের অভূতপূর্ব অভিষেক। এই ঈদ সাক্ষী ইমন থেকে সালমান শাহ হওয়ার এক রূপকথার গল্পের। সোহানুর রহমান সোহানের অনুসন্ধিৎসু চোখ এক সাধারণ তরুণের মধ্যে দেখল সুপারস্টারের ভবিষ্যৎ।
‘কেয়ামত থেকে কেয়ামতে’ মৌসুমীকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকাই সিনেমার একঘেয়ে ভূমিতে আবির্ভূত হলেন সালমান শাহ। প্রথম ছবিতেই লাখো তরুণ-তরুণীর হার্টথ্রবে পরিণত হলেন সালমান। এক ছবি তাকে তারকার তারকায় রূপান্তর ঘটাল।
নিজের সাবলীল অভিনয়, নজরকাড়া উপস্থিতি আর অভিনব ফ্যাশন ভাবনায় সিনেমাপ্রেমীদের চোখে ঘোর লাগিয়ে দেন সালমান।
সিনেমার এই নতুন রাজপুত্রের অভিষেক আজো লোকের মুখে মুখে ফেরে। একটা ঈদ বদলে দিয়েছিল এক তরুণের জীবন।
রিয়াজ
রিয়াজ ছিলেন এয়ারফোর্সে। অন্যরকম জীবন হতে পারত তার। ছিল আকাশে উড়ে বেড়ানোর কথা। সেই রিয়াজ উড়লেন চিত্রাকাশে। ১৯৯৫ সালের ঈদুল ফিতর জন্ম দিল চিত্রনায়ক রিয়াজকে। দেওয়ান নজরুল ছিলেন তারকাবহুল ছবির পরিচালক। জসীম-শাবানাকে নিয়ে তিনি ‘বাংলার নায়ক’ নির্মাণ করেন যথারীতি বড় বাজেটে। ছবিতে একজন তরুণ নায়কের প্রয়োজন মেটান রিয়াজ। কিন্তু সেই নায়কই ধীরে ধীরে এক ঈদ থেকে ছড়িয়ে পড়েন বহু ঈদে। প্রথম ছবিতে ঈদে অভিষেক হওয়ার পর রিয়াজের জীবনে আসে এমন অসংখ্য ঈদ যেখানে হিট-সুপারহিট ছবিতে উৎসব মাতিয়ে রাখেন তরুণদের প্রিয় নায়ক। প্রথম ছবিতে সোনিয়ার মতো মধ্যম সারির নায়িকাকে পাশে পেলেও পরের ছবিগুলোতে দেশের সেরা নায়িকাদের বিপরীতে ঝড় তোলেন রিয়াজ।
ইমন
ছবিতে একঝাঁক শিল্পীর মধ্যে একেবারেই নজর কাড়তে পারেননি ইমন। মূলত ‘দারুচিনি দীপ’ ছিল জাকিয়া বারী মমর অভিষেকের জন্য আলোচিত। তার ভাইয়ের চরিত্রকে আর যাই হোক নায়ক বলা যায় না। ইমনের প্রকৃত অর্থে অভিষেক হলো ২০০৮ সালের ঈদের ছবি ইস্পাহানি আরিফ জাহান পরিচালিত ‘এক বুক ভালোবাসা’তে। কারণ এটাই নায়ক হিসেবে ইমনের প্রথম ছবি। বাণিজ্যিক ছবি বললেও এটাই তার প্রথম। ‘এক বুক ভালোবাসা’ ছবিতে ইমনের নায়িকা ছিলেন অপু বিশ্বাস। এই প্রথম দুজনে একসঙ্গে ছবি করেন। কিন্তু যে পরিমাণ আলোচনা, হইচই ছিল ছবিটিকে ঘিরে, তার ধারেকাছেও ব্যবসা করতে পারেনি ‘এক বুক ভালোবাসা’। কিন্তু এ ছবি থেকে ইমনের ব্যস্ততার শুরু। যে ব্যস্ততার রেশ এখনো আছে।
জায়েদ খান
মহম্মদ হান্নানের ছবি ‘ভালোবাসা ভালোবাসা’য় মূল জুটি ছিলেন রিয়াজ ও শাবনূর। একই ছবিতে এক নতুন জুটি দর্শকদের উপহার দেন পরিচালক। জায়েদ খান ও ফাইজা। ‘ভালোবাসা ভালোবাসা’ ছিল ২০০৬ সালের ঈদের ছবি।
অভিষিক্ত জুটির নায়িকা হারিয়ে গেলেও নায়ক এখনো আছেন টিকে। প্রথম ছবিতে দর্শকদের আশীর্বাদ পাননি জায়েদ। কিন্তু একজন নতুনের জন্য ‘ভালোবাসা ভালোবাসা’ ছিল নজর কাড়ার মতো ছবি।
হয়তো দ্বিতীয় জুটি বলেই তেমনভাবে দর্শকদের নাড়া দিতে পারেননি জায়েদ। গত দেড় দশকে জায়েদ নায়ক হিসেবে মজবুত অবস্থান তৈরি করতে না পারলেও নেতা হিসেবে তিনি অনেকখানি এগিয়ে ছিলেন।
সিয়াম
নির্মাতা রায়হান রাফি শুধু নিজেরই অভিষেক ঘটাননি ঈদুল ফিতরে, একজন নতুন চিত্রনায়ককেও দেশবাসীকে ঈদ উপহার দেন।
‘পোড়া মন টু’তে টেলিভিশনের তরুণ দর্শকদের পছন্দের তরুণ অভিনেতা সিয়াম আহমেদের আলোচিত অভিষেক হয়।
সুপারহিট ছবি ‘পোড়া মন’র সিক্যুয়েলে সিয়ামের অভিষেকের জন্য প্রতীক্ষার প্রহর গুনেছিলেন সিনেমাপ্রেমীরা। কারণটাও খুব স্বাভাবিক। সিনেমায় তীব্র নায়ক সংকট।
টেলিভিশন থেকে নায়ক আমদানি করে নায়ক সংকটের সমাধান করা হয়। সিয়ামও এভাবেই নাটক করে পরিপক্ব হয়ে নাচগানের অভিনেতা হয়েছেন।
তিনি পাশে পেয়েছিলেন ‘নূরজাহান’ খ্যাত পূজা চেরীকে। সিয়াম-পূজা এক ফ্রেশ জুটি। ২০১৮ সালের ঈদে সিয়ামের অভিষেক ছিল অর্থবহ। এরপরই ইন্ডাস্ট্রি পায় সিয়ামের একের পর এক ব্যবসা সফল ছবি।