পদত্যাগের আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কী কথা হয়েছিল, জানালেন ইশরাক
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র হাতে অংশ নেওয়ার ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়ার পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা করেছিলেন সদ্য পদত্যাগী প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। পদত্যাগের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কী কথা হয়েছিল, তা গণমাধ্যমের কাছে তুলে ধরেছেন তিনি।
ইশরাক হোসেন জানান, ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী তাঁকে দুপুরে সাক্ষাতের সময় দিয়েছিলেন। সেখানে দুজনের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ একান্তে আলোচনা হয়। পরে মন্ত্রিসভার বৈঠকের সময় হয়ে গেলে প্রধানমন্ত্রী সভায় যোগ দিতে যান। তবে আলোচনা শেষ না হওয়ায় ইশরাক পাশের একটি কক্ষে অপেক্ষা করেন।
গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী পরে তাঁকে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ডেকে নেন এবং নির্ধারিত আসনে বসতে বলেন। তিনি বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠক শেষে আবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে দুজন আলোচনা করেন। ওই আলোচনায় পরবর্তী সময়ে কীভাবে কাজ করবেন, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানান ইশরাক।
পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কারণে দলের প্রতি কোনো ক্ষোভ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইশরাক বলেন, দল কখনোই চাইবে না মন্ত্রিসভার কোনো সদস্য পদত্যাগ করুন। তাঁর অভিযোগ, কয়েকটি দৈনিক পত্রিকা পরিকল্পিতভাবে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছে, যারা তাঁকে ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডকেও প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়।
বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে ইশরাক বলেন, তাঁদের অনেকেই সরাসরি ফোন করে তাঁর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিরোধী দলের নেতারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনে তাঁর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তাঁরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
আগামী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ইশরাক বলেন, ২০২০ সাল থেকে তাঁর সঙ্গে কাজ করা মূল নেতাকর্মীরা তাঁকে ওই পদে দেখতে চেয়েছেন এবং এখনো চান।
গত ১৭ অক্টোবর গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে রেললাইনের পাশের একটি মাঠের কোণে পলিথিনের ছাউনির ঘরে মাদকবিরোধী অভিযান চালান ইশরাক হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা। ঘটনাটির ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তাঁকে অস্ত্র হাতে মাদকাসক্ত ও মাদক বিক্রেতাদের তাড়া করতে দেখা যায়। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
পরে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইশরাক দাবি করেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্র থেকে নিরাপত্তাঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল। মাদক কারবারিরা ছাদ থেকে গুলি চালাতে পারে—এমন আশঙ্কায় তিনি ও তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা আত্মরক্ষার জন্য অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন বলে জানান তিনি।
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর রোববার বিকেলে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ডেকে পদত্যাগের নির্দেশনা দিয়েছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তবে তাৎক্ষণিক এক বিবৃতিতে ইশরাক ওই খবরকে মিথ্যা বলে দাবি করেছিলেন।
এরপর সোমবার সকালে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানান। শপথ নেওয়ার প্রায় নয় মাসের মাথায় তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা ছাড়েন ইশরাক হোসেন।
