ইশরাক ‘পোষ্য কোটায়’ রাজনীতিতে এসেছেন : নিলোফার চৌধুরী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের বয়স ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কম বলে মন্তব্য করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির সহসম্পাদক নিলোফার চৌধুরী মনি। তাঁর দাবি, বাবা সাদেক হোসেন খোকার পরিচয়ে ‘পোষ্য কোটায়’ রাজনীতিতে এসেছেন ইশরাক। গেন্ডারিয়া এলাকায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান চালানোর ঘটনাটিকেও তিনি অভিজ্ঞতার অভাবজনিত ‘খামখেয়ালি’ সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে অংশ নিয়ে এসব মন্তব্য করেন নিলোফার চৌধুরী মনি।
গেন্ডারিয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিজের নিরাপত্তার জন্য লাইসেন্স করা অস্ত্র সঙ্গে রাখা আইনত ঠিক হলেও একজন সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে এ ধরনের অভিযান চালানো সমীচীন হয়নি। সাধারণ মানুষকে ভীত-সন্ত্রস্ত করা কোনো মন্ত্রীর কাজ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মনি বলেন, ইশরাক হোসেনের বয়স ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা—দুটিই কম। বাবার পরিচয়ে রাজনীতিতে আসার কারণে তাঁর অভিজ্ঞতার ঘাটতি স্পষ্ট বলেও দাবি করেন তিনি।
ইশরাক কোনো কুচক্রী মহল বা ‘বুদ্ধিদাতাদের’ প্ররোচনায় পড়ে চলচ্চিত্রের দৃশ্যের মতো এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন কি না, তা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেন মনি। তাঁর মতে, মাদকসেবীদের পেছনে এভাবে অস্ত্র হাতে সময় ব্যয় না করে মাদকের মূল কারবারি ও সরবরাহকারী চক্রের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান চালানো প্রয়োজন ছিল।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনাকে ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, বিএনপির পদত্যাগের এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
রাজনৈতিক চক্রান্তের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে মনি বলেন, ঢাকা শহরের রাজনীতিতে সাদেক হোসেন খোকার ছেলে হিসেবে ইশরাক একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল সিটি করপোরেশন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহানুভূতিশীল অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। মনি দাবি করেন, বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে এবং আগামী নির্বাচনে সুবিধা নিতে ইশরাককে উসকানি দিয়ে এ পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
দেশে মাদক সমস্যার ভয়াবহতা তুলে ধরে এই সংসদ সদস্য বলেন, মাদক এখন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা। তৃণমূল থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন স্তরে মাদকের বিস্তার ঘটেছে। তবে প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও আমলার নেপথ্য সহযোগিতার কারণে মাদক সমস্যার স্থায়ী সমাধান কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
