শ্রমিক নেতা শহিদুল হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত চায় মার্কিন প্রতিনিধি দল
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৩, ০২:২৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরের শ্রমিক নেতা শহিদুল ইসলাম হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়েছে বাংলাদেশ সফররত মার্কিন প্রতিনিধি দল।
বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তাবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়ার নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল সুষ্ঠু তদন্তের বিষয়টি নিয়ে কথা বলে।
বৈঠক শেষে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
প্রতিনিধি দলে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু ও যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (ইউএসএআইডি) এশিয়া ব্যুরোর উপ-সহকারী প্রশাসক অঞ্জলি কৌর উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে তারা কী জানতে চেয়েছেন, তত্ত্বাবধায়ক ইস্যু এসেছে কি না, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট নিয়ে কথা হয়েছে কি না, এসব বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা হয়নি। তারাও জিজ্ঞাসা করেনি। আমারও বলার প্রয়োজন হয়নি।
তিনি বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট নিয়ে কথা হয়েছে। এ আইন নিয়ে আমি আগেও যে কথা বলেছি ঠিক সেই কথাগুলো আমি তাদের আজ বলেছি। আগের মতো বলেছি যে, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশোধিত হবে।
‘উনারা পরিষ্কারভাবেই বলেছেন, সব দেশেই অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে চান। গতকাল আমার সচিব ইউরোপীয় ইউনিয়নের টিমকে যেভাবে বলেছে, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার যে আইনি কাঠামো, সেটা বাংলাদেশে আছে। যে আইনগুলো এ ব্যাপারে সহায়ক, আমি সেগুলোর কথা উল্লেখ করেছি।’
আনিসুল হক আরও বলেন, আমরা যে সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের ক্ষমতা বলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের যে আইনটি করেছি, সেটি সম্বন্ধে কথা বলেছি। এটিও বলেছি গত ৫০ বছরে বাংলাদেশে আইন হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার এই আইনটি করেছে। এছাড়া উপমহাদেশে অন্য কোনো দেশে এ আইন নেই, সেটিও আমি বলেছি।
মন্ত্রী আরও বলেন, তারা কিছু কিছু বিষয়ে বলেছে, সেগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। সেসব বিষয় নিয়ে তারা শুধু এটুকু বলেছেন, সুষ্ঠু তদন্ত হলে সেটা ভালো। আমি তাদের অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে বলেছি, বাংলাদেশ আগের সংস্কৃতি নাই যে, বিচার হবে না। বাংলাদেশে এখন যে কোনো অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে সুষ্ঠু বিচার হয় এবং তাই হবে।
তারা কোন বিষয়ে এ কথা বলেছেন জানতে চাইলে আনিসুল হক বলেন, উনারা শহিদুল ইসলামের (গাজীপুরের শ্রমিক নেতা) মৃত্যু নিয়ে কথা বলেছেন। আমি এ কথাটাই বলেছি। এই পরিপ্রেক্ষিতে জেনারেলি যেটি আলাপ করার সেই আলাপটাই করেছি।
ঈদের আগে গত ২৫ জুলাই শ্রমিকদের বেতন-ভাতা আদায়ে আরও দুই শ্রমিক নেতাকে নিয়ে গাজীপুরের টঙ্গীর প্রিন্স জ্যাকার্ড সোয়েটার লিমিটেডে গিয়েছিলেন শহিদুল ইসলাম। কারখানা থেকে বেরিয়ে কিছু দূর যাওয়ার পরেই তাদের ওপর হামলা করা হয়, তাতে প্রাণ হারান শহিদুল।
‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে কথা হয়নি’ মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে কথা হয়নি বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়ারের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এ কথা জানান তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে কথা হয়নি। এ বিষয়ে তারাও জিজ্ঞেস করেননি, আমারও বলার প্রয়োজন হয়নি। তবে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট নিয়ে কথা হয়েছে। এ বিষয়ে আমি আগেও যে কথা বলেছি, আজও তাদের সেসব কথাই বলেছি। আমি আগে যেমন বলেছিলাম ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট সেপ্টেম্বরের মধ্য সংশোধন হবে, আজও তাদের সে বিষয়টিই প্রকারান্তরে জানিয়েছি।
তিনি আরো বলেন, তারা পরিষ্কারভাবেই বলেছেন যে, তারা নিরপেক্ষ এবং সব দেশেই ফ্রি ফেয়ার অ্যান্ড নিউট্রাল ইলেকশন দেখতে চান। গতকাল (বুধবার) ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলকে আমার সচিব সাহেব যেমন বলেছেন যে, একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে আইনের যে অবকাঠামো প্রয়োজন তা বাংলাদেশে আছে। এসব বিষয়ে আইনের যে বিষয়গুলো সহায়ক আমি সেসব বিষয় মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে উল্লেখ করেছি।
আনিসুল হক বলেন, আমরা যে সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে চিফ ইলেকশন কমিশনার ও ইলেকশন কমিশনার নিয়োগের আইন করেছি, সে বিষয়ে জানিয়েছি। এটাও আমি জানিয়েছি যে, গত ৫০ বছরে বাংলাদেশে এই আইন হয়নি। শেখ হাসিনার সরকার এ আইন করেছে। এ আইন এখন বাংলাদেশ ছাড়া এ উপমহাদেশের অন্য কোথাও নেই।
মন্ত্রী বলেন, কিছু কিছু বিষয় নিয়ে তারা আমাকে বলেছেন। সেসব বিষয় নিয়ে আমরা আলাপ-আলোচনা করেছি। সেসব বিষয় নিয়ে তারা বলেছেন, ‘সুষ্ঠু তদন্ত হলে ভালো।’ আমি তাদের বলেছি, বাংলাদেশে এখন বিচারহীনতার আগের সেই সংস্কৃতি নেই। এখন দেশে সুষ্ঠু তদন্ত এবং সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে সঠিক বিচার হয় এবং তাই হবে। শহিদুল ইসলামের মৃত্যু নিয়ে তারা কথা বলেছিলেন। আমি এই পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণভাবে যেটা আলাপ করার সেটা করেছি। তবে মানবাধিকার বিষয়ে কোনো কথা হয়নি।
