বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি, নেপথ্যে কারা?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম
ফাইল ছবি
ভারতের মুম্বাইয়ে বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনার পর হামলাকারীদের পরিচয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওবার্তায় হামলার দায় স্বীকারের দাবি করেছেন এক ব্যক্তি। তিনি নিজেকে অনিল পণ্ডিত পরিচয় দিয়ে কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা বলেছেন।
ভিডিওবার্তায় দাবি করা হয়, টাইগার শ্রফ তাদের নির্দেশ মানেননি এবং সালমান খানের সঙ্গে কাজ করছেন বলেই তাকে নিশানা করা হয়েছে। তবে ভিডিওতে দেওয়া দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং আসলে কী?
ভারতের আলোচিত অপরাধী চক্রগুলোর একটি হলো লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং। এর নেতৃত্বে রয়েছেন পাঞ্জাবের গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই। তিনি বর্তমানে গুজরাটের আহমেদাবাদের সবরমতী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি। তবে তদন্তকারী সংস্থাগুলোর দাবি, কারাগারে থেকেও তিনি অপরাধী নেটওয়ার্কের ওপর প্রভাব বজায় রেখেছেন।
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এ চক্রের সদস্য ও সহযোগীদের তৎপরতার অভিযোগ রয়েছে। চাঁদাবাজি, হত্যাকাণ্ড, হত্যাচেষ্টা ও অস্ত্রসংক্রান্ত বিভিন্ন মামলায় বিষ্ণোই এবং তার সহযোগীদের নাম এসেছে। ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) ২০২৩ সালে বিষ্ণোইকে নিয়ে একটি মামলায় অভিযোগপত্র জমা দেয়।
পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, গ্যাংটির নেটওয়ার্ক ভারতের বাইরেও বিস্তৃত। কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে থাকা সহযোগীদের মাধ্যমে অপরাধ পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে, এমন নয়।
সালমান খানের সঙ্গে বিরোধের সূত্রপাত যেভাবে
লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের আলোচনায় আসার অন্যতম কারণ বলিউড তারকা সালমান খানকে বারবার হত্যার হুমকি দেওয়া। ১৯৯৮ সালে রাজস্থানে কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সালমানের সঙ্গে বিষ্ণোইয়ের বিরোধের কথা সামনে আসে। বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে কৃষ্ণসার হরিণ পবিত্র বলে বিবেচিত হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালমানের প্রতি ক্ষোভের কথা বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ করেছে বিষ্ণোই গোষ্ঠী।
২০১৮ সালে আদালতে হাজিরার সময় সালমানকে হত্যার হুমকি দেওয়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। ২০২২ সালে সালমান ও তার বাবা সেলিম খানের উদ্দেশে হুমকিমূলক চিঠি পাঠানোর অভিযোগ ওঠে। ২০২৪ সালের এপ্রিলে মুম্বাইয়ে সালমানের বাসভবনের বাইরে গুলি চালানোর ঘটনায়ও বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
বাবা সিদ্দিকি ও সিধু মুসেওয়ালা হত্যাকাণ্ডে নাম
বিষ্ণোই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি পাঞ্জাবি সংগীতশিল্পী সিধু মুসেওয়ালাকে হত্যা। ২০২২ সালের মে মাসে গুলিতে নিহত হন এই সংগীতশিল্পী। বিষ্ণোইয়ের সহযোগী গোল্ডি ব্রার এ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছিলেন।
২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর মুম্বাইয়ে গুলি করে হত্যা করা হয় মহারাষ্ট্রের সাবেক মন্ত্রী ও এনসিপি নেতা বাবা সিদ্দিকিকে। সালমান খানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এ হত্যাকাণ্ডের পর বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে দায় স্বীকারের দাবি করা হয়। পুলিশও হত্যাকাণ্ডে গ্যাংটির সদস্যদের সংশ্লিষ্টতার কথা জানিয়েছিল।
সূত্র: এনডিটিভি, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
