দলের বাইরে ২ বছর
জাতীয় দলে খেলে অবসর নিতে চান জাহানারা
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম
জাহানারা আলম। ছবি: সংগৃহীত
প্রায় দুই বছর ধরে বাংলাদেশ জাতীয় দলের বাইরে জাহানারা আলম। মাঝের সময়ে নানা বিতর্ক ও অভিযোগের কারণে আলোচনায় ছিলেন সাবেক এই অধিনায়ক। এবার আবারও দেশের জার্সিতে মাঠে নামতে চান তিনি। শুধু জাতীয় দলে ফেরাই নয়, খেলতে খেলতেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর ইচ্ছা তার। সেই আকাঙ্ক্ষার কথা এরই মধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) জানিয়েছেন ৩৩ বছর বয়সী এই পেসার।
জাহানারার ফেরার ইচ্ছার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিসিবির নারী বিভাগের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু। জাতীয় দলের পাশাপাশি দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটেও খেলতে আগ্রহী জাহানারা। তবে তাকে ফেরানোর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বিসিবি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘হ্যাঁ, জাহানারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। সে জানিয়েছে, আবার ফিরতে চায় এবং খেলতে চায়।’ জাহানারার ইচ্ছার কথা জানিয়ে বিসিবির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘সে বলেছে, “আমি জাতীয় দলে খেলে অবসর নিতে চাই। সে কারণেই নিজেকে এতটা ফিট রেখেছি।”’
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ বাংলাদেশের হয়ে খেলেছিলেন জাহানারা। পরের মাসে মানসিক ক্লান্তির কথা জানিয়ে জাতীয় দল থেকে সাময়িক বিরতি নেন তিনি। তবে পুরোপুরি ক্রিকেট ছেড়ে দেননি। অস্ট্রেলিয়ায় সিডনি ক্রিকেট ক্লাবের হয়েও খেলেছেন। যদিও এরপর বাংলাদেশের জাতীয় দল কিংবা দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেননি তিনি।

অস্ট্রেলিয়ায় থাকাকালে বিসিবির নারী বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন জাহানারা। জাতীয় দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও করেন তিনি। যদিও জ্যোতি সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এসব অভিযোগ ঘিরে দেশের নারী ক্রিকেটে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।
পরে জাহানারার অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন কমিটি গঠন করে বিসিবি। গত ফেব্রুয়ারিতে কমিটি জানায়, চারটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে দুটির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। বাকি দুটি অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ মেলেনি। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে সাবেক নির্বাচক ও নারী দলের ব্যবস্থাপক মঞ্জুরুল ইসলামকে বিসিবির আওতাধীন সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করা হয়।
অতীতের এসব বিতর্কের মধ্যেই জাতীয় দলে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন জাহানারা। তাঁর প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কোনো ধরনের গ্রুপিংয়ে বিশ্বাস করি না। অনেকের সঙ্গে অনেকের ব্যক্তিগত বিরোধ থাকতে পারে। কিন্তু দেশের স্বার্থে এসব একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
অবশ্য জাতীয় দলে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করলেই সরাসরি সুযোগ পাচ্ছেন না জাহানারা। রফিকুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন, তাকে ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। এরপর নির্বাচকেরাই জাতীয় দলে তাঁর জায়গা পাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
বিসিবির এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সামনে মেয়েদের বেশ কয়েকটি ঘরোয়া প্রতিযোগিতা রয়েছে। জাতীয় দলে ফেরার লক্ষ্য নিয়ে কোন প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন, সেটি জাহানারাকেই ঠিক করতে হবে। দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় দলে ফিরতে হলে নিয়মিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই যেতে হবে তাঁকে।
২০১১ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া জাহানারা বাংলাদেশের হয়ে ৫২টি ওয়ানডে ও ৮৩টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। ওয়ানডেতে ৪৮ ও টি-টোয়েন্টিতে ৬০টি মিলিয়ে তাঁর উইকেট ১০৮টি। একসময় বাংলাদেশের পেস আক্রমণের অন্যতম ভরসা ছিলেন তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও সেই জায়গায় ফিরতে পারবেন কি না, তা নির্ভর করবে তাঁর ফিটনেস ও মাঠের পারফরম্যান্সের ওপর।
