নাহিদের উদ্দেশে যে বার্তা দিলেন ইশরাক
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম
ছবি : সংগৃহীত
অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে বিতর্কের মুখে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ইশরাক হোসেন। পদত্যাগের পর এবার বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে উদ্দেশ করে কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে নাহিদ ইসলামের সমালোচনা করেন ইশরাক।
স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘জনাব নাহিদ ইসলামকে একটু হলেও নতুন বন্দোবস্তের ধারক ভাবতাম। আমার প্রসঙ্গে সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে মাদকের মহামারি ও এর প্রতিকার সম্পর্কে শূন্য শতাংশ কথা বলে ১০০ শতাংশ আমার ফৌজদারি অপরাধ খুঁজে বের করার পরামর্শ দিলেন তিনি। তাহলে নাকি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পাবে ইত্যাদি। আগে মাদকের ইস্যুটা অ্যাড্রেস করলে ভালো হতো না? এরপর আমারে ফাঁসিতে ঝুলাইতি। দুঃখিত জেন-জি, কোনো নতুন বন্দোবস্ত এদের মাধ্যমে পাচ্ছেন না।’
একই স্ট্যাটাসে নাম উল্লেখ না করে আরেকজনের কথাও তুলে ধরেন ইশরাক। তিনি লেখেন, ‘নাম বললাম না। তবে আরেকটি ছেলে যার থেকে মানসিক সমস্যা ছাড়া কিছুই আশা করিনি। কোথা থেকে নম্বর নিয়ে ফোন করে বলল ভাই এরপর গেলে আমাকে নিয়েন। এই মাদক আমাদের ধ্বংস করে যাচ্ছে।’
ওই ব্যক্তির বক্তব্য উল্লেখ করে ইশরাক আরও লেখেন, ‘আসলে এই পার্টির ভবিষ্যৎ শূন্য। মাদক নির্মূল করতে গিয়ে ফৌজদারি মামলা খেয়ে আসতে হবে, তাও বৈধ উপায়ে, আইন প্রণেতা হয়ে, পুলিশ সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার পর।’
নাহিদ ইসলামকে উদ্দেশ করে ইশরাক আরও বলেন, ‘নাহিদকে বলবো কোনো ফাঁকফোকর দিয়ে ফৌজদারি অপরাধ বের করে একটা মামলা করে দেন আমার নামে। আমি নিজে গিয়ে সারেন্ডার করে জেলে চলে যাব। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা বলে কথা। এভাবে ঘোড়ার ডিম রাজনীতি এরা করে যাবে। কিছুই পরিবর্তন করতে পারবে না।’
মাদক নির্মূলের বিষয়ে নিজের অবস্থান জানিয়ে ইশরাক লেখেন, ‘অন্য স্টাইলে প্রতিকার করতে হবে। যেমন কুকুর তেমন মুগুর। শীঘ্রই আসিতেছে। বড় ডিলার। বিক্রেতারা অপেক্ষা কর।’
ইশরাকের পদত্যাগ নিয়ে যা বলেছিলেন নাহিদ
এর আগে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের বিষয়ে সরকারের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কেন পদত্যাগ করলেন, তা সরকারকে পরিষ্কার করতে হবে।
নাহিদ ইসলামের ভাষ্য, ‘ইশরাক হোসেনের অপরাধ কী, তাও পরিষ্কার করা হয়নি। ফলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে কারও অপরাধ থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি; সেখানে পদত্যাগ কোনো সমাধান নয়।’
ইশরাকের পদত্যাগ ও মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে দুই নেতার বক্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
