কক্সবাজারে সড়কে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে ডাকাতি
৫০-৬০ যানবাহনে লুটপাট
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৫ পিএম
কক্সবাজারের ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারী সড়কের হিমছড়ি ঢালায় ডাকাতির পর পুলিশের টহল। ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কের হিমছড়ি ঢালায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফা ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে চলন্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রীকে লুটের পর দুপুরে একই স্থানে একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তাসহ একাধিক পথচারীর সর্বস্ব কেড়ে নেয় ডাকাত দল। এ সময় অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহন ডাকাতদের কবলে পড়েছে বলে জানা গেছে। দিনের আলোয় এমন ঘটনায় সড়কটি ব্যবহারকারী যাত্রী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রামু উপজেলার ঈদগড় এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ তারেক সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাওয়ার সময় হিমছড়ি ঢালায় প্রথম ডাকাতির শিকার হন। সেখানে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা ডাকাত দল অটোরিকশাটির গতিরোধ করে তাঁকে জিম্মি করে। এ সময় তাঁর মুঠোফোন, নগদ টাকা ও সঙ্গে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয় তারা। একপর্যায়ে প্রাণ বাঁচাতে চলন্ত অটোরিকশা থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন তারেক।
প্রথম ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর দুপুর আড়াইটার দিকে একই স্থানে আবারও হানা দেয় সশস্ত্র ডাকাত দল। এবার ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংস্থা ‘মুক্তি’র ঈদগড় শাখার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল হাকিমসহ কয়েকজন পথচারীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাদের মুঠোফোন ও নগদ অর্থ লুট করা হয়। পরে দ্রুত পাহাড়ি জঙ্গলে পালিয়ে যায় ডাকাতেরা।
আরও পড়ুন: চুরির নাটক সাজিয়ে নিজের সন্তানকে বিক্রি
ঘটনার খবর পেয়ে ঈদগাঁও থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম সিফাতুল মাজদার জানান, স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতকারী ও বনদস্যু চক্র এ ঘটনায় জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ পাহাড়ি এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছর শুষ্ক ও শীত মৌসুমে ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারী সড়কে ডাকাতদের তৎপরতা বেড়ে যায়। এ সময় পাহাড়ি কলাসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের কেনাবেচা এবং চকরিয়া ও কক্সবাজার থেকে পাইকারি পণ্য আনার কারণে ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থ নিয়ে যাতায়াত বাড়ে। আর এ সুযোগ কাজে লাগায় অপরাধীরা।
প্রকাশ্য দিবালোকে ধারাবাহিক ডাকাতির ঘটনায় পাহাড়বেষ্টিত এ অঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সড়কে যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদারের দাবি জানানো হয়েছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে।
