প্রথম বিয়ের কথা জেনে যাওয়ায় দ্বিতীয় স্ত্রীকে ঘুরতে নিয়ে হত্যা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী খালে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া জান্নাতুল ফেরদৌস (২৮) নামে এক নারীর হত্যার রহস্য উদঘাটনের কথা জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সাম্পান নৌকাটিও জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেফতাররা হলেন- মো. মুসলিম উদ্দিন (৩৯) ও শুকুর আহম্মদ (২৪)। তাদের মধ্যে মুসলিম উদ্দিন গত ১৪ অক্টোবর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই। তবে মামলার প্রধান অভিযুক্ত রাজা মিয়া প্রকাশ রাজুসহ অন্যদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২ আগস্ট শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রের লঞ্চঘাট-সংলগ্ন খাল থেকে হাত-পা বাধা ও বস্তাবন্দি অবস্থায় ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে সদরঘাট নৌ-পুলিশ। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি জান্নাতুল ফেরদৌসের বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় তার মা ছায়রা খাতুন বাদী হয়ে কর্ণফুলী থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন করে রাজা মিয়া জান্নাতুলকে বিয়ে করেছিলেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। একপর্যায়ে জান্নাতুলকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় বেড়ানোর কথা বলে জান্নাতুলকে কর্ণফুলী নদীর ব্রিজঘাটা এলাকায় নিয়ে যান রাজা মিয়া। সেখানে আগে থেকেই মুসলিম উদ্দিন, রাজা মিয়ার প্রথম স্ত্রীর ভাই শুকুর আহম্মদ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরেক ব্যক্তি সাম্পান নৌকা নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। পরে তারা জান্নাতুলকে নিয়ে নৌকায় করে শিকলবাহা খালের দিকে যান।
রাত ৮টার পর নৌকায় রাজা মিয়ার সঙ্গে জান্নাতুলের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে খালে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর রাজা মিয়া জান্নাতুলের মুখ চেপে ধরেন এবং রশি দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পরে জান্নাতুলের হাত-পা বেঁধে বস্তাবন্দি করে কালারপোল এলাকায় এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেডের পেছনের অংশে শিকলবাহা খালে মরদেহ ফেলে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আব্দুর রহিম তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মুসলিম উদ্দিনকে গ্রেফতার করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুকুর আহম্মদকে গ্রেফতার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সাম্পান নৌকাটি জব্দ করা হয়।
গত ১৪ অক্টোবর মুসলিম উদ্দিন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। গ্রেফতার শুকুর আহম্মদকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
