উত্তরায় মহাসড়ক অবরোধ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বেতন বৃদ্ধির দাবিতে রাজধানীর উত্তরার আজমপুর ও জসিমউদ্দিন এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রচেষ্টায় শ্রমিকরা মহাসড়কের একাংশ ছেড়ে দিলেও যানজটের কারণে চলাচল স্বাভাবিক হতে সময় লাগছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ১১টার পর শত শত শ্রমিক মহাসড়কে অবস্থান নিলে দুই পাশের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, গণপরিবহনের যাত্রী ও পথচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দক্ষিণখান ও উত্তরখান এলাকার পোশাকশ্রমিকেরা গত দুই দিন ধরেও মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। এর ধারাবাহিকতায় বুধবারও তাঁরা সড়কে অবস্থান নেন। আন্দোলনকারীদের অনেকের মাথায় লাল ব্যাজ এবং কারও কারও হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায়।
বেলা ১১টার দিকে উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ঈশা খাঁ এভিনিউ হয়ে একদল শ্রমিক জসিমউদ্দিন এলাকায় এসে অবস্থান নেন। এ সময় তাঁরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন বাড়ানোর দাবিতে তাঁরা আন্দোলনে নেমেছেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিকেরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বেতন বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেও তাঁদের আর্থিক সংকটের সমাধান হয়নি। বর্তমান বাজারদরে সীমিত আয়ে পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই দাবি আদায়ে তাঁরা রাজপথে নেমেছেন।
মহাসড়ক অবরোধের কারণে বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। যানজট ছড়িয়ে পড়ে উত্তরার বিভিন্ন সংযোগ সড়কেও। এতে অনেক যাত্রী নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি। দীর্ঘ সময় বাসে আটকে থাকার পর কেউ কেউ নেমে হেঁটেই গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন।
যানজটে আটকে পড়া যাত্রী হাসান হাবিবুল্লাহ বলেন, সকালে জরুরি কাজে বের হয়ে সড়কে শ্রমিকদের অবরোধের কারণে আটকে পড়েন তিনি। দীর্ঘ সময় বাসে অপেক্ষার পর শেষ পর্যন্ত হেঁটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
পথচারী ও গণপরিবহনের যাত্রীদের অভিযোগ, মহাসড়ক অবরোধের কারণে বিকল্প পথেও স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা যাচ্ছে না। সংযোগ সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় সেখানেও যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ফলে অল্প দূরত্ব অতিক্রম করতেও দীর্ঘ সময় লাগছে।
সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী, বেলা ১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুরোধে আন্দোলনরত শ্রমিকেরা মহাসড়কের একাংশ ছেড়ে দিতে সম্মত হন। এরপর অবরোধে আটকে পড়া অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহনগুলো ধীরগতিতে চলাচল শুরু করে।
এ বিষয়ে উত্তরা পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোর্শেদ আলম গণমাধ্যমকে বলেন, মহাসড়কে যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রাখতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে সতর্কতার সঙ্গে আলোচনা চলছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
