নিরাপদ অভিবাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় পুরস্কার দিল বিএনডব্লিউএলএ
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি (বিএনডব্লিউএলএ)-এর আয়োজনে অভিবাসী কর্মীদের অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রাপ্তি বিষয়ে সাংবাদিকদের তথ্যবহুল ও অনুসন্ধানী সংবাদ ও প্রতিবেদনের জন্য ‘মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ প্রদান করা হয়েছে।
রোববার ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে সুইজারল্যান্ড সরকারের অর্থায়নে এবং হেলভেটাস বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়িত ‘স্ট্রেনদেনড অ্যান্ড ইনফর্মেটিভ মাইগ্রেশন সিস্টেমস (সিমস II)’ প্রকল্পের অ্যাক্সেস টু জাস্টিস কার্যক্রমের আওতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি (বিএনডব্লিউএলএ)-এর সভাপতি অ্যাডভোকেট সীমা জহুর। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের পরিচালক মো. আশরাফুল হক। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ী সাংবাদিকদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমেদুল হক।

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ওপর প্রশিক্ষণ শেষে দেড় মাসব্যাপী সংবাদ প্রকাশের একটি উদ্যোগের মাধ্যমে এই কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়। জমাকৃত ১৭টি প্রতিবেদনের মধ্য থেকে ৪টি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিকেরা হলেন- বাংলা স্ট্রিমের স্টাফ রিপোর্টার তৌফিক হাসান, চ্যানেল আইয়ের নিজস্ব প্রতিবেদক রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ, সমকালের জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক মো. শাহেরীন আরাফাত এবং বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের মাছুম কামাল।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে এ ধরনের উদ্যোগের জন্য ‘বিএনডব্লিউএলএ’কে সাধুবাদ ও পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, সরকারের পরিকল্পনা থাকে সংখ্যাগতভাবে এত লোককে বিদেশে পাঠাতে হবে। বর্তমান সরকারেরও তেমন টার্গেট রয়েছে। তবে এর সঙ্গে গন্তব্য দেশের ঝুঁকি যাচাই, দক্ষতা উন্নয়ন, ভাষাশিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, মন্ত্রণালয়ে কোনো গবেষণা সেল নেই। দৈনন্দিন সমসাময়িক ইস্যুতে এত ব্যস্ততা থাকে যে, গবেষণার দিকে নজর দেওয়ার সুযোগ হয় না। এ প্রসঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের তথ্যবহুল, অধিকতর ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং ও গবেষণামূলক প্রতিবেদন তৈরি ও প্রকাশের প্রতি গুরুত্ব প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০২৬-এর জুরি বোর্ডের সদস্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব কাজী আবুল কালাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইফুল আলম চৌধুরী ও চ্যানেল আইয়ের প্রধান বার্তা সম্পাদক মাশরুর জামান।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন বিএমইটি পরিচালক নাজমুল ইসলাম সরকার, বাংলাদেশ আইন সহায়তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রিফাত আরা সুলতানা, হেলভেটাস বাংলাদেশের প্রকল্প সমন্বয়কারী (সিমস) সাজ্জিদ আহমেদ প্রমুখ।
অতিথিবৃন্দ তাঁদের আলোচনায় উল্লেখ করেন যে, অভিবাসী কর্মীরা বাংলাদেশ এবং গন্তব্য দেশ, উভয় স্থানেই প্রতিনিয়ত নানাবিধ গুরুতর প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে প্রতারণা, শোষণ এবং আইনি ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরা নানাভাবে বাধাগ্রস্ত হন। অতিথিবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে নিরাপদ অভিবাসন, অভিবাসী কর্মীদের অধিকার ও ন্যায়বিচার বিষয়ে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রমাণভিত্তিক ও নৈতিক সাংবাদিকতা এবং অধিকতর অনুসন্ধানী ও গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন তৈরি অব্যাহত রাখার প্রতি গুরুত্ব প্রদান করেন।
