যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করল আওয়ামী লীগ নেতার সমর্থকরা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
মাদারীপুর সদর উপজেলার যুবলীগ নেতা তাইজুল সরদারকে (২৬) কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিলন সরদারের সমর্থকরা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) কালকিনি উপজেলার কালীগঞ্জ বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় আলামিন সরদার (৩৫) নামে আরও একজন আহত হন। তাকে মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর মিলন সরদার এবং তার সমর্থকরা পলাতক রয়েছেন।
নিহত তাইজুল সরদার মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের কুলপদ্দী গ্রামের মৃত রুস্তম সরদারের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি মাদারীপুর সদর উপজেলা যুবলীগের সদস্য ছিলেন।
নিহতের চাচা সোবহান সরদার বলেন, আমার ভাতিজা তাইজুল সরদারকে কালীগঞ্জ বাজারে একা পেয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে মিলন সরদারের লোকজন। তার নির্দেশেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আমরা এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে কালীগঞ্জ বাজারে তাইজুল ও আলামিনকে একা পেয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে এ হামলা চালানো হয়। আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিলন সরদারের নির্দেশে তার সমর্থক জহির চৌকিদার, মহাসিন চৌকিদারসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচ থেকে সাতজন তাদের মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাইজুলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে আহত দুজনকে উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাইজুল সরদারকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত আলামিন সরদারকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার সময় তাইজুলের পরনে বোরকা ছিল বলে জানা গেছে। তবে তিনি কেন বোরকা পরেছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।অভিযুক্ত মিলন সরদারের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলার অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, স্থানীয় সূত্রের দাবি, নিহত তাইজুল সরদারের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা ছিল।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলা হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
