সিটি নির্বাচন করব, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কাজ শুরু করব: ইশরাক
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। পদত্যাগ ইস্যুতে প্রবাসী সাংবাদিক নাজমুস সাকিবকে অডিও কলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ঢাকায় দল তাঁকে কাজ করার সুযোগ দেবে এবং তিনি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কাজ শুরু করবেন।
একই সাক্ষাৎকারে মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র হাতে থাকার ঘটনা ব্যাখ্যা করে ইশরাক বলেন, ‘আমি তো কারও জমি দখল করতে যাইনি, কারও কাছ থেকে চাঁদা নিতে যাইনি। তো সমস্যা কোথায়?’
রোববার রাতে সাংবাদিক নাজমুস সাকিবের সঙ্গে আলাপকালে সেদিনের গুলির ঘটনা তুলে ধরেন ইশরাক। তাঁর দাবি, ঘটনাস্থলে অবস্থানের সময় ছাদ থেকে দুটি গুলি ছোড়া হয়। এ ছাড়া তাঁরা প্রবেশ করার সময় একসঙ্গে ২৫ থেকে ৩০ জন বেরিয়ে আসেন। ওই সময় তাঁর নিরাপত্তাকর্মীরা চিৎকার-চেঁচামেচি করছিলেন। পরিস্থিতি দেখে কেউ অস্ত্র বের করছেন বলে আশঙ্কা করেছিলেন তিনি। এ কারণেই কোমর থেকে পিস্তল বের করেন বলে জানান ইশরাক।
প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের বিষয়ে ইশরাক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ঢাকায় দল তাঁকে কাজ করার সুযোগ দেবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জাতীয় পর্যায়ে যেন তাঁর কারণে কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়, সেই বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছেন বলে জানান।
ঢাকার নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইশরাক বলেন, রাজধানীর ব্যবস্থাপনা কোনো একক কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হয় না। ঢাকা সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমে আটটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৪০টির বেশি প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে। ফলে নগরীর বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ঢাকার সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন তিনি। রাজধানীকে ঘিরে প্রধানমন্ত্রীরও কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। নিজের কর্মকাণ্ডের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরে ইশরাক দাবি করেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ তাঁর কর্মকাণ্ডকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে রেললাইনের পাশের একটি মাঠের কোণে পলিথিনের ছাউনির ঘরে মাদকবিরোধী অভিযান চালান ইশরাক হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা। ওই ঘটনার একটি ভিডিওতে তাঁকে অস্ত্র হাতে লোকজনকে তাড়া করতে দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।
পরে ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে ইশরাকের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্র থেকে তাঁর নিরাপত্তাঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল। মাদক কারবারিরা ছাদ থেকে আকস্মিক গুলিবর্ষণ করতে পারে, এমন আশঙ্কার কথাও জানানো হয়েছিল বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা এবং জানমালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ইশরাক ও তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন।
ঘটনাটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর রোববার বিকেলে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ডেকে পদত্যাগের নির্দেশনা দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
