শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতের সামনে যে ৩টি পথ খোলা রয়েছে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৪, ০৪:৫০ পিএম
গত মাসেও যিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে ছিলেন, সেই শেখ হাসিনা ভারতে এসে অবস্থান করছেন তিন সপ্তাহেরও ওপর হয়ে গেল। চরম গোপনীয়তা ও কড়া সুরক্ষার মধ্যে ভারত সরকার আপাতত তার থাকার ব্যবস্থা করেছে ঠিকই– কিন্তু সেখানে কতদিন থাকবে, কিভাবে থাকবে বা তাকে নিয়ে কি ভাবছে ভারত সরকার এখনও চুড়ান্ত কিছুই জানায়নি দেশটি।
এরই মধ্যে গত সপ্তাহে বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনার ‘ডিপ্লোম্যাটিক’ বা অফিশিয়াল পাসপোর্ট প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ভারতে এখন তার অবস্থানের বৈধ ভিত্তিটা কী, সে প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। তবে, দেশটির বিভিন্ন মহল থেকে যা বলা হচ্ছে তা থেকে বোঝা যাচ্ছে এই মুহূর্তে শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতের সামনে কার্যত তিনটি ‘অপশন’ বা পথ খোলা আছে।
প্রথমত, ভারত যেটা করতে পারে সেটা হলো বাংলাদেশের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর জন্য তৃতীয় কোনও দেশে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা, যেখানে তিনি নিরাপদে ও সুরক্ষিত পরিবেশে থাকার নিশ্চয়তা পাবেন। দ্বিতীয়ত শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়ে ভারতেই এখনকার মতো রেখে দেওয়া। আর তৃতীয় যে পথটি হতে পারে তা হলো কিছুদিন পরে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো। তবে এই পথটার হয়তো এখনই বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
এই প্রতিটি অপশনের ভালোমন্দ, গুণাগণ বা সম্ভাব্যতা কী বা কতটা– এই তা নিয়ে আমরা আলোচনার চেষ্টা করবো। অপশনগুলোর মধ্যে ভারতের কাছে অপশন হিসেবে প্রথমটাই যে ‘সেরা’– তা নিয়েও অবশ্য দেশটির কূটনৈতিক বা থিঙ্কট্যাঙ্ক মহলে কোনও সন্দেহ নেই। কারণ, তিনি ভারতেই রয়ে গেলে সেটা আগামী দিনে দিল্লি-ঢাকা সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
ভারতের সর্বশেষ সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার এবারের ভারতে আসাটা ছিল ‘সাময়িক’। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর গত ৬ই অগাস্ট দেশের পার্লামেন্টে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে বিবৃতি দিতে গিয়ে তেমনই ইঙ্গিত করেছিলেন। তার মানে শেখ হাসিনাকে নিরাপদ কোনও তৃতীয় দেশে পাঠানোর চেষ্টা ভারত অব্যাহত রেখেছে। তবে সেটা যদি চট করে সফল না-ও হয়, তাহলে দিল্লিও তাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়ে ‘যতদিন খুশি’ ভারতে রাখবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
সংবাদ মাধ্যম বিবিসি বলছে, শেখ হাসিনার যুক্তরাজ্যে যাওয়ার প্রস্তাব প্রথমেই বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও ইউরোপের দু-একটি ছোটখাটো দেশের সঙ্গে ভারত এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছিল।যদিও এই সব আলোচনায় তেমন একটা অগ্রগতি হয়েছে বলে খবর নেই। এরপর মধ্যপ্রাচ্যের আর একটি প্রভাবশালী দেশ কাতারের সঙ্গেও ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার ব্যাপারে কথাবার্তা শুরু করেছে বলে জানা যাচ্ছে।
এখন প্রশ্ন হলো, যদি তৃতীয় কোনও দেশ শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিতে রাজিও হয়– তাহলে কোন পাসপোর্টে তিনি দিল্লি থেকে সেখানে সফর করবেন? এই সমস্যার সমাধান নিশ্চয় ভারত সরকার ভেবে রেখেছে। তবে, একান্ত প্রয়োজন হলে শেখ হাসিনাকে ভারতেই রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়ে রেখে দিতে যে ভারত যে দ্বিধা করবে না, সেই ইঙ্গিতও কিন্তু দিল্লিতে এখন পাওয়া যাচ্ছে।
