খাস খালে বাঁধ দেয়ার পাঁয়তারা, ট্রলার সরিয়ে নিতে মাইকিং
রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবী ইউনিয়নের কাজিকান্দা খালে ইজারার শর্ত ভেঙে বাঁধ দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অথচ উপজেলা ভূমি অফিসের ইজারা দলিলেই স্পষ্ট উল্লেখ আছে, খালে কোনো কৃত্রিম বাঁধ তৈরি করা যাবে না এবং জনসাধারণের চলাচল ব্যাহত করা যাবে না। এ ঘটনায় চরম বিপাকে পড়েছেন ওই খাল দিয়ে চলাচলকারী ২৫ থেকে ৩০টি বোটের শতাধিক জেলেরা।
স্থানীয় জেলে ও ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নিচকাটা খালের পাশেই কাজিকান্দা নামের এই খালটির অবস্থান। খালটি বেড়িবাঁধের বাইরের অংশে। এই বাইরের খাল দিয়েই প্রতিদিন মৌডুবীর ২৫-৩০টি মাছ ধরার ট্রলার সাগরে যাতায়াত করে। বর্তমানে সাগরে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলায় তাদের সকল বোট ও জাল-পালা বেড়িবাঁধের উপরে রাখা আছে।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানাযায়, গত ২৪ জুন ২০২৫ তারিখে মৌডুবী ইউনিয়নের বাহির হাওলা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ এর সভাপতি মোঃ শামিম ফরাজিকে কাজিকান্দা মৌজার ০৬.০০ একর খাস খালটি খাস আদায়ের জন্য ইজারা দেওয়া হয়।
ভূমি অফিস যে শর্তে শামিম ফরাজিকে ওই খালটি খাস আদায়ের জন্য ইজারা দিয়েছেন, ১- জলমহালটির নিষ্কাশন ও জনসাধারণের পাবলিক ইজমেন্ট ব্যাহত করা যাবে না। ২- জলমহালটিতে কোন কৃত্রিম বাঁধ তৈরি করা যাবে না। এবং ৩- জনসাধারণের স্বার্থ বিঘ্ন ঘটলে এই আদেশ বাতিল বলে গণ্য হবে।
অথচ অভিযোগ উঠেছে, সেই ইজারার দোহাই দিয়েই একটি মহল এলাকায় মাইকিং করে ২০-১০-২৬ তারিখের মধ্যে খালের ভিতরে থাকা সকল বোট সরিয়ে নিতে বলেছে এবং খালটি বাঁধ দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।
কাজিকান্দা এলাকার জেলেরা জানান, খালটি বাঁধ দেওয়া হলে তাদের বোটগুলো ভিতরে আটকা পড়বে। শুকনো মৌসুমে ওই এলাকার প্রায় ১০০ পরিবার এই খালের পানি ব্যবহার করেন, তারাও পানি থেকে বঞ্চিত হবেন।
এ বিষয়ে মৌডুবী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক, বলেন, তিনি বিষয়টি অবগত হয়েছেন এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বলেছেন। জনগণের চলাচলের খাল কোনোভাবেই বাঁধতে দেওয়া হবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।
এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হাসান বলেন,কোনোভাবেই খালে বাঁধ দেওয়া যাবে না। যদি কেউ বাঁধ দেওয়ার চেষ্টা করে তাহলে প্রশাসন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
