ফ্রান্সে ‘কারফিউ’ জারি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩১ এএম
ছবি : সংগৃহীত
দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজধানী প্যারিসের কেন্দ্রীয় অংশসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে রাতের কারফিউ জারি করা হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় জনসমাবেশের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনায় দেশটিতে আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ভাঙচুর ও লুটপাটে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক শ মিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির দাম এবং জনসেবার মান নিয়ে অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন পরে সহিংসতায় রূপ নেয়। এতে ফ্রান্সজুড়ে প্রায় পাঁচ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। বিভিন্ন শহরে গাড়ি ও ভবনে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
প্যারিসের প্লাস দ্য লা রিপাবলিক ও লে আল শপিং এলাকায় স্থানীয় সময় রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর করা হয়েছে। এ ছাড়া মার্সেই, বোর্দো, নিস, লিওঁ ও লিলসহ বিভিন্ন শহরে পরিস্থিতি অনুযায়ী বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু জানিয়েছেন, দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে। তবে সহিংসতার জন্য দায়ীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থাও করবে সরকার। পরিস্থিতির অবনতি হলে জরুরি অবস্থা জারির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।
দাঙ্গায় দুই হাজারের বেশি দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক শ মিলিয়ন ইউরো হতে পারে বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রধান আলাঁ দি ক্রেসেনজো।
সহিংস পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ স্বীকার করেছেন, কয়েকটি শহরে পুলিশ পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল।
এ ঘটনায় তিনি পদত্যাগের প্রস্তাব দিলেও প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো তা প্রত্যাখ্যান করেন। সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পুনরুদ্ধার এখন ফরাসি সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
