সোনারগাঁয়ে গ্যাস বিস্ফোরণ
বাঁচলেন না একই পরিবারের চারজনের কেউ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
অবশেষে মারা গেলেন গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ একই পরিবারের চারজনের সবাই। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরে ঘটনার পাঁচ দিন পর শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সবশেষ রনি মিয়া (১৯) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়।
এর আগে বুধবার ও বৃহস্পতিবার একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীসহ আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ভাই-বোন ও বোনের স্বামী রয়েছেন।
সবশেষ মারা যাওয়া রনি মিয়া বিস্ফোরণের ঘটনাস্থল ছয়তলা ভবনটির তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। বিস্ফোরণে তার শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি শ্বাসনালিও দগ্ধ হয়েছিল। গুরুতর অবস্থায় পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ তার মৃত্যু হয়। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বিস্ফোরণে দগ্ধ রোজিনা আক্তার (৩০) বুধবার বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। পরদিন ভোর ৪টার দিকে মারা যান রোজিনার স্বামী শরীফ হোসেন (৩৪)। একই দিন দুপুর ২টা ২০ মিনিটে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় রোজিনার ছোট ভাই রিয়াজের (২২)। বিস্ফোরণে শরীফ ও রিয়াজের শরীরের ৪০ শতাংশ করে পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি দুজনেরই শ্বাসনালি দগ্ধ হয়েছিল।
এর আগে গত ১০ অক্টোবর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরের সোনাপুর উত্তরপাড়া গ্রামের শাহ আলম মিয়ার ছয়তলা ভবন ইসলাম টাওয়ারের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
গ্যাসের চাপ বাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত কম্প্রেসার লাইনে গ্যাস লিকেজ থেকে এ বিস্ফোরণ ঘটে বলে জানা গেছে। এতে দুই পরিবারের চারজন দগ্ধ হন। বিস্ফোরণের পর দগ্ধ চারজনকে উদ্ধার করে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসক সুলতান মাহমুদ শিকদার জানান, দগ্ধ চারজনের অবস্থাই গুরুতর ছিল। তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও কাউকেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
