রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড
‘আমাদের আর কেউ রইল না, কী নিয়ে বেঁচে থাকব’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম
টুপটুপ রিসোর্টে শনিবার সকালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একমাত্র ছেলে নাফিস তেহামী (২৬), একমাত্র মেয়ে ফারিহা কবির (৩২) ও নাতি ফাইজান আহম্মেদ নূর (৫) প্রাণ হারিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
‘আমাদের আর কেউ রইল না, কী নিয়ে বেঁচে থাকব আমরা’—কথাগুলো বলতে বলতে নির্বাক হয়ে যান মো. জিয়াদুল কবির ও কাজল রেখা। কক্সবাজারের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে শনিবার সকালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তাঁদের একমাত্র ছেলে নাফিস তেহামী (২৬), একমাত্র মেয়ে ফারিহা কবির (৩২) ও নাতি ফাইজান আহম্মেদ নূর (৫) প্রাণ হারিয়েছে।
জিয়াদুল কবির বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের কালিপুরা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি অবসরপ্রাপ্ত যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা।
গণমাধ্যমকে জিয়াদুল কবির বলেন, ‘আমার এখন বাইচ্যা থাইক্যা লাভ কী? কী নিয়া আমি বাঁচমু? সবতো আমার শেষ হয়ে গ্যাছে।’
স্ত্রী কাজল রেখা বলেন, ‘ছেলে, মেয়ে, নাতি সব শ্যাষ অইয়া গ্যাছে, আমরা আর দুনিয়ায় বাইচ্যা থাইক্যা কী করমু। ও আল্লাহ, আমাদেরও এখন নিয়া যাও।’
মেয়ে ফারিহা কবিরের স্বামী নূর আলমও কান্নাজড়িত কণ্ঠে শোক প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘স্ত্রী, ছেলে, শ্যালক গ্যাছে, আল্লাহ মোরে এহন বাঁচাইয়া রাখছ কেন? ওগো লগে আমারেও নিয়া গ্যালেও বাইচ্যা যাইতাম।’
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পূজার ছুটিতে নূর আলম চুয়াডাঙ্গা থেকে স্ত্রী ফারিহা কবির, ছেলে ফাইজান নূর, শ্যালক নাফিস তেহামী এবং দুই ভায়রার পরিবারের আরও ছয় সদস্যসহ মোট ১০ জনকে নিয়ে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে ওঠেন।
নাফিস তেহামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের পঞ্চম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করে স্নাতকোত্তরে অধ্যয়ন করছিলেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার বোন ও ভগ্নিপতির সঙ্গে ঢাকা থেকে কক্সবাজার বেড়াতে যান নাফিস।
পরদিন শুক্রবার সকালে জরুরি কাজের জন্য স্ত্রী ফারিহা কবির, ছেলে ফাইজান নূর ও শ্যালক নাফিস তেহামীকে রিসোর্টে রেখে চুয়াডাঙ্গায় ফিরে যান নূর আলম। এর পরদিন শনিবার সকালে রিসোর্টে আগুন লাগলে প্রাণ হারান তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও শ্যালক।
আরও পড়ুন: ট্রাক-সিএনজির সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ৫ জনের
এ ঘটনায় জিয়াদুল কবিরের দুই ভায়রার তিন মেয়েও প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁরা হলেন- বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩) এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা (২৭)।
ছেলে, মেয়ে, নাতি ও দুই ভায়রার তিন মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে জিয়াদুল কবির স্ত্রীকে নিয়ে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে বাসযোগে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
এদিকে মালিহা ও নাবিলার মা রোকসানা আক্তার রীনা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘আমার জান নাবিলা ও মালিহা চলে গেছে, ও আল্লাহ আমাদেরও কেন মৃত্যু দাও না। আমাদেরও ওদের সাথে নিয়ে যাও।’
অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, ‘এখন পর্যন্ত দশ জনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, এর মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন সদস্য হতে পারে। তবে ডিএনএ রিপোর্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
