‘ষোলকলা পূর্ণ করা হবে’ হুঁশিয়ারি প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অংশ নেওয়ার ঘটনায় আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেছেন, এখন থেকে মাদকের আস্তানাগুলো বাঁশের লাঠি দিয়ে ধ্বংস করা হবে। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকবে এবং ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত ৮টা ১৪ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
পোস্টে ইশরাক হোসেন লেখেন, কিছু গণমাধ্যমের আইনজীবী প্যানেলের মাধ্যমে আইনের বিভিন্ন ধারা ব্যাখ্যা করার সামর্থ্য রয়েছে এবং তাঁর বিশ্বাস, তারা এ বিষয়ে চর্চাও করেছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মাদকবিরোধী অভিযানের পর কয়েকটি গণমাধ্যমের সংবাদ পরিবেশনের ধরন দেখে মনে হচ্ছে, গেন্ডারিয়ার গুমটিঘরে মাদক সরবরাহের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা ছিল।
সমালোচনার জবাবে প্রতিমন্ত্রী লেখেন, ‘ওয়েট অ্যান্ড সি। সব মাদকের আখড়া (যারা হয়তো এই পেপারগুলোকে অর্থায়ন করে) ওগুলা মাটির সাথে মেশানো হবে।’
নিজের অস্ত্র বহনের বিষয়ে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য তাঁর কাছে বৈধ লাইসেন্স করা অস্ত্র ছিল। তবে এখন থেকে মাদকের আস্তানাগুলো বাঁশের লাঠি দিয়ে ধ্বংস করার কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘মাদকবিরোধী সংগ্রামের ১৬ কলা পূর্ণ করা হবে ইনশাআল্লাহ।’
এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুমটিঘর রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন ইশরাক হোসেন। তাঁর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে কয়েকজনকে ধরার নির্দেশ দিচ্ছেন তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীরাও কয়েকজনকে ধরতে এগিয়ে যান। ভিডিওতে একজনকে গুলি করার হুমকি দিতে শোনা যায়। পাশাপাশি, এক দেহরক্ষীকে এক তরুণকে লাথি মারতেও দেখা যায়।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীরা ব্যক্তিগত অস্ত্র হাতে কাউকে আটক করতে কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতো অভিযান পরিচালনা করতে পারেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এদিকে, ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে। রোববার ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
