×

চট্টগ্রাম

আইএসপিআর

সাজেক থেকে ৩ হাজার পর্যটককে উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম

সাজেক থেকে ৩ হাজার পর্যটককে উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী

ছবি: সংগৃহীত

অবরোধ ও সংঘাত পেরিয়ে পর্যটনকেন্দ্র সাজেক থেকে ৩ হাজার পর্যটককে উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার বিকালে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

পুলিশের মতো প্রতিরক্ষা বাহিনীও গোলাগুলির জন্য পাহাড়ি রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটি ফ্রন্টকে (ইউপিডিএফ) দায়ী করেছে। সাজেকে ইউপিডিএফ সমর্থিত দুটি সংগঠনের অবরোধে আটকা পড়েছিলেন পূজার ছুটিতে এই পর্যটনকেন্দ্রে যাওয়া অনেকে। আজ সকালে তাদের উদ্ধার করে আনার সময় উজোবাজার এলাকায় সেনাবাহিনীর ওপর সশস্ত্র একটি দল গুলি চালায় বলে পুলিশ জানিয়েছিল।

আইএসপিআর জানায়, অবরোধের কারণে সাজেক-বাঘাইহাট সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাজেকে ভ্রমণরত প্রায় তিন হাজার পর্যটক আটকা পড়েন। আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে।

মাঝে সংঘাতের ঘটনা ঘটলেও সমন্বিত প্রচেষ্টায় অবরুদ্ধ পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে। পর্যটকদের সবাই অক্ষত রয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে।

সংঘর্ষের জন্য ইউপিডিএফকে দায়ী করে আইএসপিআর বলেছে, স্থানীয় জনগণকে জোর করে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সড়ক অবরোধ করেছিল দলটি। পর্যটকদের সাজেক থেকে সরিয়ে আনার সময় সকাল ১০টার দিকে গাড়িবহর গঙ্গারাম বাজার এলাকায় অবরোধকারীরা আটকে দিয়েছিল। এ সময় সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহল দল অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছিল বলে আইএসপিআর জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তবে আলোচনা চলাকালে ইউপিডিএফের প্ররোচনায় অবরোধকারীরা আকস্মিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে ইট ছুড়তে শুরু করে। তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লাঠিপেটা করে অবরোধকারীদের সরিয়ে দেয়।

এরপর গাড়িবহর এগোতে শুরু করলে বেলা ১১টার দিকে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে ৩০-৪০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে বলে আইএসপিআরের দাবি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ সময় সেনাবাহিনীর টহল দল আত্মরক্ষা ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পাল্টা গুলিবর্ষণ করলে সশস্ত্র ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এর আগে রাঙামাটির পুলিশ সুপারও একই দাবি করেছিলেন। ইউপিডিএফ তখন এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দেয়। তাদের দাবি, সেনাবাহিনী একতরফা গুলি ছুড়েছিল।

ইউপিডিএফ সমর্থিত সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন সংগঠন দুটি সেখানে অবরোধ ডেকেছে। তাদের দাবি হচ্ছে, সাজেক থেকে পাহাড়ি আরেক দল জেএসএসের ‘সশস্ত্র গোষ্ঠী’কে বিতাড়িত করতে হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) নেতৃত্ব দিচ্ছেন জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)। ১৯৯৬ সালে তিনি সরকারের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি করার পর তার বিরোধিতা করে প্রসিত বিকাশ খিসার নেতৃত্বে গঠিত হয় ইউপিডিএফ।

আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর চলমান অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে অনেকটা কোণঠাসা হয়ে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের একটি অংশ পর্যটন এলাকায় অবস্থান নিয়েছে।

আইএসপিআর জানিয়েছে, বর্তমান অবস্থায় সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি রক্ষা, স্থানীয় জনগণ ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেসামরিক প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও সেনাবাহিনীর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড: নজরুল-সুইটির নামে ছড়ানো ভিডিওটি কি আসল?

ফ্যাক্টচেক সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড: নজরুল-সুইটির নামে ছড়ানো ভিডিওটি কি আসল?

দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলায় ২ বাংলাদেশি আহত

দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলায় ২ বাংলাদেশি আহত

রাশিয়ায় বাংলাদেশিদের মৃত্যু ও নিখোঁজ: মরদেহ ফেরত ও মন্ত্রণালয়ের জবাবদিহি দাবি

রাশিয়ায় বাংলাদেশিদের মৃত্যু ও নিখোঁজ: মরদেহ ফেরত ও মন্ত্রণালয়ের জবাবদিহি দাবি

আখাউড়ার পাঁচ পূজামণ্ডপে সংসদ সদস্যের অনুদান

আখাউড়ার পাঁচ পূজামণ্ডপে সংসদ সদস্যের অনুদান

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App