‘নালার সংস্কারকাজ করিয়ে ২০-৫০ হাজার টাকা নেন নয়নের অনুসারীরা’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের মাছের আড়ত থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে আদাবর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নয়ন হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাঁর গ্রেপ্তারের পর আদাবর এলাকায় চাঁদাবাজি, জোর করে কাজ পাইয়ে দেওয়া ও বাড়ি দখলচেষ্টার মতো নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নয়ন ও তাঁর অনুসারীদের চাপে পড়ে ভবনমালিকদের অতিরিক্ত টাকা দিয়ে নালার সংস্কারকাজ করাতে হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের সবকিছু এখনো তদন্তাধীন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ডিবি পুলিশ নয়ন হোসেনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায়। এরপর আদাবরের মনসুরাবাদ হাউজিং এলাকায় খোঁজ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে তাঁর ও অনুসারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া যায়।
বর্তমানে মনসুরাবাদ হাউজিংয়ের ৬ নম্বর সড়কে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় সড়ক সংস্কারের কাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির ৫০ থেকে ৬০টি ভবনের পানি ও পয়োনিষ্কাশন লাইনের কাজ নিজেদের লোক দিয়ে করাতে ভবনমালিকদের বাধ্য করেছেন নয়নের অনুসারীরা। কাজ শেষে বাড়িপ্রতি ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত বিল দাবি ও আদায় করা হয়েছে।
সড়কটির ৬৯ ও ৭০ নম্বর বাড়ির নালার কাজের জন্য ৫৫ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ভবনমালিক স্বনামধন্য মিস্ত্রি দিয়ে কাজ করাতে চাইলে চার থেকে পাঁচজন ব্যক্তি নিজেদের ছাত্রদল নেতা নয়নের লোক পরিচয় দিয়ে চাপ সৃষ্টি করেন। অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়।
একই সড়কের আরেকটি ভবনের নিরাপত্তাকর্মী জানান, অন্য মিস্ত্রি দিয়ে যে কাজ ১০ হাজার টাকায় করা সম্ভব ছিল, সেই কাজের জন্য তিন ধাপে জোর করে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, আদাবর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নয়ন হোসেন ও সদস্যসচিব মনিরুজ্জামান মজুমদার জসিমের নেতৃত্বে এলাকায় এমব্রয়ডারি কারখানা, ফুটপাতের দোকান এবং নির্মাণাধীন ভবন থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হতো।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আদাবর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম বাবুলের একটি বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগও ওঠে নয়ন ও জসিমের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। বাড়িটি দখল করতে না পেরে সেখানে ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে ছাত্রদলের একাধিক স্থানীয় নেতাকে হামলার সময় ঘটনাস্থলে দেখা গেছে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: ‘ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা আসবে’ বলে মাইকিং, দুইজন গ্রেপ্তার
তবে চাঁদাবাজি ও দখলচেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মনিরুজ্জামান জসিম। তাঁর দাবি, বিষয়টি মীমাংসার জন্য তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এর আগে গত মাসে মিরপুরের একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলার ঘটনায় ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের আওতাধীন আদাবর থানা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক আকরাম আহমেদ দাবি করেন, নয়নকে আদাবরের ঘটনার কথা বলে আটক করা হলেও পরে কারওয়ান বাজারের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাঁর মতে, এটি একটি চক্রান্ত।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও সন্দেহের ভিত্তিতেই নয়ন হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদাবর এলাকায় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য চাঁদাবাজির অভিযোগও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
