রিকশাচালক বেশে আন্দোলনে ছাত্রলীগ নেতা! ধরা পড়লেন যেভাবে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২৪, ১২:৫০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে রিকশাচালকদের জন্য চলমান আন্দোলনে রিকশাচালক বেশে অংশ নেয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাদের একটি ঘটনা সামনে এসেছে। গত কয়েকদিন ধরে রিকশাচালকদের পক্ষ থেকে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ ও সমাবেশ চলছে। এই আন্দোলনটি হাইকোর্টের আদেশ প্রত্যাহারের পাশাপাশি ১১ দফা দাবি আদায়ের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
তবে, এই আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। রিকশাচালকের বেশে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা, এমন অভিযোগ উঠেছে। তাদের মধ্যে শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরাও রয়েছেন। তারা সবাই মুখ ঢেকে মাস্ক পরে ছদ্মবেশ ধারণ করার চেষ্টা করেন।
রবিবার (২৪ নভেম্বর) আন্দোলনে অংশ নেয়া কয়েকজনকে গণমাধ্যমকর্মীরা ধরতে সক্ষম হন। তাদের মধ্যে এক ছাত্রলীগ নেতার পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, আন্দোলনে অংশ নেয়া ওই ছাত্রলীগ নেতা নিজেকে একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়ে কথা বলছেন। তিনি গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, "আমরা অনেক শিক্ষিত। ছাত্রসমাজ আজকে রিকশা চালাচ্ছে। লোক লজ্জার ভয়ে আমরা বলতে পারি না। আমার পাশে তিতুমীর কলেজের ছাত্র একজন রিকশা চালাচ্ছেন। আমিও রিকশা চালাই।"
সাংবাদিকরা মাস্ক খুলতে বললে প্রথমে তিনি এড়িয়ে যান, তবে পরে বাধ্য হয়ে মাস্ক খুলে নিজের পরিচয় দেন। তিনি জানান, তার নাম আশরাফুল এবং তিনি খিলক্ষেত ৪৩নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। আশরাফুল খাঁন খিলক্ষেতের পাতিরা পশ্চিম পাড়ায় বসবাস করেন এবং তার গ্রামের বাড়ি ময়নসিংহের শেরপুর জেলার গজনী এলাকায়। তিনি আমিরজান কলেজের ছাত্র ছিলেন বলে জানান।
এ ঘটনার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই হতবাক হয়ে যান। স্থানীয় ছাত্রলীগের সূত্রে জানা গেছে, আশরাফুল খাঁন শেরপুরের বাসিন্দা হলেও, কৌশলে ছাত্রলীগের পদ গ্রহণ করেছেন এবং তিনি রাজধানীতে ভাড়া থাকেন।
একই আন্দোলনে আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, অনেক শ্রমিক লীগ নেতাকর্মীও রিকশাচালকদের সাথে ছিলেন। তাদেরও মুখে ছিল মাস্ক। গণমাধ্যমকর্মীদের নজরে আসতেই তারা আড়ালে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে পরিচয় জানতে চাইলে, একজন শ্রমিক লীগ নেতা জানান, আমরা শ্রমিক লীগ। শ্রমিকদের দাবি আদায়ে এখানে এসেছি।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিক রাইহান জানান, প্রথম থেকেই আন্দোলনে অংশ নেওয়া রিকশাচালকদের মুখাবয়ব দেখে সন্দেহ হচ্ছিল। যখন পরিচয় জানতে চাওয়া হয়, তারা মাস্ক খুলতে রাজি হয়নি, এতে সন্দেহ আরো বাড়ে।
