আখাউড়ার পাঁচ পূজামণ্ডপে সংসদ সদস্যের অনুদান
বাদল আহাম্মদ খান, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের পাঁচটি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (আখাউড়া-কসবা) আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান। প্রতিটি মণ্ডপকে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ইউনিয়নের ধরখার, ঘোলখার, মধুপুর, রুটি ও ভাটামাথা গ্রামের পূজামণ্ডপগুলো পরিদর্শন করে আয়োজক কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের হাতে সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে অনুদানের অর্থ তুলে দেন ধরখার ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও রুটি গ্রামের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট কেএম রফিকুল ইসলাম।
এ সময় তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং সবার মধ্যে দুর্গাপূজার আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুদান বিতরণ উপলক্ষে প্রতিটি মণ্ডপে পৃথক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব অনুষ্ঠানে কেএম রফিকুল ইসলাম বলেন, “পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা, সামাজিক শান্তি ও সম্প্রীতি একটি সুন্দর সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি। প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধ অনুসরণ করে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বসবাস করুক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
তিনি আরও বলেন, “হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান--আমরা সবাই অভিন্ন। আমাদের পরিচয়, আমরা সবাই বাংলাদেশি। বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘ধর্ম যার যার, বাংলাদেশ সবার'- এই বার্তা ধারণ করে সবাইকে মিলেমিশে থাকতে হবে। প্রত্যেক ধর্মের মানুষ যেন স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।”
এ সময় বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ, ধরখার ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শেখ জুনায়েদসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
অনুদান পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন পূজামণ্ডপগুলোর আয়োজকেরা। ভাটামাথা গ্রামের ত্রিনয়নী সংঘ আয়োজিত সার্বজনীন দুর্গোৎসবের অন্যতম আয়োজক সুমন সেন এবং রুটি গ্রামের সার্বজনীন দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি কাজল দেবনাথসহ অন্য আয়োজকেরা সংসদ সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁরা বলেন, পূজা আয়োজনের বিপুল ব্যয়ের মধ্যে এই সহায়তা উৎসব উদযাপনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। সংসদ সদস্যের এ উদ্যোগ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আনন্দিত করেছে বলেও জানান তারা।
